মিশরের সিনাই উপদ্বীপে হামলায় ২৪জন পুলিশ নিহত

Image caption সিনাই-এ রাফার কাছে গাজা সীমান্তে মিশরীয় চৌকি

মিশরের সিনাই উপদ্বীপে এক অতর্কিত আক্রমণে ২৪জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, পুলিশ সদস্যরা দু’টি বাসে চড়ে যাচ্ছিলেন, যখন সিনাই-গাজা সীমান্তে রাফা শহরের কাছে তাদের উপর আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

সম্প্রতি মিশরের নিরাপত্তা বাহিনী সিনাই উপদ্বীপে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। দু’বছর আগে প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে সাইনাই-এ জঙ্গি হামলা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সোমবারের আক্রমণ নিয়ে দু’রকমের বর্ণনা পাওয়া গেছে।

নিরাপত্তা বিষয়ক সূত্রে বরাত দিয়ে আমেরিকান বার্তা সংস্থা এপি বলছে, চারজন সশস্ত্র ব্যক্তি বাস দুটি থামিয়ে সব পুলিশ সদস্যকে নেমে যেতে বাধ্য করে। তারপর তাদের গুলি করে হত্যা করে।

তবে অন্য সূত্রগুলো বলছে, বাসের উপর রকেট-চালিত গ্রেনেড দিয়ে হামলা করা হয়।

Image caption কায়রোতে সৌদি দূতাবাসের সামনে মিশরীয় সেনাবাহিনীর সাঁজোয়া গাড়ি

জুলাই মাসের ৩ তারিখে দেশের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসিকে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অপসারণ করার পর মিশরের যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে কায়রোর সামরিক-সমর্থিত সরকার জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে।

বুধবার কায়রোতে মি: মোরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের দুটি প্রতিবাদ সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার সময় এবং তারপর থেকে সারা দেশে সংঘর্ষ ৮৩০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছে, যার মধ্যে ৭০ পুলিশ এবং সেনা সদস্য রয়েছেন।

সোমবার ব্রাসেলস-এ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা মিশর নিয়ে একটি জরুরী বৈঠক করছেন।

ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট হোসে মানুয়েল বারোসো এবং ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট হারমান ভ্যান রমপুয়ি বলেছেন, ই ইউ ‘’আগামী দিনগুলোতে মিশরের সাথে তার সম্পর্ক জরুরী ভিত্তিতে পর্যালোচনা করবে’।

মি: বারোসো এবং মি: রমপুয়ি এক যৌথ বিবৃতিতে , মিশরে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বাদ দিয়ে ‘সংঘাতের পথ’ বেছে নেয়ায় দু:খ প্রকাশ করেন।

‘গণতন্ত্র এবং মৌলিক স্বাধীনতার যে দাবী মিশরের জননগণ করছে, সেটা অগ্রাহ্য করা যাবে না, আর রক্তে ধুয়ে ফেলা আরোই যাবে না,’’ তারা বলেন।

তবে মিশরের অন্তর্বর্তী সরকার বলছে, মি: মোরসি ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে মুসলিম ব্রাদারহুড দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছিলো।

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আব্দুল ফাতাহ আল-সিসি হুশিঁয়ারি দিয়ে বলেছেন, সামরিক বাহিনী কোন রকম অস্থিরতা বরদাশত করবেনা।