গোলাম আযম দোষী প্রমাণিত, ৯০ বছরের কারাদণ্ড

গোলাম আযম দোষী, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাংলাদেশে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমকে ৯০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

আজ ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল -১ এই রায় ঘোষণা করে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগই প্রমাণিত হয়েছে।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে পাঁচ ধরনের অভিযোগের আওতায় মোট ৬১টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগগুলোর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র . পরিকল্পনা , উস্কানী এবং সংশ্লিষ্টতার।

ট্রাইব্যুনাল বলেছে গোলাম আযমের অপরাধ বিবেচনায় তার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্য। বয়স বিবেচনায় তাকে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনাল উল্লেখ করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এর আগে আরও চারটি রায় ঘোষণা করলেও গোলাম আযমের এই রায়টি নানা দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশের মুক্তিযু্দ্ধের সময় ৪২ বছর আগে সংগঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গোলাম আযমকে অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে মনে করা হতো।

গত ১৭ই এপ্রিল মামলার কার্যক্রম শেষ হবার প্রায় তিনমাস পর রায় ঘোষণা করা হলো।

সকাল সাড়ে ১০টায় গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয়।

হুইল চেয়ারে করে তাকে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে যাওয়া হয়। বেলা এগারোটার দিকে আদালত রায় পড়া শুরু করে। রায়ের সারসংক্ষেপ ৭৫ পৃষ্ঠা তুলে ধরে আদালত।

২০১০ সালের ২৫শে মার্চ ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর ২০১২ সালে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

২০১২ সালের ১১ই জানুয়ারি আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এক বছরের বেশি সময় ধরে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তি তর্ক চলে।

গোলাম আযমের বিপক্ষে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১৭ জন এবং গোলামের আযমের পক্ষে সাফাই সাক্ষী দিয়েছেন একমাত্র তার ছেলে।

রায়ে প্রতিক্রিয়া :

এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি তুরিন আফরোজ বলেন এ ধরনের রায় মেনে নেয়া যায়না।

রায়ের পর গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহ-হিল আমান আজমী বলেন, “ এটি একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। আমরা এই রায়ে ক্ষুদ্ধ কিন্তু বিস্মিত নই।” আসামীপক্ষ বলছে তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গঠিত গণজাগরণ মঞ্চ এই রায়ে ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এই মঞ্চের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন তারা এই রায়ে খুশি নয়।

তবে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদকে উদ্ধৃত করে স্থানীয় কয়েকটি গণমাধ্যম বলছে এই রায়ে জনপ্রত্যাশা পূরণ হয়েছে।

বরাবরই বাংলাদেশ বিরোধী :

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান বিভক্তির বিরোধিতা করে গোলাম আযম তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন।

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামীলীগ এবং মুক্তিবাহিনীকে তিনি ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ বলে উল্লেখ করেন।

১৯৭১ সালে গোলাম আযম স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতা করে যেসব বক্তব্য দিয়েছিলেন সেগুলো তখন বিভিন্ন খবরের কাগজে ছাপা হয়।

৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের বিপরীতে তথাকথিত শান্তি কমিটি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন গোলাম আযম।

এই শান্তি কমিটির সদস্যরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে সহায়তা করতো। স্বাধীনতাযুদ্ধের শেষ দিকে নভেম্বর মাসে গোলাম আযম পাকিস্তান চলে যান।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পরও গোলাম আযমের বাংলাদেশ বিরোধী ভূমিকা অনেকেরই জানা ছিল।

অভিযোগ রয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও তিনি নানা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন।

বাংলাদেশকে যাতে স্বীকৃতি দেয়া না হয় সেজন্য তিনি মধ্যপ্রাচ্যে তদ্বির করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।