BBC navigation

সাভারে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৭১, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ

সর্বশেষ আপডেট বৃহষ্পতিবার, 25 এপ্রিল, 2013 01:30 GMT 07:30 বাংলাদেশ সময়

বাংলাদেশে বুধবার ধসে পড়া বহুতল কারখানা ও অফিস ভবনের নিচ থেকে এ পর্যন্ত ২৭১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকার কাছে সাভারে ‘রানা প্লাজা’ নামের এই ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনো বহু মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশংকা করা হচ্ছে।

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো এক থেকে দেড় হাজার লোক নিখোঁজ রয়েছেন।

"অনেক মহিলা, পুরুষ তাদের বের করার জন্য আকুতি জানিয়ে চিৎকার করছেন। অনেকে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টের কথা বলছেন। "

সায়েদুল ইসলাম, বিবিসির সংবাদদাতা

সাভারের দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজের সমন্বয় করছেন সরকারের স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

সেখানে দমকল বাহিনী, পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও উদ্ধার কাজে সহায়তা করছেন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির আকবর হোসেন জানান, উদ্ধার কাজে সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে যাতে ভবনের নিচে এখনো কেউ জীবিত অবস্থায় থাকলে তাদের যেন কোন ক্ষতি না হয়।

savar collapse

ধসে পড়া ভবন থেকে উদ্ধার হওয়া এক যুবক

তিনি জানান, নিহতের সংখ্যা প্রতি মূহুর্তে বাড়ছে। আজ সকালে মাত্র দু ঘন্টার ব্যবধানে ২৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার কর্মীরা জীবিত অবস্থায়ও দুজনকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধার করা লাশগুলো সাভারেই এক মাঠে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এরপর লাশ সনাক্ত করে আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। অনেক লাশ বিকৃত হয়ে যাওয়ায় এখনো পর্যন্ত সনাক্ত করা যায়নি।

বিবিসিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর বিবিসিকে বলেছেন, আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে ইমারত নির্মাণের নিয়ম কানুন যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি বলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

তবে একইসাথে মন্ত্রী বলেন, কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

তিনি বলেন, ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে।

"কিছু হরতাল সমর্থক ভবনটির ফাটল ধরা দেয়ালের বিভিন্ন স্তম্ভ এবং গেট ধরে নাড়াচাড়া করেছে...ভবনটি ধসে পড়ার পেছনে সেটাও একটি সম্ভাব্য কারণ হতে পারে"

মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মন্ত্রী জানান, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দমকল বাহিনীর প্রধান বলেন, ভেঙ্গে পড়া ভবনটির অবস্থা এতটাই ভয়াবহ যে বিভিন্ন দিক থেকে কেটে ভেতরে ঢুকতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, উদ্ধারকাজ আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত গড়াতে পারে।

সন্ধ্যার পর ফ্লাড লাইট নিয়ে উদ্ধার চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলেও, ভবন কাটার জন্য ভারী কোন যন্ত্র ব্যবহারের তেমন কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যায়নি।

উদ্ধারকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন সেনা কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেছেন, ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আটকে পড়া মানুষজনের প্রাণহানির ভয় পাচ্ছেন তারা।

তিনি বলেন, তারা চেষ্টা করছেন ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া লোকজনকে যতটা সম্ভব নিরাপদে বের করে আনতে।

"এই মুহুর্তে জীবিতদের বের করে আনার দিকেই আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি"

আলী আহমেদ খান, দমকল বাহিনী প্রধান

আবারো ট্রাজেডির শিকার পোশাক শ্রমিক

ধারণা করা হচ্ছে, আহত নিহতদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক, কারণ ভেঙ্গে পড়া ভবনটিতে বেশ কয়েকটি পোশাক কারখানা ছিল।

বাংলাদেশে ভবন ধসে অথবা অগ্নিকান্ডে কিছুদিন পরপরই পোশাক শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এর আগে ২০০৫ সালের এই মাসেই অর্থাৎ এপ্রিলে সাভারের কাছে স্পেকট্রাম নামে একটি পোশাক কারখানা ধসে ৬০ জনেরও বেশি শ্রমিক মারা গিয়েছিল।

সাভারে বুধবারের দুর্ঘটনার ঘন্টা তিনেক পর আমাদের সংবাদদাতা শাহনাজ পারভীন সেখানে গিয়ে দেখেন উদ্ধারকর্মীরা কিছুক্ষণ পরপরই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে আহত মানুষজনকে বের করে আনছেন।

"হঠাৎ করে বিকট শব্দ এবং কাঁপনে স্থানীয় অনেক মানুষ ভূমিকম্পের আশঙ্কা করেছিলেন। পরে বেরিয়ে দেখেন বিরাট এলাকা ধুলা বলিতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়েছে।"

শাহনাজ পারভীন, বিবিসি বাংলা

উদ্ধারকৃতদের অধিকাংশই মহিলা যারা ঐ ভবনে পোশাক কারখানাগুলোতে কাজ করেন।

ভবনটিতে ফাটল ছিল?

গতকাল (মঙ্গলবার) রানা প্লাজা নামে ভবনটিতে ফাটল চোখে পড়ে, কিন্তু সরকারি কর্মকর্তাদের নিষেধের পরেও আজ তা খোলা রাখা হয়েছিল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে হঠাৎ করে বিকট শব্দ এবং কাঁপনে তারা ভূমিকম্পের আশঙ্কা করেন। পরে বেরিয়ে দেখেন বিরাট এলাকা ধুলা বলিতে ধোঁয়াটে হয়ে পড়েছে।

ঐ ভবনে চারটি গার্মেন্টস কারখানা ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠান ছিল।

স্থানীয় প্রশাসন এবং দমকল বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনীসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর বেশ কয়েকটি টিম উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। বেসরকারী কয়েকটি হাসপাতালও চিকিৎসক পাঠিয়েছে।

ভবন ধসে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সরকার আগামিকাল (বৃহস্পতিবার) জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছে

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্ধার তৎপরতার দিক সার্বক্ষণিক নজর রাখছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর বলা হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻