BBC navigation

লাশ গুমের অভিযোগে ভিত্তি নেই : পুলিশ কমিশনার

সর্বশেষ আপডেট বুধবার, 8 মে, 2013 16:22 GMT 22:22 বাংলাদেশ সময়
bangla_police_briefing

ঢাকার পুলিশ কমিশনারের (ডাইনে) সংবাদ সম্মেলন (ছবি : ফোকাসবাংলা)

বাংলাদেশ রোববার রাতে ঢাকার মতিঝিলে হেফাজতে ইসলামের অবস্থান বলপ্রয়োগ করে তুলে দেয়ার পর, বিরোধী জোট আর হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ঐ অভিযানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের মৃতদেহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম করে ফেলেছে।

ফেসবুকের কোনও কোনও পাতায় প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, এই সংখ্যা এক হাজার, আবার কোনও কোনও পাতা বলছে আড়াই হাজার।

তবে এই অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একেবারেই গুজব, যার কোন ভিত্তি নেই। আর হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা বলেছেন, এখনো নিহতদের বিষয়ে তাদের কাছে কোন সুর্নিদিষ্ট তথ্যই নেই, তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

বুধবার একটি সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ বলেন, তাদের লক্ষ্যই ছিল, কাউকে আহত না করে অভিযানটি সম্পন্ন করা।

এ কারণে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের পালিয়ে যাবার জন্যে রাস্তা খোলা রাখা ছিল, তাদের পালিয়ে যাবার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমরা, প্রাণহানি ঘটাতে পারে, এমন কোনও অস্ত্র ব্যবহার করিনি। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই পুরো অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে।’

"প্রাণহানি ঘটাতে পারে, এমন কোনও অস্ত্র আমরা ব্যবহার করিনি। সংবাদকর্মীদের উপস্থিতিতেই পুরো অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছে"

বেনজির আহমেদ, ঢাকার পুলিশ কমিশনার

মি আহমেদ আরও দাবি করেন হাজার হাজার ব্যক্তি নিহত হওয়ার যেসব খবর ছড়ানো হচ্ছে, সেটি পুরোপুরি অসত্য এবং বিশেষ উদ্দেশ্যেই ছড়ানো হচ্ছে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, ‘এখন সবার মোবাইল ফোনেই ক্যামেরা রয়েছে, যা দিয়ে স্থির ছবি বা ভিডিও তোলা যায়। সুতরাং লাশ গুম বা গণহত্যার কথা যে একটি অবাস্তব অভিযোগ, সেটি স্পষ্ট। গণহত্যার কোনও ছবিও কিন্তু কেউ প্রকাশ করেননি।’

মি. আহমেদ আরও বলেন, ‘কেউ আটশো, কেউ দুই হাজার বা তিন হাজার মৃত্যুর কথা বলছেন, কিন্তু যারা সমাবেশেটি ডেকেছেন, তারা কিন্তু কোন দাবি করছেন না। আমাদের প্রশ্ন হলো, এই তালিকা আপনারা কোথায় পেলেন? দয়া করে নামের তালিকা প্রকাশ করুন।’

তিনি বলছেন, আরো ধ্বংসাত্মক ঘটনা ঘটানো হতে পারে, এই আশংকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই অভিযানটি চালানো হয়েছে। তবে এর আগে তাদেরকে (হেফাজতের কর্মীদের) কয়েক দফা হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিল।

পুলিশ কমিশনার বলছেন, এই অভিযানে পর যেসব ছবি ইন্টারনেটে ছড়ানো হচ্ছে, তা কম্পিউটারের ফটোশপের মাধ্যম ছড়ানো হচ্ছে।

রোববার গভীর রাতে চালানো ঐ অভিযানের সময় সেখানে বিবিসি বাংলার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে তারা সাতজনের মৃতদেহ দেখতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আহত বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন সংবাদকর্মীরা। কিন্তু শত শত মৃতদেহ দেখেছেন এমন তথ্য কেউই দিতে পারেননি।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জাফরউল্লাহ খানও বলছেন, পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করতে চান না, কারণ ঘটনাস্থলে তিনি ছিলেন না।

"অনেকে বিক্ষিপ্তভাবে আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, যে তাদের লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার কাজ চলছে"

মাওলানা জাফরউল্লাহ খান, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব

তবে অনেক মৃতদেহ গুম করা হয়েছে বলে তাদের কাছে অনেকে বলেছেন, কিন্তু এখনো এই বিষয়ে তাদের কাছে কোন সুর্নিদিষ্ট তথ্য নেই বলেও তিনি জানান।

মাওলানা জাফরউল্লাহ খান বলেন, জনশ্রুতি আছে হাজার হাজার মানুষ মেরে ফেলা হয়েছে, কেউ কেউ গণহত্যা চালাতে দেখেছেন বলে অভিযোগ করেছেন, তবে এখনো আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।

'অনেকে বিক্ষিপ্তভাবে আমাদের কাছে অনেকে অভিযোগ করেছেন, যে তাদের লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়ার কাজ চলছে', জানান তিনি।

তবে তাদের নাম ঠিকানা এখনো পাওয়া যায়নি। এজন্যে বিভিন্ন জেলায় নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, যাতে সবার নাম ঠিকানা সংগ্রহ করা হয়।

মি. খান বলছেন, সব জেলা থেকে তথ্য পাওয়ার পরেই তারা বলতে পারবেন, আসলে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যাটি ঠিক কত। তবে হাজার হাজার মৃত্যুর অভিযোগ শুনলেও এর কোন ছবি বা ভিডিও তিনিও দেখতে পাননি বলে জানান।

ঢাকা মহানগরীর পুলিশ কমিশনার বেনজির আহমেদ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি তিন হাজার মানুষ মারা গিয়ে থাকেন, তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুরা তো আছেন, তারা কোথায়?’

র‍্যাব ও বিজিবির সাথে এই যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার ১১জনের মৃত্যুর খবর জানালেও, রোববারের সংঘর্ষের পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ ১৫ জনের মৃত্যু এবং ১৫৮ জন আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এছাড়া ঢাকার অন্য হাসপাতালগুলোয় আরো কয়েকজনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম মোট ২২ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

BBC © 2014 বাইরের ইন্টারনেট সাইটের বিষয়বস্তুর জন্য বিবিসি দায়ী নয়

কাসকেডিং স্টাইল শিট (css) ব্যবহার করে এমন একটি ব্রাউজার দিয়ে এই পাতাটি সবচেয়ে ভাল দেখা যাবে৻ আপনার এখনকার ব্রাউজার দিয়ে এই পাতার বিষয়বস্তু আপনি ঠিকই দেখতে পাবেন, তবে সেটা উন্নত মানের হবে না৻ আপনার ব্রাউজারটি আগ্রেড করার কথা বিবেচনা করতে পারেন, কিংবা ব্রাউজারে css চালু কতে পারেন৻