BBC navigation

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা গেছেন

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 20 মার্চ, 2013 11:15 GMT 17:15 বাংলাদেশ সময়
president

সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো: জিল্লুর রহমান মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর।

তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষনা করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব নেসারউদ্দিন ভুঁইয়া বিবিসি বাংলাকে জানিয়েছেন বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল চারটা পয়তাল্লিশ মিনিটে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তাকে গত ৯ মার্চ অসুস্থ হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয়। ১১ মার্চ সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে।

জিল্লুর রহমানের জন্ম কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরবে ১৯২৯ সালের ৯ মার্চ ।

তোফায়েল আহমেদ

"জিল্লুর রহমান ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সেটা তিনি পেরেছিলেন।"

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি আইন জারির পর ওই বছরের জুলাই মাসের এক রাতে দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গ্রেফতার হলে তিনি আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী এবং আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, "জিল্লুর রহমান ২০০৭ সালের ওয়ান ইলেভেনের পর ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার লক্ষ্য ছিল দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং সেটা তিনি পেরেছিলেন।"

দীর্ঘ ১১ মাস শেখ হাসিনার জেলজীবন এবং চিকিৎসার জন্য আরও প্রায় ৬ মাস দেশের বাইরে অবস্থানকালে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারবাহিকতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে জিল্লুর রহমানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন দলের নেতৃবৃন্দ।

তার আরেক সহকর্মী আওয়াম লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চার বছর কারাগারে ছিলেন জিল্লুর রহমান। জেল থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন। তবে এবার স্ত্রীর মৃত্যুর আঘাত না পেলে আরো অনেক বছর তিনি সুস্থ জীবন যাপন করতে পারতেন বলে আমি মনে করি।"

আমির হোসেন আমু

"বঙ্গবন্ধু হত্যার পর চার বছর কারাগারে ছিলেন জিল্লুর রহমান। জেল থেকে বেরিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন। "

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ২০০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্ব পর্যন্ত তিনি নবম জাতীয় সংসদের সংসদ উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে অনার্সসহ এম.এ. ও এল.এল.বি. ডিগ্রী লাভ করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতিতে সক্রীয় হয়ে ওঠেন।

১৯৪৬ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজের ছাত্র থাকাকালীন সিলেটে গণভোটের কাজ করার সময় তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে আসেন।

১৯৬২ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬৬ এর ৬ দফা আন্দোলন, ৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান সহ প্রতিটি গণআন্দোলনে শেখ মুজিবুর রহমানের পাশে থেকে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

জিল্লুর রহমান রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধে অন্যতম প্রধান সংগঠক। তিনি মুজিবনগর সরকার কর্তৃক পরিচালিত স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র পরিচালনা এবং জয় বাংলা পত্রিকার প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

সেই সময় তৎকালীন পাকিস্তান সরকার তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল করে ২০ বছর কারাদন্ডের সাজা দেয় ও সকল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে।

২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনসহ '৭৩, '৮৬, '৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ জেলার একটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জিল্লুর রহমান।

এর আগে ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।

১৯৭৫ সালে তিনি বাকশালের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তিতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ সালের ২১ অগাস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর মারা যান জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভানেত্রী আইভী রহমান।

তাদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।

ছেলে নাজমুল হাসান জাতীয় সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻