কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ

চারজন বিচারপতি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পক্ষে রায় দেন
Image caption চারজন বিচারপতি মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে এবং একজন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পক্ষে রায় দেন

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের আপিলের প্রথম রায়ে সর্বোচ্চ আদালত জামায়াতে ইসলামীর নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে বিচারিক আদালতের যাবজ্জীবন সাজা বাড়িয়ে ফাঁসির এই আদেশ দেয়।

মি: মোল্লার পক্ষের আইনজীবীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরে এই রায়ের ব্যাপারে রিভিউ পিটিশন করার কথা জানিয়েছেন। তবে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য হচ্ছে, সংশ্লিষ্ট আইনে রিভিউ করার কোন সুযোগ নেই।

রায়ের পর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম বলেন তাঁরা রায়ে খুশি।

ওদিকে আসামী পক্ষের আইনজীবি দলের প্রধান ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেছেন এই রায়ে তারা ক্ষুব্ধ এবং ত্রিশ দিনের মধ্যে তারা রিভিউ পিটিশন দাখিল করবেন।

গত ৫ই ফেব্রুয়ারি বিচারিক আদালতে যখন মি: মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল, তখন সর্ব্বোচ্চ সাজার দাবিতে ঢাকা শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে বড় ধরণের আন্দোলন গড়ে উঠেছিল।

এটিই মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের প্রথম রায়।

জামায়াতে ইসলামী এই রায় প্রত্যাখ্যান করে আগামীকাল বুধবার থেকে সারা বাংলাদেশে ৪৮ ঘন্টার হরতাল ডেকেছে।

হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ

৭১ এর ২৬শে মার্চ ঢাকার মিরপুরে কালাপানি লেন এলাকায় হযরত আলী ,তাঁর স্ত্রী ,দুই মেয়ে এবং দুই বছরের ছেলেকে হত্যা এবং ধর্ষণের অভিযোগে এখন আপিল বিভাগ আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির আদেশ দিলো। এই অভিযোগে বিচারিক আদালত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ ফেব্রুয়ারি মি: মোল্লার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন, প্রধান বিচারপতি মোঃ: মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতির সমন্বয়ে আপিল বিভাগের বেঞ্চে দু’পক্ষের শুনানি শেষে মঙ্গলবার এই রায় হয়। এতে চারজন বিচারপতি বিচারিক আদালতের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে মত দেন। একজন বিচারপতি মত দিয়েছেন যাবজ্জীবন সাজার পক্ষে।

সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের আপিল গ্রহণ করে এবং আসামী-পক্ষের আপিল খারিজ করে দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগুলোতে বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের সাজা বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ।

জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ছয়টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পাঁচটি অভিযোগে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিল। ৭১ এর নভেম্বরে কেরানীগঞ্জে নিরস্ত্র গ্রামবাসির উপর হামলা এবং হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে খালাস দিয়েছিল। কিন্তু আপিল বিভাগ এই অভিযোগেও তাঁকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে।

সহিংস বিক্ষোভ

Image caption ট্রাইব্যুনাল-২ গত ৫ ফেব্রুয়ারি কাদের মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন

এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর অবস্থা এড়াতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা ঢাকা এবং চ্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে।

বন্দর নগরী চট্রগ্রামে বেশ কিছু যানবাহনে আগুনে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।

জামায়াতে ইসলামীর আরো দু’জন নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ও মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধেও আপিল করা হয়েছে।

২০১০ সালে ট্রাইব্যুনাল গঠনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের এই বিচার শুরু হয়।