বিভিন্ন জেলায় হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলার পর আতঙ্ক

Image caption দিনাজপুর সদরে হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা ভাঙচুর

বাংলাদেশে ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের দিন বেশ কয়েকটি জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার পর ওই এলাকাগুলোয় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

নির্বাচনের দিন যশোরের অভয়নগর ও দিনাজপুর সদর এলাকায় হিন্দুদের কয়েকটি গ্রামে বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

সাতক্ষীরাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

জামায়াত-শিবির কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

এসব স্থানে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সঠিক সময়ে পৌঁছায়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অভয়নগরের চাপাতলা গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ জেলে ও হিন্দু সম্প্রদায়ের।

তাদের অনেকে অভিযোগ করেছেন যে, ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্যে তারা জামায়াত ও শিবির কর্মীদের কাছ থেকে হুমকি পেয়েছিলেন।

এর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিন দফায় হামলার ঘটনা ঘটে গ্রামটিতে।

চাপাতলা গ্রামের মঙ্গলি বিশ্বাস জানান, গ্রাম ছেড়ে তারা ভয়ে পালিয়ে যান। আর এই ফাকে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

তিনি বলছিলেন, “আমাদের গ্রামের অধিকাংশ মানুষ ভয়ে নদীর ওপারে চলে যায়। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। ঘরে যে স্বর্ণের গয়না রাখা ছিল সব নিয়ে গেছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা চার বোন পড়াশুনা করি। আমাদের সব সার্টিফিকেট পুড়ে গেছে।”

অভয়নগরে কয়েকশো হিন্দু বাড়িতে এধরনের হামলা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গের জেলা দিনাজপুরেও ঠিক একই ধরনের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে।

সদর উপজেলার কার্নাই গ্রামের পুরেন চন্দ্র রায় জানালেন, “ভোট গ্রহণ শেষ হবার পর কর্মকর্তারা চলে গেলে তার সাথে সাথেই হামলা ঘটনা ঘটে। ওরা ভোট কেন্দ্রে হামলা না চালিয়ে দফা দফায় আমাদের দোকানপাট ও গ্রামে হামলা চালায়।”

এসব গ্রামের মানুষজন দু’রাত বাইরে কাটিয়ে গ্রামে ফিরেছেন কিন্তু এখনো আতংকের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছেন বলে জানালেন সেখানকার অধিবাসীরা।

পুরেন চন্দ্র রায় জানালেন, “সবাই আতংকে আছে এবং রাতে বাসায় থাকতে কেউ নিরাপদ বোধ করছে না। তারা এই শীতের মধ্যে বিভিন্ন যায়গায় রাত কাটাচ্ছে।”

নির্বাচনকে ঘিরে দেশ জুড়ে রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন রয়েছে সেনা বাহিনী ও বিজিবি।

কিন্তু চাপাতলা গ্রামের উত্তম কুমার বিশ্বাস জানালেন, সেখানে পুলিশ এসে পৌঁছায় ঘটনা শেষ হবার পর।

তিনি জানান, “আক্রমণ শুরু হবার পর সকাল দশটার দিক থেকেই আমরা তাদের ফোন করি কিন্তু তারা এসে পৌঁছায় রাত নটার দিকে। ৬০ বা ৭০ জনের মতো।”

একই অভিযোগ করেছেন দিনাজপুরের কার্নাই গ্রামের মানুষজনও।

যশোর জেলার পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানিয়েছেন, “ভোট কেন্দ্রে এবং তার আশপাশেই মূলত পুলিশের অবস্থান থাকে, যেহেতু একটা বৈরী পরিবেশে ভোট এবং ভোট কেন্দ্রই আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে ভোট কেন্দ্রে কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও ভোট সামগ্রীর নিরাপত্তা দিতে সেখানেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। তাই এতো ভেতরের এলাকায় সময়মতো পৌঁছানো যায়নি। ততো লোকবলও আমাদের নেই।”

এদিকে আক্রান্ত গ্রামগুলোতে খাবার ও শীতের কাপড় বিতরণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সেখানে বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প।