নির্বাচনী প্রচার প্রচারণায় সরগরম গাজীপুর

Image caption গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিরোধী বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী এম. এ. মান্নানের প্রচারণা

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার পাশেই গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ই জুলাই।

প্রচার প্রচারণায় সরগরম এখন ওই এলাকা।

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন প্রচারণায়।

নির্বাচন নিয়ে প্রতিনিয়ত পাল্টাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ।

প্রায় দশ লাখ ভোটার এই নির্বাচনে ভোট দেবেন, যারা একজন মেয়র ছাড়াও ৫৭জন কাউন্সিলর আর ১৯ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন।

ঢাকার পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে গাজীপুর শহরের রাজনৈতিক গুরুত্বও অনেক।

বুধবার সকাল দশটার দিকে যখন প্রায় ৩২৯ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ সিটি কর্পোরেশনে প্রবেশ করছিলাম তখনই চোখে পড়লো সারি সারি পোস্টার যাতে পরিষ্কার হয়ে উঠেছে নির্বাচনী আবহ।

দুপুরের দিকে পৌঁছলাম শহরের শিববাড়ি মোড়ে।

এটিই শহরের মূল কেন্দ্র। হাজার হাজার পোস্টারে ছেয়ে আছে পুরো এলাকা।

খোঁজ নিয়ে জানলাম নির্বাচনের প্রধান দু’জন প্রার্থীই রয়েছেন টঙ্গীতে কোনো প্রত্যন্ত এলাকায়।

চেষ্টা করছিলাম আওয়ামী লীগের আলোচিত বিদ্রোহী প্রার্থী,বহু নাটকের পর শেষ পর্যন্ত যিনি নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন, সেই জাহাঙ্গীর আলমের অবস্থান জানতেও।

মি. আলমের নাম ব্যালট পেপারে থাকবে তবে তিনি তার সমর্থন জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খানের প্রতি।

মি. আলমের সমর্থকদের একজনের সঙ্গে কথা হয় রেল গেট এলাকায়।

তিনি বলেন, “জাহাঙ্গীর এর অনেক সমর্থক। তারা দ্বিধাবিভক্ত। তবে তিনি অনেক জনপ্রিয়।”

শহরের রেল গেটে স্থানীয় একজন জানালেন দিনে ৪৫ বার ট্রেন যাওয়া-আসা করে শহরের উপর দিয়ে।

প্রতিবারই যান চলাচল বন্ধ করতে হয় ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে।

Image caption সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দল সমর্থিত প্রার্থী আজমতউল্লাহ খান

আর তাই সবসময় লেগে থাকে যানজট।

কিন্তু শহরের প্রধান এই সমস্যার দিকে দৃষ্টি নেই কারো।

কাছেই স্থানীয় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দেখা হলো ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও বর্তমান কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের সঙ্গে।

সরগরম দলীয় কার্যালয়ে কথা প্রসঙ্গে তারা দাবি করলেন জাহাঙ্গীর আলম তাদের প্রার্থীর বিজয়ের ক্ষেত্রে কোন বাধা হবে না।

দলটির স্থানীয় একজন নেতা বললেন, “আজমত উল্লাহ ১৭ বছর টঙ্গী পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গাজীপুরে তার জনপ্রিয়তা প্রবল। তাই নির্বাচনে জয়মাল্য তারই হবে।”

এর কাছেই স্থানীয় বিএনপির কার্যালয়।

কয়েকজন বসে গল্প করছিলেন। নেতৃস্থানীয় কাউকে পাওয়া গেলনা।

স্থানীয় একজন নেতা বললেন, “সম্প্রতি চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যেমন ফল এসেছে গাজীপুরেও তাই হবে এবং বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এম. এ. মান্নান বিজয়ী হবেন।”

তার এ দাবির ভিত্তি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকারের কর্মকাণ্ডে মানুষ ক্ষুব্ধ।”

সকাল থেকেই গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিলো।

হয়তো সেজন্যই দুপুরের পর থেকে মাইক ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচার শুরুর কথা থাকলেও তা সংখ্যায় খুব বেশি একটা দেখা যায়নি।

এর মধ্যেই দেখা করলাম গাজীপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও দলটির কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী মাহমুদ হাসানের সাথে।

নির্বাচনে মেয়র পদে তিনিও মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন কিন্তু পরে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

মহাজোটের শরিক দল হিসেবে তারা আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে রয়েছেন কি-না জানতে চাইলে রীতিমত ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

মি. হাসান বলেন, “ বলুন তো গত চার বছরে আমরা কি পেয়েছি ? ন্যূনতম সম্মান পেয়েছি আমরা ?”

জানতে চাইলাম তাহলে জাতীয় পার্টির সমর্থন কি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী পাচ্ছে ?

জবাবে তিনি বললেন, “অফিসিয়ালি আমরা মহাজোটে। কিন্তু আমাদের নেতাকর্মীরা ১৮-দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে। আর গত সাড়ে চার বছরে যা হয়েছে তাতে জনগণও খুশি নয়।”

মি. হাসানের বাসা থেকে বেরিয়ে একটি চা দোকানের সামনে কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে।

নিজ নিজ প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনার কথা বললেও সবাই এক বাক্যে স্বীকার করেন নির্বাচনটি আসলে প্রধান দুটো দলের রাজনৈতিক মর্যাদার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে।

সে কারণে স্থানীয় সমস্যাগুলো নির্বাচনী প্রচারে তেমন গুরুত্বই পাচ্ছেনা। বরং নির্বাচনী প্রচারণায় জাতীয় রাজনীতির ইস্যুগুলোই মুখ্য হয়ে উঠছে।