অবরোধের মধ্যে ঢাকায় বাসে আগুন, অগ্নিদগ্ধ ১৮

bd_politics_violence

বাংলাদেশে ১৮-দলীয় বিরোধীজোটের ডাকা অবরোধ কর্মসূচির তৃতীয় দিনে আজ রাজধানী ঢাকায় একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হলে অন্তত ১৮ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঢাকার রমনা এলাকায় মৎস্য ভবনের সামনে ওই বাসে আগুন দেবার ঘটনা ঘটে। অগ্নিদগ্ধ লোকদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া গতকালের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি গত মধ্যরাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন। তার নাম মোয়াজ্জেম হোসেন এবং তিনি পেশায় একজন গাড়িচালক। অবরোধের সময় তার পরিবহনযানের ওপর বোমা হামলা হলে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছিলেন।

এ নিয়ে তিন দিনের অবরোধের সময় সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ১৭তে পৌঁছেছে।

নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য বিএনপি-নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় বিরোধীজোটের যে দাবি - তা পূরণ হবার আগেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে এই রাজপথ-রেলপথ-নৌপথ অবরোধ ডাকা হয়েছিল।

Image caption বগুড়ায় কেটে ফেলা রেললাইন

দেশের নানা স্থান থেকে বিক্ষিপ্ত সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘরে-তৈরি বোমা বিস্ফোরণ ঘটেছে। বিশেষ করে পটুয়াখালী, বগুড়া, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী ও সিলেটে অবরোধকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন।

পুলিশ বলছে বগুড়ার ছাতিয়ানতলায় গত রাতে ৭২ ফুট রেললাইন কেটে ফেলা হলে রেলযোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়. তবে সকালে তা আবার চালু হয়।

প্রথমে এই অবরোধ ৪৮ ঘন্টার জন্য ডাকা হলেও পরে দুদফায় তার মেয়াদ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অবরোধের সময় পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ, গুলি, বোমা বিস্ফোরণ, যানবাহনে আগুন দেয়া ছাড়াও বিশেষ করে রেললাইন ও ট্রেনের ওপর অনেকগুলো আক্রমণের ঘটনা ঘটে।

বিরোধীদল বিএনপির একজন নেতা অবশ্য কোন নাশকতায় তাদের কর্মীসমর্থকদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেছেন, তার ভাষায় 'সরকারের এজেন্টরাই' এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।

অন্যদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর আজ সশস্ত্রবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন।

সভায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য কাজ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো নিশ্চয়তা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজি রকিবউদ্দিন আহমেদ।

তবে নির্বাচনের আগে ঠিক কবে নাগাদ সেনা মোতায়েন করা হবে - তা নিয়ে বৈঠকে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।

এই বৈঠক থেকে আভাস পাওয়া গেছে যে নির্বাচন কমিশনের সাথে সারাদেশের রিটার্নিং অফিসারদের বৈঠক হবার পরই সেনা মোতায়েন কবে নাগাদ হতে পারে - তা ঠিক হবে।