বাংলাদেশে হরতালে আরও চারজন নিহত

Image caption চাঁদপুরে হরতালের সময় বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ

বাংলাদেশে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের ডাকা হরতালের দ্বিতীয় দিনে সহিংসতায় আরও চারজন নিহত হয়েছে।

এনিয়ে গত দু’দিনে দেশটিতে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নয় জনে দাঁড়িয়েছে।

নির্বাচনের সময় নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধীজোট টানা তিন দিন ৬০ ঘন্টার এই হরতাল কর্মসূচি নেয়।

বিএনপি অভিযোগ করেছে, এবার হরতালে পুলিশ সরাসরি গুলি চালাচ্ছে। তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ এবং সরকার।

হরতালের দ্বিতীয় দিনে বড় ধরনের সংঘর্ষ হয়েছে চাঁদপুর জেলা শহরে। যেখানে বিরোধী দল বিএনপি, ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ এবং পুলিশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় সংঘর্ষ হয়েছে দফায় দফায়।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ অভিযোগ করেছেন,তাদের মিছিলে আওয়ামীলীগ সমর্থকরা আক্রমণ করেছে এবং পুলিশ গুলি চালিয়েছে। তাতে মো. আরজু নামের ১৬/১৭ বছর বয়সের তাদের একজন কর্মী নিহত হয়েছে।

প্রতিপক্ষের মিছিলে আক্রমণে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাঁদপুর আওয়ামীলীগের নেতারা। আর চাঁদপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আমির জাফরও পুলিশের পুলিশ অভিযোগ মানতে রাজী নন। তিনি বলেছেন, পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়েছে। তবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে কোন গুলি চালায় নি।

দক্ষিণ-পশ্চিমে যশোরের হরিণাকুন্ডু উপজেলার স্থানীয় বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেনকে বোমা হামলা চালানোর পর কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জেলার পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন জানিয়েছেন,হত্যাকারীদের এখনই শনাক্ত করা যায়নি। ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি কর্মিরা আওয়ামীলীগ সমর্থক কয়েকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সেখানে হরতালের সময় বিএনপির দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সংঘর্ষে আবদুল আলীম নামে দলের এক কর্মী নিহত হন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।

বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পুলিশ জানিয়েছে, সাতকানিয়া এলাকায় প্রায় মধ্যরাতের পর হরতাল সমর্থকদের ধাওয়া খেয়ে একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে গিয়ে পড়লে এর চালক মো. ওয়াসিম নিহত হয়েছে।

জয়পুরহাট এবং নাটোরসহ কয়েকটি জায়গা থেকেও হরতাল সমর্থক সাথে পুলিশের সংঘর্ষের খবরও পাওয়া গেছে। লালমনিরহাট রেল লাইন উপড়ে ফলার অভিযোগ উঠেছে হরতাল সমর্খকদের বিরুদ্ধে।

এবার হরতালে চোরাগোপ্তা বোমা হামলা এবং সহিংস ঘটনা বেশি ঘটছে বলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ গুলোই বলছে।

তবে ঢাকায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পরিস্থিতির জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ ,এখন বিরোধী দলের মিছিল দেখলেই পুলিশ সরাসরি গুলি করে।

এমন অভিযোগ মানতে রাজি নয় পুলিশ ও সরকার।ঢাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে হরতাল বিরোধী সমাবেশে কয়েকজন মন্ত্রীও বক্তৃতা করেন। সে

খানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিপুমনি বিরোধী দলের বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ করেছেন।

রাজধানী ঢাকায় অবশ্য বড় ধরনের সহিংস ঘটনা ঘটেনি। গতকালের তুলনায় আজ নগরীর রাস্তায় যানবাহন বেশি চলেছে।

তবে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিজ্ঞপ্তি এবং জামায়াতের নেতা-কর্মীরা ঝটিকা মিছল করেন। কয়েকটি জায়গায় চোরাগোপ্তা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।

প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনে বিরোধী নেত্রীকে সংলাপে বসার আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তিনদিনের এই হরতাল কর্মসূচি প্রত্যাহারে অস্বীকৃতি জানায়।

তবে দলটির নেতারা বলেছেন, তাদের হরতাল শেষ হলে যে কোন সময় আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন এবং আবারও সরকারকে সেই উদ্যোগ নিতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ বলছে, বিরোধীদলকেই এগিয়ে আসতে হবে।