বাংলাদেশে বিরোধী জোটের অবরোধ চলছে

বাংলাদেশে আজ থেকে শুরু হয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮-দলীয় জোটের অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি।

৫ ই জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহত করতে সারা দেশে সড়ক, নৌ ও রেলপথ অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছিল বিরোধী জোট।

আজ সকালে ঢাকায় কয়েকটি স্থানে কর্মসূচির সমর্থনে বিরোধী দলের কর্মীরা মিছিল করার চেষ্টা করেছে। ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে মহাসড়কে মিছিল করেছে।

রাজধানীর সড়ক গুলোতে অনেক যানবাহন চলাচল করছে।

গত সোমবার রাতে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন।

Image caption মঙ্গলবার খালেদা জিয়ার বাসায় তার সাথে দেখা করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা

এদিকে বাংলাদেশে বিরোধী দল বিহীন নির্বাচনের মুখে ব্রিটিশ ও মার্কিন দূতাবাস থেকে নতুন তৎপরতা চোখে পড়ছে।

গত দুদিনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেছেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার মি গিবসন মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সাথে।

নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে প্রভাবশালী এই দুই দেশের দূতরা দুই দলের রাজনীতিকদের সাথে কী নিয়ে কথা বলেছেন, সে সম্পর্কে কোন পক্ষই কোন মুখ খুলছে না।

ব্রিটিশ হাইকমিশনের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তারা কোন কিছু বলতে চাননি।

তবে খালেদা জিয়ার সাথে মঙ্গলবারের বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা লিখিত এক বিবৃতি দিয়েছেন।

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন বাংলাদেশের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ খোঁজা যে জরুরি হয়ে পড়েছে, সেটাই খালেদা জিয়ার সাথে বৈঠকে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।

"সরকারের দায়িত্ব বিরোধীদলকে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করার সুযোগ দেয়া এবং বিরোধী দলের দায়িত্ব এই সুযোগ শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবহার করা"।

ডিসেম্বরের মাঝামাঝি জাতিসংঘের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল অস্কার তারানকো ঢাকায় এসে একটি সমঝোতার জন্য দুই দলের মহাসচিবকে সামনাসামনি একটি বৈঠকে বসিয়েছিলেন।

কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর, সেই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।

দু সপ্তাহ পর আবারো সোমবার থেকে কূটনৈতিক মহল থেকে নতুন তৎপরতা চোখে পড়লো।

তবে রাজনৈতিক অচলাবস্থা প্রশমনে কূটনীতিকদের সর্বশেষ এই তৎপরতা কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে সন্দেহের কারণ রয়েছে।

কারণ, সোমবার ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকের পরপরই খালেদা জিয়ার বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক উপদেষ্টা শমসের মোবিন চৌধুরীকে পুলিশ আটক করে। ঘন্টা ছয়েক পরে অবশ্য তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।