রায়ে সন্তুষ্ট হলেও কার্যকর হওয়া নিয়ে শঙ্কা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন দৈনিক পত্রিকা পূর্বদেশের প্রধান প্রতিবেদক ছিলেন গোলাম মোস্তফা।

একই পত্রিকায় প্রতিবেদক হিসেবে যোগ দেন চৌধুরী মুঈনুদ্দীন।

Image caption ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডের শিকার মুনীর চৌধুরী এবং এ এন এম গোলাম মোস্তফা।

নিহত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ছেলে অনির্বাণ মোস্তফা বলছিলেন যুদ্ধের সময় তার বয়স অনেক কম ছিল তবে পরে তার মা এবং পরিবারের অন্যান্যদের কাছে শুনেছেন সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা ও চৌধুরী মুঈনুদ্দীন আদর্শিক দ্বন্দ্বের কথা।

'পূর্ব দেশের অফিসেই বাবার সাথে মুঈনুদ্দীনের বাক বিতণ্ডা হয়। এবং বাবাকে সে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়'।

১১ই ডিসেম্বর ভোরবেলা কয়েকজন লোক এসে নিজ বাড়ী থেকে গোলাম মোস্তফাকে তার অফিসে যাওয়ার কথা বলে নিয়ে যায়। তবে তিনি আর কখনই ফিরে আসেননি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ঠিক শেষের দিকে দেশের সাংবাদিক, লেখক, ডাক্তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনির চৌধুরী ছিলেন নিহতদের মধ্যে একজন। মুনির চৌধুরীর বোন ফেরদৌসি মজুমদার বলছিলেন ১৪ই ডিসেম্বর মুনির চৌধুরীকে আল বদর বাহিনীর একটি দল এসে বাড়ী থেকে নিয়ে যায়।

কিন্তু পরবর্তীতে তারা কোন খোজ পাননি মুনির চৌধুরীর। ফেরদৌসী মজুমদার মনে করেন বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের যতটা গুরুত্ব দিয়ে বিচার করা হচ্ছে রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি আজকের রায়ের কার্যকারিতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খান এর বিরুদ্ধে যে ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছিল তার মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের ডাক্তার আলীম চৌধুরীর হত্যকান্ডের ঘটনা একটি।

আলীম চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামলী নাসরিন বলছিলেন আজকের রায়ে তিনি সন্তুষ্ট। তবে রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরকারকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে চৌধুরী মুঈনুদ্দী দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং আশরাফুজ্জামান খান রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে।

তাদের অনুপস্থিতিতে এই রায় হলেও নিহত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফার ছেলে অনির্বাণ মোস্তফা বলছিলেন যুক্তরাজ্য একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে একজন যুদ্ধাপরাধীকে আশ্রয় দেবে না বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেন।