মুঈনুদ্দীন ও আশরাফুজ্জামান খানের মৃত্যুদণ্ড

Image caption আশরাফুজ্জামান খান এবং চৌধুরী মুঈনুদ্দীন ১৯৭১ সালে আল বদর বাহিনী গঠন করে বুদ্ধিজীবি হত্যায় অংশ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক এবং ডাক্তারদের হত্যাকান্ডের জন্য চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।

আদালত তার রায়ে বলেছে, এই দুই জনের বিরুদ্ধে আনা এগারোটি অভিযোগের সবগুলোই সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হয়েছে।

চৌধুরী মুঈনুদ্দীন গত কয়েক দশক ধরেই বৃটেনে এবং আশরাফুজ্জামান খান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

আদালত তার রায়ে উল্লেখ করেছে, ১৯৭১ সালে সুপরিচিত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, সাংবাদিক এবং ডাক্তারদের হত্যাকান্ডের মাধ্যমে তারা যে অপরাধ করেছে সেজন্য তাদের সর্বোচ্চ শাস্তিই প্রাপ্য।

এই দুই জনের বিরুদ্ধে যে এগারোটি অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেগুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী ও মুনীর চৌধুরী, সাংবাদিক শহিদুল্লাহ কায়সায়, সিরাজউদ্দিন আহমেদ, নিজামুদ্দিন আহমেদ এবং ডাক্তার ফজলে রাব্বী ও আলীম চৌধুরী অন্যতম।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সমন্বয়ক এবং অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল এম.কে রহমান আদালতকে উদৃত করে বলেছেন, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খানের নির্দেশনায় এবং সম্পৃক্ততায় ১৯৭১ সালে যে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড হয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে দাখিলকৃত অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরে বাংলাদেশের যুদ্ধের শেষের দিকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সহযোগী সংগঠন আল বদর বাহিনী পরিকল্পিতভাবে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে। মি. মুঈনুদ্দীন বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের ঘটনার অপারেশন ইন-চার্জ এবং মি. আশরাফ ছিলেন চীফ এক্সিকিউটর।

অতিরিক্ত এটর্নী জেনারেল এম.কে রহমান বলেন, চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়জন শিক্ষক, ছয়জন সাংবাদিক এবং তিনজন ডাক্তারকে অপহরণ করে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং এসব অভিযগের সবগুলোই প্রমানিত হয়েছে।

মি. মুঈনুদ্দীন ও মি. আশরাফের বিরুদ্ধে ২৮ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ।

পলাতক দু’জনকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্যে পত্রিকায় বিজ্ঞাপনও দেয়া হয়।

এরপরও তাঁরা হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই ২৪ জুন থেকে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

যেহেতু চৌধুরী মুঈনুদ্দীন এবং আশরাফুজ্জামান খান আদালতে হাজির হননি কিংবা তাদের পক্ষে কোন আইনজীবীও নিয়োগ করেননি সেজন্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়।

তাদের একজন সালমা হাই টুনী। তিনি বলেন, এই দুই আসামীর পক্ষে কোন সাফাই স্বাক্ষী পাওয়া যায়নি। তাছাড়া, আসামীদের তরফ থেকেও তার সাথে কোন ধরনের যোগাযোগ করা হয়নি।

বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় জুড়ে হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ এবং ধর্ষনের মতো নানা অপরাধ হলেও যুদ্ধের একেবারে শেষের দিকে এসে বুদ্ধিজীবীদের হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিকে আলাদা করে দেখা হয়।

ইতিহাসবিদরা বলেন, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের বাংলাদেশী সহযোগীদের মাধ্যমে আল-বদর বাহনী গঠন করে বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

রোববার এ রায়ের মাধ্যমে সেই বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের বিচার হলো বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং নিহতদের পরিবারগুলো বলছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য