BBC navigation

বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাঈদীর ফাঁসির রায়

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 28 ফেব্রুয়ারি, 2013 07:50 GMT 13:50 বাংলাদেশ সময়
রায়ের পর পুলিশ প্রহরায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

রায়ের পর পুলিশ প্রহরায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর জনাকীর্ণ আদালতে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

ট্রাইবুনালের রায়ে বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালে সংঘটিত হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ অন্তত ২০টি মানবতাবিরোধী অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটো অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।

বাংলাদেশে বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে যুদ্ধাপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ারর পর এটি হলো ট্রাইব্যুনালের তৃতীয় রায়।

এদিকে মি. সাঈদীর মুক্তির দাবিতে জামায়াত বৃহস্পতিবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে।

এর আগে গত মাসে ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়ে জামায়াতের সাবেক নেতা আবুল কালাম আজাদ ওরফে বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির আদেশ হয়, যদিও তিনি ফেরার থাকায় রায় ঘোষণা হয় তার অনুপস্থিতিতেই।

এরপর ৫ই ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালের দ্বিতীয় রায়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়।

কিন্তু সেই শাস্তি প্রত্যাখ্যান করে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ সাজা বা ফাঁসির দাবিতে এরপরই শাহবাগ থেকে শুরু হয় দেশব্যাপী এক অভূতপূর্ব নাগরিক আন্দোলন।

শাহবাগের সেই আন্দোলন শুরু হওয়ার পর এটি হচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই প্রথম কোনও রায়।

মামলার ইতিহাস

আদালতে সাঈদী (ফাইল ফটো)

আদালতে সাঈদী (ফাইল ফটো)

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন প্রথম গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সাবেক সংসদ সদস্য মি. সাঈদীকে।

এরপর একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় পরের বছর ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে বৃহস্পতিবার মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি সৈয়দ হায়দার আলী বিবিসিকে বলেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুঠতরাজ, ধর্মান্তরে বাধ্য করা ইত্যাদি মোট ২০টি অভিযোগে বিচারের শুনানি হয়।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সরকার দীর্ঘ ৩২ মাস ধরে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে আটকে রেখেছে এবং তার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে।

বহু প্রতীক্ষিত রায়

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন চলছে গত তিন দশক ধরে।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

তবে জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই এটিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে গঠিত ট্রাইব্যুনাল’ বলে অভিহিত করে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়েছে।

দলটি গত কিছুদিন ধরে এই বিচার বন্ধের দাবিতে সহিংস আন্দোলন করছে।

জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন প্রধান গোলাম আযম এবং বর্তমান আমীর মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে।

একই ধরনের খবর

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻