২৭ হাজার মানুষ দিয়ে লাল-সবুজের একটি পতাকা

bd flag
Image caption ২৭০০০ মানুষ দিয়ে তৈরি জাতীয় পতাকা। (ছবি-ফোকাস বাংলা)

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয় বার্ষিকীতে ঢাকায় ২৭ হাজারের মত কিশোর-তরুণ লাল আর সবুজ রঙা কাঠের টুকরো তুলে ধরলে তা বিশাল এক জাতীয় পতাকার চেহারা নেয়।

অয়োজকদের দাবি, বিশ্বের বৃহত্তম মানব-সৃষ্ট পতাকা এটি।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো একজন দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসীর রায় কার্যকর হবার প্রেক্ষাপটে উদযাপন করা হচ্ছে এই বিজয় বার্ষিকী।

দেশজুড়ে চলা সহিংসতার কারণে এবার এই দিবসের রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কাটছাঁট করা হয়েছে। জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজয় দিবসের সামরিক কুচকাওয়াজ এবার আগেভাগেই বাতিল করা হয়।

তবে উদযাপনে কিছু অভিনবত্ব চোখে পড়েছে।

ঢাকার প্যারেড গ্রাউন্ডে মানুষের তৈরি বিশাল এক জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের পাশাপাশি সোহরাওর্দী উদ্যানে হাজার হাজার মানুষ একসাথে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন।

মানব সৃষ্ট জাতীয় পতাকা

বেলা দেড়টার কিছু পর মঞ্চে সুপরিচিত নাট্য ব্যক্তিত্ব আফজাল হোসেন ঘোষণা দেবার পর সাতাশ হাজারেরও বেশী মানুষ একযোগে তাদের মাথার উপর তুলে ধরেন লাল আর সবুজ রঙে কাঠের তৈরি প্ল্যাকার্ড।

স্পিকারে বেজে ওঠে দেশের গান। আর একটু উঁচু জায়গায় যারা ছিলেন তারা চোখের সামনে ভেসে উঠতে দেখেন বিশাল আকৃতির বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা।

আয়োজকেরা বলছেন, এই জাতীয় পতাকাটাই এখন বিশ্বের সবচাইতে বড় মানবসৃষ্ট পতাকা।

ছয় মিনিটের কিছু বেশী সময় যখন পতাকাটি দৃশ্যমান থাকে তখন আকাশে হেলিকপ্টারে চক্কর মারছিলেন গিনেস বুকস অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মনোনীত একদল পর্যবেক্ষক। মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রতিনিধিরা।

পতাকা প্রদর্শন শেষে তারা বলেন এই জাতীয় পতাকাটাই এখন বিশ্বের সবচাইতে বড় মানবসৃষ্ট পতাকা।

Image caption বগুড়ায় স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের উৎসবে ডিসপ্লে

পর্যবেক্ষকদের একজন শাকিলা ফারজানা বলেন গিনেসে নাম তোলার জন্য তারা এখন প্রয়োজনীয় দলিলপত্র পাঠিয়ে দেবেন।

এর আগে সবচাইতে বড় মানবসৃষ্ট পতাকাটির রেকর্ড ছিল পাকিস্তানের, গত বছর ২৪ হাজার মানুষ একই ধরণের একটি পতাকা তৈরি করেছিলো বলে জানা যাচ্ছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তালিকা থেকে।

মানবসৃষ্ট পতাকা তৈরিতে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল এবং ঢাকার বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা।

প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রতিবছরের নিয়মিত সামরিক কুচকাওয়াজ এবার আগাম ঘোষণা দিয়ে বাতিল করা হলেও পতাকা উৎসবে অংশ নিতে আগ্রহী বহু মানুষ ভিড় করেন।

প্যারেড গ্রাউন্ড এবং সামনের রাস্তা ছাড়াও শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাভারের স্মৃতিসৌধে আজ বহু মানুষের উপস্থিতি দেখা গেছে।

অনেককেই দেখা গেছে লাল এবং সবুজ রংয়ের পোশাক পড়তে। কেউ কেউ মুখে এঁকে নিয়েছে রঙিন আলপনা।

বাংলাদেশে এবারের বিজয় দিবসের আরেকটি অভিনব আয়োজন ছিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর যে সময়টিতে এখানে আত্মসমর্পণ করেছিলো পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, ঠিক সেই সময়ে অর্থাৎ বিকেল চারটা একত্রিশ মিনিটে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষ একযোগে গেয়ে ওঠেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।