পেঁয়াজের দামে আগুন, ক্ষুব্ধ ভোক্তারা

পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির একটি কারণ হরতাল। মঙ্গলবারের হরতালের সময় ঢাকার একটি পাইকারি বাজার।
Image caption পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধির একটি কারণ হরতাল। মঙ্গলবারের হরতালের সময় ঢাকার একটি পাইকারি বাজার।

বাংলাদেশে হঠাৎ করেই পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যে ক্ষোভ বাড়ছে জনজীবনে। সপ্তাহখানেক আগেও যেখানে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৪০-৪৫ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫-৮০ টাকা।

পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকারি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান টিসিবি ৫০০০ টন পেঁয়াজ আমদানির ঘোষণা করেছে। কিন্তু তার কোন প্রতিক্রিয়া বাজারে এখনো চোখে পড়ছে না।

ঢাকার মোহাম্মদপুরের খুচরা বাজারে প্রতিদিনের কেনাকাটা করেন কাজল ইয়াসমিন। এক সপ্তাহ আগে তার বাজারের তালিকায় যেসব পণ্য ছিল সেগুলোর দাম কিছুটা অপরিবর্তিত থাকলেও দাম বেড়েছে পেঁয়াজের। আর সেই দাম দ্বিগুণের সমান। তাই অনেকটাই ক্ষুব্ধ কাজল। ঢাকার আরেকটি খুচরা বাজার হাতিরপুল বাজার। সেখানকার একজন ক্রেতা বলছিলেন কম দামে পেঁয়াজ কিনতে পাবেন এই আশায় এর আগেও একটি বাজার ঘুরেছেন। তবে সবখানে একই রকম দাম। প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে পেঁয়াজ কেনা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে তিনি জানাচ্ছিলেন।

রাজধানীর বাজারগুলোতে গত এক সপ্তাহে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বেড়ে এখন প্রতি কেজি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার কারণ হিসেবে খুচরা এবং পাইকারি বাজারের দোকানদাররা এর উৎপাদন ও সরবরাহের ঘাটতিকেই দায়ী মনে করছেন। রাজধানীর সবচেয়ে বড় পাইকারি পণ্যের বাজার কারওয়ান বাজারের ব্যাবসায়ী রুহুল ইসলাম জানান, পেঁয়াজের মজুদে ঘাটতির কারণে তারাও বেশি দাম দিয়েই কিনেছেন।

অনেক ব্যবসায়ী আবার ঈদের ছুটি, হরতাল ও দীর্ঘ যানজটের কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন। তবে আমদানিকারকদের কেউ কেউ বলছেন ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের এলসি সংক্রান্ত নতুন একটি নিয়মের কারণে ৬৫০ ডলারের নিচে এলসি করা যেসব আমদানিকারক রয়েছেন তারা এখন আমদানি করতে পরছেন না। সেটাও পেঁয়াজের সংকট ও দাম বাড়ার একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

এদিকে পেঁয়াজের এই দ্বিগুণ দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ বা টিসিবির মাধ্যমে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টিসিবির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বিবিসিকে জানান, প্রাথমিক ভাবে ৫০০০ মেট্রিক টন পেয়াজ আমদানি করবে তারা।

মি. কবির জানান আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ আমদানিকৃত পেঁয়াজ বাজারের পাওয়া যাবে বলে তারা আশা করছেন।

সংস্থাটি বলছে বাংলাদেশে বছরে পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে ২০ থেকে ২২ লক্ষ মেট্রিক টনের মত। আর দেশেই আমদানি হয় ১৯ লক্ষ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ।

অর্থাৎ বেশির ভাগ চাহিদা পূরণ হয় দেশীয় উৎপাদনে আর ২০০৯ সালের পর বাংলাদেশের পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজন হয়নি বলেও তারা জানান।