বিএনপির পাঁচ শীর্ষনেতার আটদিনের রিমান্ড

Image caption আটক বিএনপি নেতাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে

বাংলাদেশে বিরোধীদল বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের তিনজন নেতাসহ পাঁচজনের জামিনের আবেদন নাকচ করে ঢাকার একটি আদালত তাদের প্রত্যেকের আটদিন করে পুলিশী রিমান্ডের আদেশ দিয়েছে।

গত শুক্রবার তাঁদের আটকের পর হরতালের সময় পুলিশের উপর হামলা, এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগের দু’টি মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল।

এর নিন্দা জানিয়ে বিএনপি বলেছে, আন্দোলন দমনের জন্য সরকার দমন নির্যাতন শুরু করেছে এবং বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট তাদের নির্দলীয় সরকারের দাবিতে আগামী সপ্তাহেও কঠোর কর্মসূচি নেবে।

বিএনপির নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ, এম কে আনোয়ার এবং রফিকুল ইসলাম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’টি মামলায় পুলিশ মোট বিশ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল।

আদালত তাদের জামিনের আবেদন নাকচ করে প্রত্যেকের আটদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে। এছাড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল আউয়াল মিন্টু এবং বিশেষ সহকারি শিমুল বিশ্বাসকেও একইসাথে আদালতে হাজির করে একই অভিযোগে মামলায় আটদিন করে পুলিশী রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

তাঁদের পক্ষে অন্যতম আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেছেন, হরতালে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং পুলিশের উপর আক্রমণের অভিযোগে পুরনো দু’টি মামলায় বিএনপির এই পাঁচজন নেতার কেউই অভিযুক্ত ছিলেন না।

“এর পাশাপাশি ঐ নেতারা বয়স্ক, এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার জন্য আমরা আদালতে বক্তব্য দিয়েছিলাম। কিন্তু আদালত সেই বক্তব্য গ্রহণ না করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।”

ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে শুনানিতে বিএনপি নেতাদের রিমান্ডের আবেদনের পক্ষে বক্তব্য তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের পিপি আব্দুল্লাহ আবু।

তাঁর বক্তব্য হচ্ছে, হরতাল কর্মসূচি নিয়ে সহিংস ঘটনা ঘটানোর ক্ষেত্রে বিএনপির এই নেতাদের পরিকল্পনাকারী হিসেবে এবং হুকুম দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

এদিকে, পাঁচজন নেতাকে পুলিশী রিমান্ডে নেওয়ার এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি। দলটির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলছেন, “আন্দোলনরত বিরোধীজোটের নেতাকর্মীদের ভয় পাইয়ে দিতে সরকার বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের এই নেতাদের রিমান্ডে নিয়েছে। সরকার দেখাতে চাইছে, মওদুদ আহমেদ বা রফিকুল ইসলাম মিয়ার মতো নেতাদের রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে, ফলে অন্যরা সাবধান হয়ে যাও।”

সরকারের এই কৌশলের নিন্দা জানিয়েছে বিএনপি এবং গ্রেফতার থাকা নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি চেয়েছে।

এই ধরপাকড়ের ঘটনার পর থেকেই বিএনপির শীর্ষপর্যায়ের অন্য নেতাদের অনেকেই এখনও আত্নগোপনে রয়েছেন।

দলটির নেতারা বলছেন, গত শুক্রবার বিএনপির পাঁচজন নেতাকে গ্রেফতারের পর দলটির আরও কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালিয়েছিল। সে সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয় এবং বাসভবনকে ঘিরেও পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল।

সেই প্রেক্ষপটে পাঁচদিন পর বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বুধবার রাতে বাসভবন থেকে বেরিয়ে গুলশানের কার্যালয়ে গিয়েছিলেন। সে সময় দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবসহ কয়েকজন নেতা সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু বিএনপি স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ উপস্থিত না থাকায় ঐ কমিটির নির্ধারিত বৈঠক হয়নি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, “খালেদা জিয়া যখন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তখনও অতিরিক্ত পুলিশ এবং গোয়েন্দা পুলিশ সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। যে নেতারা ঐ কার্যালয়ে গিয়েছিলেন, তাদেরও পুলিশের নজর এড়িয়ে বেরিয়ে যেতে হয়েছিল। একটা অস্বাভাবিক পরিবেশ সেখানে ছিল।”

মি: রিজভী উল্লেখ করেছেন, স্থায়ী কমিটির বেশির ভাগ সদস্য একসাথে বৈঠক করতে না পারলেও যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঠিক করা হবে।

পর পর তিন সপ্তাহে টানা হরতালের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আগামী সপ্তাহেও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার কথা বলছে। দু’একদিনের মধ্যে সেই কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে। তবে এখন আটক নেতাকর্মিদের মুক্তির দাবিতে এবং পুলিশী অভিযানের বিরুদ্ধে এই জোট শনিবার বিক্ষোভ করবে।

এদিকে, খালেদা জিয়া বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে বিএনপি সমমনা বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাদের সাথে মতবিনিময় করেছেন।

তিনি বলেছেন, নির্দলীয় সরকারের দাবি নিয়ে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে এবং এতে আপোষের কোন সুযোগ নেই।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য