হজ নিয়ে দুর্নীতি-অব্যবস্থাপনা কি কমেছে

বাংলাদেশে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে হজ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার থেকে হজ যাত্রীদের প্রথম ফ্লাইটটি সৌদি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর প্রায় একলাখের মতো ধর্মপ্রাণ মুসলিম হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যায়।

এর কিছু অংশ সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলেও বেশিরভাগই বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে এই হজ পালন করে।

কিন্তু ধর্মীয় এই বিষয়টিতেও অব্যবস্থাপনা, প্রতারণা আর দুর্নীতির বিষয় ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে, যদিও বাংলাদেশের সরকার আর কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব সমস্যা সমাধানে তারা ব্যবস্থা নিয়েছেন।

বাংলাদেশের ঢাকা থেকে ২০১১ সালে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করেছেন মো. রহমান। তিনি বলছেন, সৌদি আরবে থাকার সময় অনেক অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা তার চোখে পড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে হজ সংস্থা যেসব প্রতিশ্রুতি আর আশ্বাস দিয়েছিল, তার বেশিরভাগই রক্ষা করা হয়নি।

মি. রহমান বলছেন, খাবার আর থাকার ব্যবস্থা নিয়েই মুলত প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। যাবার আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়, তার অনেককিছুই আর সেখানে গিয়ে দেখা যায় না।

হয়তো বলা হলো, কাবা শরীফের কাছাকাছি বাড়ি ভাড়া করা হবে, কিন্তু রাখা হলো অনেক দূরে।

বয়স্ক মানুষদের জন্য গাইডের ব্যবস্থা থাকে না। আবার সব হজ এজেন্সীই দালালের সাহায্যে হাজীদের সংগ্রহ করে থাকে। এই দালালরা অনেক বেশি টাকা নিয়ে থাকে। পরে অনেক সময় এজেন্সী এসব দালালের কাজের দায়িত্ব নিতে চায় না।

এবছর বাংলাদেশ থেকে আটাশি হাজার মুসলিম হজ পালন করতে সৌদি আরবে যাবেন। ২০১২ সালে এই সংখ্যাটি ছিল একলাখ দশ হাজার। এর মাত্র দুই শতাংশের কাছাকাছি হজযাত্রী সরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলেও, বাকিরা বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তত্ত্বাবধানে হজ পালন করেন।

কিন্তু এরকম অনেক সংস্থার বিরুদ্ধেই অভিযোগ রয়েছে, প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরেও তারা পর্যাপ্ত সেবা দেননা, অব্যবস্থাপনা এমনকি প্রতারণারও ঘটনাও ঘটে। যদিও হজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ইব্রাহিম বাহার বলছেন, অতীতে এরকম অনেক অভিযোগ থাকলেও, এখন এরকম ঘটনা অনেক কমে এসেছে।

মি. বাহার বলছেন, খাবার বিষয়টি নিয়ে এখন আর কষ্ট দেয়া হয়না। কিন্তু থাকার ব্যবস্থা নিয়ে আর হজযাত্রী নিয়ে ফেরত না আনার কারণে গতবছর ৪০টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। অনেককে জরিমানা করা হয়েছে।

মি. বাহার বলছেন, প্রতারণার ঘটনা বর্তমানে অনেক কমে গেছে। তবে এজাতীয় সমস্যা মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে ঘটে থাকে। তারা বিভিন্নভাবে হাজীদের কাছ থেকে টাকা নেয়। কিন্তু সেটা এজেন্সিকে টিকভাবে দেয় না। ফলে এখানে অনেক সময় একটা দুরত্ব থেকে যায়।

তবে, মি. বাহার আশংকা করছেন, হজযাত্রী পরিবহনে দুটি নির্দিষ্ট বিমান সংস্থা নির্ধারণ করে দেয়ায় অনেকেই সময় রক্ষা করতে পারবেন না। কারণ এই দুটি পরিবহন সংস্থার মাধ্যমে হাজীদের যাতায়াতে বাধ্য হলে অনেকের ক্ষেত্রেই বিমানের টিকেট জটিলতার সৃষ্টি হবে।

তবে বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. সাজাহান মিয়া বলছেন, হজযাত্রীদের উন্নত সেবা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন, হজ করতে গিয়ে কোন সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

প্রতিমন্ত্রী সাজাহান মিয়া বলছেন, প্রতিবছর হজের সময়ই নানা ধরণের সমস্যা হবে বলে বলা হয়, কিন্তু গত কয়েক বছর তো হয়নি। এবারও আমরা কথা দিয়েছি, হজ নিয়ে কোনরকম সমস্যা হবে না। বিমান পরিবহন নিয়ে যারা আশংকা করছেন, তাদেরও আশংকার কারণ নেই। কারণ হাজীদের যাতায়াতের সব ব্যবস্থাই নেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আগে হজ নিয়ে অনেক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে তবে এখন আর সেটা ঘটে না।

তিনি বলেন, অনেক এজেন্সীর মাধ্যমে অনেকে গিয়ে আর ফিরে আসেনি। আমরা এরকম ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছি, এবারও নেয়া হবে। আর থাকা খাওয়া নিয়ে যেসব এজেন্সীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আসবে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতিমন্ত্রী দাবি করলেন, হজ নিয়ে অতীতে অনেক কেলেংকারীর ঘটনা ঘটলেও, বর্তমান সরকারের আমলে কিছুই ঘটেনি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েক বছরেও দুর্নীতি আর প্রতারণার বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে, তবে এসব সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। ফলে হজ নিয়ে প্রতারণা বা দুর্নীতির মতো ঘটনার অভিযোগ অনেকাংশেই কমে এসেছে।