মাদক বহনের দায়ে বিচারকের সাজা

পুলিশ হেফাজতে জাবেদ ইমাম
Image caption পুলিশ হেফাজতে জাবেদ ইমাম

বাংলাদেশের এক আদালত নিষিদ্ধ মাদক বহনের দায়ে একজন বিচারককে চার বছরের কারাদন্ড দিয়েছে।

বাংলাদেশে কোন বিচারকের মাদকসহ আটক এবং কারাদন্ডের ঘটনা এটাই প্রথম।

গ্রেফতারের পর গত ২রা ডিসেম্বর পুলিশ মি. ইমামকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করানোর পর ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত রমনা জোনের সহকারি কমিশনারসহ পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়।

তবে হাইকোর্ট এর পর নিম্ন আদালতের ঐ আদেশ স্থগিত করে দেন।

ভোলা জেলার জ্যেষ্ঠ সহকারি বিচারক জাবেদ ইমাম ঢাকায় ইডেন মহিলা কলেজের সামনে থেকে ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন গত ১লা ডিসেম্বর। ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিল।

এর আট মাসের মাথায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলায় রায় এলো। ঐ বিচারকের চার বছরের সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। জরিমানার টাকা না দিলে তাঁকে অতিরিক্ত দু’মাস জেল খাটতে হবে।

সরকার পক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জাহিদ সরদার বলেন, সংশ্লিষ্ট আইনে সর্ব্বোচ্চ সাজা রয়েছে যাবজ্জীবন কারাদন্ড। কিন্তু ঐ বিচারকের গাড়ি থেকে যে ৩৪২ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছিল, তদন্তের ক্ষেত্রে সাথে সাথে সেই বোতলগুলোর প্রতিটিতে থাকা ফেনসিডিলের পরিমাণ নির্ধারণ করে না দেওয়ায় সাজা কিছুটা কম হয়েছে। পরিমান নির্ধারণ না করার ক্ষেত্রে তদন্ত কর্মকর্তার ভুল ছিল বলে তিনি মনে করেন।

ফেনসিডিল বহনের অভিযোগে গ্রেফতারের পরদিন গত ২রা ডিসেম্বর ঐ বিচারক জাবেদ ইমামকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করানোর ঘটনা নিয়েও সে সময় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছিল।

অভিযোগ প্রমাণের আগেই এমন পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আদালত তখন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়েছিল। তবে অভিযোগ ওঠার পর মি. ইমামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এখন মামলাটিতে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে যে রায় হলো, তাতে সন্তুষ্ট নন ঐ বিচারকের পক্ষের আইনজীবী গোপাল চন্দ্র সাহা।

তিনি বলেন, ''মামলার বাদী পুলিশ কর্মকর্তা ঘটনার সময় স্থলে উপস্থিত না থাকার কথা শুনানিতে জানিয়েছিলেন। তারপারও সাজা হওয়ায় আমরা সন্তুষ্ট হতে পারিনি। এখন জজ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিল করবো।''

অন্যদিকে , সরকার পক্ষের আইনজীবী জাহিদ সরদার যদিও মামলাটিতে সাজা কম হওয়ার জন্য তদন্তে কিছুটা ভুল থাকার বিষয় তুলে ধরেছেন। তবে একইসাথে যে সাজা দেয়া হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট বলে জানান।

''সকলের জন্য আইন যে সমান, সেটা আদালত এই রায়ের মাধ্যমে আবারও প্রতিষ্ঠিত করেছে। কারণ আমি আমার ২৭ বছরের ওকালতি জীবনে কখনও দেখিনি যে, এ ধরণের অভিযোগে কোন বিচারকের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। তাই আমি খুশি।''

মামলার বিচার চলার সময় জাবেদ ইমাম জামিনে মুক্ত ছিলেন। এখন সাজা দেওয়ার পাশাপাশি আদালত তাঁর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠিয়েছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য