বাস পুড়িয়ে পুলিশ হত্যার অভিযোগে বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

mirza fakhrul
Image caption বাস পোড়ানোর মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও আসামী করা হয়েছে।

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে পুলিশ হত্যার অভিযোগে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরসহ বিরোধীজোটের ১৮জন নেতাকর্মির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, বিরোধীদলে লাগাতর অবরোধ কর্মসূচিতে যে নাশকতামূলক কর্মকান্ড হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় এই পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটেছে।

তবে বিএনপি এই মামলা দায়েরের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রার নতুন কর্মসূচি দেওয়ার পরই সারাদেশে ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য হয়রানিমূলক এই মামলা করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগিরের সাথে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস , গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান ও বরকত উল্লাহ বুলুসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

তাঁদের সাথে আরও অভিযুক্ত করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা শফিকুর রহমান এবং শফিকুল ইসলাম মাসুদকে ।

মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বাংলামোটর এলাকায় পুলিশে একটি বাসে পেট্রোল বোমা হামলায় আগুনে পুড়ে পুলিশের একজন সদস্য নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়। সেই ঘটনাকে হত্যাকান্ড হিসেবে উল্লেখ করে বিএনপি এবং জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় ১৮ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও কুড়িজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট রমনা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেছেন, “বিরোধীজোটের কর্মসূচিতে এই জোটের নেতারা সহিংস ঘটনার ব্যাপারে উস্কানি দিয়ে আসছিল, তার অংশ হিসেবে ঢাকায় পুলিশ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ কারণেই নেতাদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।”

ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে বলে বলা হচ্ছে। পুলিশের আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার সাংবাদিকদের বলেছেন, রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিকল করার টার্গেট থেকে ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, “যারা জনস্বার্থের তোয়াক্কা করে না, তারাই পুলিশ হত্যা করেছে। যত বড় এই ঘটনা ঘটিয়েছে, ততটা শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করবো।”

বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের পঞ্চম দফা অবরোধ কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই জোটের নেত্রী খালেদা জিয়া ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রার কর্মসূচি দিয়েছেন। আর ঢাকার বাংলামোটরে পেট্রোল বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার রাতে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ঘটনার সময় তাদের কোন কর্মসূচি না থাকলেও নতুন মামলা করে বিরোধীজোটের নেতাকর্মিদের অভিযুক্ত করা হচ্ছে।

মি. দুদু বলেন, “ নির্দলীয় সরকারের দাবিতে বিরোধীজোটের আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিতর্কিত করতে অসত্য অভিযোগে এসব মামলা করা হচ্ছে। এখন ২৯শে ডিসেম্বর ঢাকা অভিমুখে অভিযাত্রার কর্মসূচিতে ভয়ভীতি সৃষ্টির জন্য সরকার এসব করছে।”

বিএনপির নেতারা আরও অভিযোগ করেছেন, নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পর পরই বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার বাসভবনকে ঘিরে অতিরিক্ত পুলিশ দিয়েছে অবরুদ্ধ পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, বিএনপি নেত্রীর নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ,বিরোধী নেতাকর্মিদের দমন,নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা এবং মন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, “আড়াই মাস ধরে বিরোধীজোটের কর্মসূচিতে হত্যা, অগ্নিসংযোগের মতো নাশকতামূলক তৎপরতা মুল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেখানে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়ে থাকলে আমাদের কিছু বলার নেই।”