আমিন বাজার হত্যার বিচার শুরু

আমিন বাজার হত্যার ছয় শিকার
Image caption আমিন বাজার হত্যার ছয় শিকার

বাংলাদেশে দু'বছর আগে শবে বরাতের রাতে ঢাকার কাছে আমিন বাজারে ছয়জন ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার সোমবার বিচার কাজ শুরু হয়েছে।

গোড়াতে সে ঘটনায় নিহতদের ডাকাত বলে সন্দেহ করা হলেও পরে এ নিয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।

বাংলাদেশে প্রায়শই গনপিটুনিতে নিহত হওয়ার যে খবর পাওয়া যায় আমিন বাজারের সে ঘটনাটিকে অনেকেই সেভাবেই দেখেছিলেন।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে গনপিটুনিতে নিহত হওয়ার কোন ঘটনায় এই প্রথম বিচার শুরু হলো বলে মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন।

গত দু'বছরে এই ঘটনার একাধিক তদন্ত হয়েছে। এই ঘটনায় পুরিশের তদন্তে নিহতদের পরিবার সন্তুষ্ট না হলে আদালতের নির্দেশে র‍্যাবের উপর তদন্তভার দেয়া হয়।

এছাড়া একট বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা হয় যেখানে নিহত ছাত্রদের নির্দোষ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

র‍্যাবের দেয়া অভিযোগ পত্রের ভিত্তিতে এখন বিচার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে এই আদেশ দেয়া হয়।

কিন্তু এই অভিযোগপত্র নিয়ে নিহতদের পরিবারগুলোর আপত্তি আছে বলে তারা জানালেন।

নিহত একজন ছাত্র শামস রহিমের বাবা এস এম আমিনুর রহিম বলেন যে ৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে তাদের মধ্যে দুই-একজন সে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নয়। মি: রহিম নিজেও একজন হাইকোর্টের আইনজীবী।

তিনি বলেন,“আমি কাগজপত্র দেখেছি। অভিযোগপত্রে যাদের নাম আছে তাদের বেশিরভাগই কালপ্রিট (অপরাধী)। তবে কয়েকজনকে নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। এদের মধ্যে একজনের কথা আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যার নাম এখানে আসা উচিত হয়নি,” মি: রহিম বলেন, বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন যথার্থ ছিল।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় গণপিটুনিতে নিহত হবার খবর পাওয়া যায়। যাদের অধিকাংশ সময় ডাকাত কিংবা ছিনতাইকারী বলে বর্ণনা করা হয়।

কিন্তু মানবাধিকার সংস্থাগুলো বরাবরই এ ধরনের ঘটনার বিরোধিতা করে আসছে। আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া উচিত নয় বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলে।

আমিন বাজারের ঘটনায় বিচার কাজ শুরু হওয়াকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নূর খান লিটন অগ্রগতি বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন এ ধরনের গণপিটুনিতে নিহত হবার ঘটনায় বিচার হতে স্মরনকালে কখনো শোনা য়ায়নি।

যে অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে এখন বিচার শুরু হয়েছে সেটি নিয়ে নিহতদের পরিবারের খানিকটা আপত্তি থাকলেও তদন্তকারী সংস্থা র‍্যাব বলছে, তারা পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীর ভিত্তিতে এই অভিযোগপত্র দিয়েছে।

তবে নূর খান লিটন বলেন তদন্তে গাফিলতি থাকলে অনেক সময় নিরপরাধ ব্যাক্তির জড়িয়ে পড়ার আশংকা থাকে। মি: লিটন আশা করেন সে ধরনের কোন সম্ভাবনা থাকলে সেটি বিচার পক্রিয়ার মাধ্যমে নিস্পত্তি হবে।

মি. খান লিটন বলেন, “বিচার প্রক্রিয়া শেষ হবার পর বোঝা যাবে নিরপরাধ কেউ শাস্তি পেয়েছে কিনা। যখন সাক্ষীসাবুদ নিয়ে কথা হবে, যখন জবানবন্দি পর্য্যালোচনা করা হবে তখন সেখানেই বাছাই হয়ে যাবে কেউ নিরপরাধ কি না।”

এদিকে আমিন বাজারে গণপিটুনিতে ছাত্র হত্যার ঘটনায় যে ৬০ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে তাদের মধ্যে পাঁচজন কারাগারে, ৩০ জন জামিনে এবং বাকি ২৫ জন পলাতক রয়েছে। কারাগারে এবং জামিনে থাকা আসামিরা আদালতে নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেছে।