'প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে সংলাপের সব পথ বন্ধ'

mirza fakhrul islam alamgir at bnp presser
Image caption নয়া পল্টনের সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বাংলাদেশে সামনের নির্বাচনের সময় বর্তমান মন্ত্রিসভা এবং সংসদ বহাল থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণায় ক্ষুব্ধ বিএনপি বলেছে, দলীয় সরকারের অধীনে তারা নির্বাচনে যাবে না, এবং এটাই তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে সমঝোতার সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে গেছে।

সোমবার সচিবদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন এবং সেসময় মন্ত্রিসভা এবং সংসদ বহাল থাকবে বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবার ক্ষমতায় আসার ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোমবারের বক্তব্য তাই প্রমাণ করে ।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরে সমঝোতার আর কোনও সম্ভাবনাই থাকলো না।’

সচিবদের সঙ্গে সোমবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন সংবিধান অনুসারে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী এই সময় মন্ত্রিসভা থাকবে, তবে কোনো নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত তারা নেবেন না । এছাড়া এ সময় সংসদ বহাল থাকবে তবে সংসদের কোনও অধিবেশন এ সময় বসবে না।

দেশের সব গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়।

বিএনপির নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোটের একটি বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার বিএনপি এবং আঠারো দলীয় জোটের অবস্থান তুলে ধরলেন মি: আলমগীর।

বিরোধী জোটের এই অবস্থানকে সরকারি দল দেখছে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, পৃথিবীর কোথাও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নামে অগণতান্ত্রিক পদ্ধতি নেই।

‘বাংলাদেশে এক সময় যে আস্থাহীনতার প্রেক্ষাপটে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল সেই প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। বিরোধী দলের আসলে নির্বাচন কালীন বিষয় নিয়ে খুব বেশি মাথাব্যাথা আছে বলে মনে করি না। তারা এটাকে একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেব ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন।’

তবে বিএনপি এবং আঠারো দলীয় জোট নির্দলীয় সরকারের অধীনে ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে আবার তাদের অবস্থানের কথা দৃঢ়ভাবে সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

একদিকে যখন বিএনপির এই অবস্থান, অন্যদিকে তখন নির্বাচনের বিভিন্ন প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ।

কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে তাহলে তারা কি বিরোধী দলকে ছাড়াই নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে?

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুবুল আলম হানিফ বলছেন, ‘আমরা চাই সব দলের অংশ গ্রহণে নির্বাচন। তবে বিরোধী দল বিএনপি এখন যাই বলুক তারা নির্বাচনে আসবে বলেই আমরা মনে করি।’

আলোচনার সুযোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি বলেও দাবি করেন মাহবুবুল আলম হানিফ। তিনি বলেন, এ মাসেই সংসদের যে অধিবেশন ব্সতে যাচ্ছে সেখানে কিংবা সংসদের বাইরেও এই আলোচনা হতে পারে।

সংসদ বহাল রেখেই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি কতটা সংবিধান সম্মত সে বিষয়েও সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন তোলেন বিএনপি নেতা মি: আলমগীর।