বাংলাদেশ সংলাপ: সুযোগ পেলে মধ্যস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করবে টিআইবি

বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে প্রধান দুটো রাজনৈতিক দলের মধ্যে আলোচনার কোনও বিকল্প নেই।

আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

শনিবার ঢাকার বিয়াম মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে তিনি আরও বলেন, প্রধান দুটো রাজনৈতিক দল চাইলে দেশটির নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে অচলাবস্থা নিরসনে সংস্থাটি মধ্যস্থতার কথা বিবেচনা করবে।

বাংলাদেশ সংলাপের এ পর্বে আলোচক হিসেবে আরও ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অংশীদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমশের এম চৌধুরী এবং ব্যবসায়ী ও লেখক রুবানা হক।

প্রসঙ্গত সম্প্রতি টিআইবি নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি ফর্মূলা প্রকাশ করেছে। তাতে সংস্থাটি প্রধান দু দল বা জোটের সমানসংখ্যক প্রতিনিধি নিয়ে একটি সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে নির্বাচিত বা অনির্বাচিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রস্তাব করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন জুলিয়েট রোজেটি। তিনি জানতে চান নির্বাচন কালীন সরকার প্রসঙ্গে সংলাপ শুরু করতে সরকারি দল কোন আগ্রহ দেখাচ্ছেনা। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাদের এ অবস্থান কতটুকু যৌক্তিক ?

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমশের এম চৌধুরী বলেন, “আগামী নির্বাচন কিভাবে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে সেটাই বড় প্রশ্ন। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হওয়ার সম্ভাবনা নেই।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, “টিআইবির প্রস্তাবে অনেকগুলো ইতিবাচক দিক রয়েছে যেগুলো সবার বিবেচনা যোগ্য। যে কথাটা টিআইবি বলেছে মূলত সেটা হলও নির্দলীয় ব্যবস্থা নিতে হবে যেটি মানুষ চায়। এর ভিত্তিতে আলোচনা হলে একটি সমাধান আসবে। মানুষ সংলাপের জন্য অপেক্ষা করছে।”

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন “বাংলাদেশের প্রধান দুটি দলের মধ্যে সংঘাতময় সম্পর্ক। যার খেসারত দিতে হচ্ছে দেশবাসীকে। এ ধারা চলতে থাকলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ঝুঁকির সম্মুখীন হবে। আমরা ঐকমত্যের কথা বলেছি। দু দলই মাঝে মধ্যে আলোচনার কথা বলছে। সেজন্যই একটা সুযোগ সৃষ্টির জন্য আলোচনার জন্য একটা উপাদান তুলে ধরেছি।”

টিআইবি কি নাগরিক উদ্যোগ নিয়ে কোন মধ্যস্থতায় আগ্রহী ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা নির্ভর করবে যাদের নিয়ে মধ্যস্থতা করার কথা তাদের কোন আগ্রহ থাকলে। আমাদের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া হলে তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের স্কিল বা ক্যাপাসিটি থাকলে আমরা বিবেচনা করতে পারি।”

তবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অংশীদার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল – জাসদের কার্যকরী সভাপতি মইন উদ্দীন খান বাদল এমপি দাবি করেন আগামী নির্বাচনে প্রথম যে দলটি অংশ নিবে সেটি বিএনপি। তবে কিভাবে এটি তিনি নিশ্চিত হলে সেটি তিনি ব্যাখ্যা করেননি।

তিনি বলেন, “সাংবিধানিক সরকার রয়েছে। নির্বাচনে পার্লামেন্ট হয়েছে এবং সেটি বহাল আছে। হাইকোর্ট বলেছে সংসদ চাইলে আগামী দুটি নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু আমি চাইনি। আগামী নির্বাচনে প্রথম যে দলটি অংশ নিবে সেটি হলও বিএনপি।”

এ প্রসঙ্গে একজন দর্শক বলেন, “সরকারের দিকে অনাগ্রহ রয়েছে সংলাপে বসার। বিএনপিরও কিছু সমস্যা আছে, তারা সংসদে আসতে চাচ্ছেনা। তাহলে কিভাবে সংলাপ হবে তারও কোন রূপরেখা দিচ্ছেনা। সেখান থেকে দেখছি দু দলেরই প্রব্লেম আছে।”

ব্যবসায়ী রুবানা হক বলেন, “সর্বদলীয় নির্দলীয় নানা ধরনের বাদানুবাদে ঘুরপাক খাচ্ছি। টিআইবি অন্ততপক্ষে একটি আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছে। আমি এ ইতিবাচক দিকটিকে সাধুবাদ জানাই।”

প্রসঙ্গ ফটিকছড়ি

হুজাইফা বিন সাদেক জানতে চান ফটিকছড়িতে হরতাল বিরোধী মিছিলকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনা কি সন্ত্রাসী হামলা না-কি সরকারের বিরুদ্ধে গণ প্রতিরোধ ?

মি. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এটি গণ প্রতিরোধ নয় বরং এটি দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। মৌলিক জায়গাগুলো আক্রান্ত হচ্ছে ধীরে ধীরে। এ থেকে সংগঠিত অপরাধ রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্র ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে এটা বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, “ঘোষণা দিয়ে একটা বিশেষ শ্রেণীর মানুষকে সম্পৃক্ত করে যেভাবে আক্রমণ হয়েছে সেটা উদ্বেগের বিষয়।”

মি. বাদল বলেন, “ফটিকছড়ি সহ সাম্প্রতিক এসব ঘটনা যুদ্ধাপরাধের বিচারের সংগে সম্পর্কিত। এগুলো নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। সরকার শুরুর দি

কে এসব মোকাবেলায় উদাসীনতা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।”

একজন দর্শক বলেন, “শুধু ফটিকছড়ি নয় যেখানেই ঘটুক এ ধরনের ঘটনা শক্ত হাতে দমন করা উচিত। রাজনৈতিক দলগুলোর যে আচরণ সেটি প্রত্যাশিত নয়।”

আরেকজন দর্শক বলেন, “নৃশংসতার শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। দু দলই গণতন্ত্রের কথা বলে। অথচ এসব ঘটছে। আমরা সাধারণ মানুষ কার দ্বারস্থ হবো ?”

ব্যবসায়ী ও লেখক রুবানা হক বলেন,.“এটিকে গণ প্রতিরোধ বললে ভয়ানক ভুল বলা হবে। তবে একেবারে যে জনসমর্থন নেই তাও তো নয়। কারণ যারা করছেন তারা তো আমাদেরই মতো নাগরিক। তাই কি অবস্থায় এগুলো হচ্ছে সেটা দেখতে হবে। অবশ্যই সহিংসতাকে আমরা কোন মতেই সমর্থন করতে পারিনা।”

তিনি আরও বলেন, “একটির পর একটি কর্মসূচি আসতে থাকলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা নিরাপদ থাকতে পারেনা।”

মি চৌধুরী বলেন, “রাজনৈতিক সহিংসতা বাংলাদেশে নতুন নয়। তবে এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে । মূল কারণ খুঁজে বের করতে হবে। সেটি করতে হলে সবাইকে মিলে একটি রাজনৈতিক পন্থা বের করে আনতে হবে।”

পদ্মা সেতু ও বিশ্বব্যাংক

জয়নব আক্তার প্রশ্ন করেন বিশ্বব্যাংক এসএনসি-নাভালিনকে নিষিদ্ধ করার পর পদ্মা সেতু প্রকল্পে কথিত দুর্নীতির সঙ্গে সরকারের কারও কারও জড়িত থাকার বিষয়টি কি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠলো ?

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “বিশ্বব্যাংকের সিদ্ধান্ত সরকার ও দুর্নীতি দমন কমিশনের উপর চাপ ও একি সাথে সুযোগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্বব্যাংকের কাছে আমরা পদ্মা সেতুর মতো একটি শো-পিস তুলে দিলাম, যেটি তারা দুর্নীতির বিষয় আসলেই দেখাবে।”

তিনি আর ও বলেন, “পদ্মা সেতুতে যেটা হয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ আসলে অস্বীকার করার মানসিকতা আবার বিশ্বব্যাংকের দাদাগিরির প্রমাণ। বিশ্বব্যাংক কি বলতে পারবে তাদের অন্য অনেক প্রকল্পেই কি দুর্নীতি হয়নি ?”

রুবানা হক বলেন, “আমরা দুর্নীতিপরায়ণ এটি আমরা বিশ্বব্যাংককে উপহার দিয়েছি। তবে বিশ্বব্যাংকের আভ্যন্তরীণ দুর্নীতির খবরও বেরিয়েছে। চীনে তাদের বহু প্রকল্প প্রশ্নবিদ্ধ।”

একজন দর্শক বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশনকে বলা হয় দন্ত-বিহীন বাঘ। এটি কি আসলেই দুর্নীতি দমন করতে পারবে ?”

মি.চৌধুরী বলেন, “পদ্মা সেতু বিশ্বের কাছে দুর্নীতির একটি প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের বাস্তবতাকে গ্রহণ করতে হবে। সার্বিকভাবে সবকিছু বিবেচনা করতে হবে।”

মি. বাদল বলেন, “ এটা একটা সার্বভৌম দেশ। কেউ দুর্নীতি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। কিন্তু কারও মাতব্বরি গ্রহণ করার মতো অবস্থা বাংলাদেশের নাই।”

মিশনগুলোকে সক্রিয় করার দাবি

ইশরাত জাহান বিজু জানতে চান বিদেশে কেউ বিপদে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাংলাদেশ মিশনে যাওয়ার সুযোগ পাননা। তাই পরে আরও বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। সেক্ষেত্রে দ্রুত সেবা কিভাবে পেতে পারেন? সমস্যা কোথায় ?

রুবানা হক বলেন, “ গার্মেন্টস আর রেমিটেন্স ছাড়া আমাদের কিছু নেই। তাই মিশনগুলোকে আরও অনেক কাজ করতে হবে।”

ড.ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “কোন সরকারই এ বিষয়ে দীর্ঘমেয়াদী চিন্তা করে কিছু করেননি। যৌথ একটা কৌশল নিরূপণের দরকার। প্রবাসীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা করা দরকার। সরকারের উচিত সেদিকে নজর দেয়া।”

মি. চৌধুরী বলেন, “দূতাবাসগুলো শুধু পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে থাকলে ভালো হতো। অনেক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি থাকে মিশনগুলোতে। তাই সমন্বয়হীনতার একটা বিষয় থাকে।”

মি. বাদল বলেন, “আমাদের কূটনীতিকদের মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। বাইরে যারা আছেন তাদের আদম বিবেচনা না করে মানুষ বিবেচনা করতে হবে। ইতিবাচক কূটনীতির ধারায় অন্তর্ভুক্ত হতে হবে।

Image caption দর্শকদের একাংশ

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমি একটা সহজ কথা জানতে চাই, আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলীয় নেত্রী আসলে কি চান ? উনারা কেন ভাবছেন উনারা এই দেশ এ যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন এবং জনগন তা মেনে নিবে। দুটি দলই দিন দিন জনগন থেকে দুরে চলে যাচ্ছে। উনার অনেক ভাগ্যবান যে টেকসই কোন তৃতীয় শক্তি দেশে তৈরি হচ্ছেনা। কিন্তু কতদিন এমন ভাগ্য থাকবে ?

জুররাত হোসেন, চট্রগ্রাম

আমরা সাধারণ জনগন, সরকারি দল ও বিরোধী দল এবং আরো যে দলগুলো আছে, তাদের কারো কাছে জনগনের কথা বা গনতন্ত্রের চিন্তা করার সময় নাই, শুধু একটা চিন্তা ক্ষমতায় কিভাবে যাওয়া যায় বা কিভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়। এ দুই লড়াইয়ের মধ্যে আমরা সংখ্যালঘুরা প্রতিনিয়ত বলি হচ্ছি। যতক্ষন পর্যন্ত জনগন চিন্তা করতে পারবেনা ততক্ষন পর্যন্ত জনগনের কোনও মঙ্গল হবে না।

অজিত, সংযুক্ত আরব আমিরাত

আমি বুঝতে পারছিনা তারা দুজন কি নিয়ে ভাবছেন- বাংলাদেশ না নিজেকে নিয়ে।

আতাউর রহমান,দিনাজপুর।

Our political leader are not think about the country,they only think their party and how to ascend the power. Al amin, Dhaka

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য