নির্বাচনের ফলাফল সরকারের প্রতি অনাস্থা?

বাঁ থেকে: এম. সাখাওয়াত হোসেন, রাশেদ খান মেনন, আকবরে হোসেন (সঞ্চালক), আসম হান্নান শাহ্‌, রোকসানা খন্দকার
Image caption বাঁ থেকে: এম. সাখাওয়াত হোসেন, রাশেদ খান মেনন, আকবর হোসেন (সঞ্চালক), আসম হান্নান শাহ্‌, রোকসানা খন্দকার

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সিনিয়র নেতা আসম হান্নান শাহ্‌ বলেছেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফলে সরকারের বিরুদ্ধে জনগনের অনাস্থার প্রতিফলন ঘটেছে।

Image caption আসম হান্নান শাহ্‌

তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিকদল ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেছেন, এটি অনাস্থা নয়, সরকারের প্রতি সতর্কবাণী।

যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোট সরকার ক্ষমতায় এসেছে মেয়াদের বাকী সময়ে সেগুলো বাস্তবায়নের ওপর তিনি জোর দিয়েছেন।

রোববার ঢাকায় বাংলা একাডেমী মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানে একজন দর্শকের প্রশ্ন ছিল শনিবার অনুষ্ঠিত চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয় সরকারের প্রতি অনাস্থার প্রতিফলন কি না?

জবাবে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ্‌ বলেন, চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটাররা সরকারের ব্যর্থতার জবাব দিয়ে সরকারের প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছে।

তিনি বলেন, তারা চেষ্টা করেছেন সরকারের ব্যর্থতা দেখিয়ে জনগণের ভোট আদায়ের জন্য এবং এতে তারা সফল হয়েছেন।

Image caption রোকসানা খন্দকার

“ভোটাররা জাতীয় ইস্যুর সমাধান করতে পারেনি বলে সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বিরোধী দলকে জয়যুক্ত করেছে। এ নির্বাচনে স্থানীয় ইস্যুগুলো আলোচিত হয়নি”।

তবে আওয়ামী লীগ-নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের অংশীদার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন এ পরাজয় অনাস্থা নয়, এটি একটি সতর্কবাণী। তবে সরকারকে অবশ্যই একে বিবেচনায় নিতে হবে।

তিনি বলেন, “প্রতিশ্রুতি দিয়ে মহাজোট ভোট নিয়েছিলো সেগুলোকে আরো গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়ন করতে হবে মেয়াদের বাকী সময়ে।”

বাংলাদেশ সংলাপের এই আলোচনায় আরও অংশ নেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম. সাখাওয়াত হোসেন এবং বেসরকারি সংস্থা খান ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রোকসানা খন্দকার।

মি: হোসেন বলেন, “এই নির্বাচনগুলোর দলীয়করণ হয়েছে। দলীয়করণের খেসারত মহাজোট সরকার দিয়েছে। জাতীয় ও রাজনৈতিক সংকটের আঁচড় পড়েছে এ নির্বাচনের ওপর”।

তিনি বলেন,“অত্যন্ত প্রকটভাবে দলের বিষয়গুলো চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রার্থীরা লিলিপুট হয়ে গেছে। দলীয় নেতারা বড় হয়ে গেছে। ভোটাররাও দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছে। দলীয় ইস্যুগুলো প্রাধাণ্য পেয়েছে”।

রোকাসানা খন্দকার বলেন, এবারের এ নির্বাচনে একটি ভিন্নতা ছিল। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতার প্রকাশ ঘটেছে।

Image caption রাশেদ খান মেনন

তিনি বলেন, “স্থানীয় সরকার মূলত নির্দলীয় হয়। কিন্তু এবার দেখেছি দুটি দলেরই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা অংশ নিয়েছে। তাই জনগন কিভাবে দেখেছে তা রায়ে প্রতিফলিত হয়েছে”।

আলোচনায় একজন দর্শক বলেন, “এ গুলো স্থানীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনে এর প্রভাব পড়বেনা। জাতীয় নির্বাচন জাতীয় ভাবে হবে এবং জনগনও সেভাবেই উত্তর দেবে”।

আরেকজন দর্শক মন্তব্য করেন, “এ নির্বাচনে মহাজোটের মহা ভরাডুবি হলো। মহাসংকেত দিয়ে দিলো সরকারকে”।

আরেকজন জানতে চান সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ে কি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে দুর্বল করবেনা ?

রাশেদ খান মেনন বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি এ নির্বাচনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। কারণ একটি সরকারের অধীনে কত ভালো নির্বাচন হতে পারে সেটিও প্রমাণ হয়েছে”।

Image caption এম. সাখাওয়াত হোসেন

হান্নান শাহ বলেন,“ সিটি নির্বাচনের ফল নির্বাচনকালীণ সরকার নিয়ে তাদের দাবিতে কোন কোন প্রভাব ফেলবেনা”।

সংলাপে সম্প্রতি পাশ হওয়া সংশোধিত সন্ত্রাস দমন আইনের সমালোচনা করেন আলোচক এবং দর্শকদের অনেকেই।

রাশেদ খান মেনন বলেন তিনি মনে করে পাশ হওয়া এ আইনটি আবার পর্যালোচনা করা উচিত।

এছাড়া বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টিও সংলাপের আলোচনায় উঠে আসে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য