BBC navigation

নিহতের সংখ্যা ৩৫১, দুই পোশাক কারখানা মালিক ও প্রকৌশলী আটক

সর্বশেষ আপডেট শনিবার, 27 এপ্রিল, 2013 02:33 GMT 08:33 বাংলাদেশ সময়

চাপা পড়া মানুষগুলোর কাছে ওপর থেকে পাইপে অক্সিজেন পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধার কর্মীরা

বাংলাদেশের সাভারে বুধবার ধসে পড়া বহুতল ভবনটি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিনশো জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ঘটনাস্থলে মনিটরিং এর দায়িত্বে থাকা সশস্ত্র বাহিনী নিয়ন্ত্রন কক্ষ।

পুলিশ জানিয়েছে রানা প্লাজার দুটি পোশাক কারখানার মালিক-- মাহবুবুর রহমান তাপস ও বজলুল সামাদ আদনান ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া আটক করা হয়েছে সাভার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ইমতেমাম হোসেন ও সহকারী প্রকৌশলী আলম মিয়াকে।

পাশাপাশি শুক্রবার রাত এ পর্যন্ত তারা আরো ২৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকর্মীরা। বুধবার সাভারে একটি বহুতল ভবন ধ্বসে পড়ার পর আজ চতুর্থদিনের মত সেখানে উদ্ধার কাজ চলছে।

শনিবার সকালে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার মুখার্জী জানান, "যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উদ্ধার অভিযান চলবে"।

বাংলাদেশের ত্রানমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানিয়েছেন আরো ৫৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশে দ্বিতীয় দিনের মত ঢাকা বিভিন্ন স্থানের পোশাক শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা গাড়ি ভাংচুর করে ও পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফাকা গুলি ও কাদানে গ্যাস ছুড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ হয়েছে চট্রগ্রামেও। এর আগে গতকাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ ও আগামীকাল দেশের সব গার্মেন্টস কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

গত বুধবার ধ্বসে যাওয়া ভবন রানা প্লাজা থেকে গত ২৪ ঘন্টায় একশ জনেরও বেশি মানুষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এখন পর্যন্ত ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অনেক জীবিত মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে। এবং তাদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন উদ্ধারকর্মীরা।

এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে ধসে পড়া বহুতল ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি খুপরিতে ২৩ জন জীবিত মানুষের সন্ধান পান উদ্ধারকর্মীরা।

তারা জানিয়েছেন, কংক্রিট কেটে সুড়ঙ্গ করে সেখান থেকে এদের বের করে আনার জন্য এখন মরিয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

"যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যাবে, ততক্ষণ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উদ্ধার অভিযান চলবে"

শ্যামল কুমার মুখার্জী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ঢাকা জেলা

ঘটনাস্থল থেকে বিবিসির সংবাদদাতা রাকিব হাসনাত জানাচ্ছেন, গত রাত থেকে এ নিয়ে এরকম তিনটি পৃথক খুপরির সন্ধান পেলেন উদ্ধার কর্মীরা যেখানে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০ হতে ৫০ জন মানুষ আটকে আছেন বলে তাঁরা ধারণা করছেন।

যে ২৩ জনের অবস্থান শুক্রবার বিকেলে সনাক্ত করা গেছে তাদের কাছে একটি সরু ছিদ্রপথে টর্চলাইট এবং ছোট ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার পাঠানোর চেষ্টা চলছে।

গত বুধবার ঢাকার কাছে সাভারে নয় তলা ভবনটি ধসে পড়ে। বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে এটি এযাবতকালের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। নিহতের সংখ্যা ইতোমধ্যে তিনশো ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু আরও বহু মানুষ এখনো ভবনের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সন্ধ্যে সাতটার দিকে সাভারে উদ্ধার কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাইকে ঘোষণা দেয়া হয় যে আরও বেশ কিছু জীবিত মানুষের সন্ধান মিলেছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। ঘটনাস্থলের আশে-পাশে যত অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে সেগুলো সব রানা প্লাজার সামনে এনে প্রস্তুত রাখতে বলা হয়।

এর আগে আন্তবাহিনী জনসংযোগ দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদিনে তারা ৭০ জনের বেশি মানুষকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছেন।

বিবিসির রাকিব হাসনাত জানান, তানিয়া নামে এক মহিলার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে যার বোন জ্যোৎস্না বেগম ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে আছেন।

তানিয়া জানিয়েছেন, তাঁর বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে বেশ কয়েকবার কথা হয়েছে।

উদ্ধার কাজে নিয়োজিত সেনা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সব জীবিত মানুষকে উদ্ধার করা সম্ভব না হচ্ছে, ততক্ষণ তারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ঝুঁকি নেবেন না।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻