বাংলাদেশে সরকারের সামনে বিশাল অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ

violence
Image caption লাগাতার হরতাল-অবরোধে বাংলাদেশের অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতির সম্মুক্ষীন হয়েছে।

বাংলাদেশের আজকের এই সরকার গঠন এমন এক সময় হল যখন দেশে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

গত কয়েক মাসের লাগাতার অবরোধ আর হরতালে ব্যবসা বাণিজ্যে যে ঝুঁকির মধ্যে পরেছে সেখান থেকে উত্তরণেই হবে নতুন এই সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন অনেকেই।

সরকার বলছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে তবে তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কোন সুস্পষ্ট নীতি তারা গ্রহণ করেনি।

দেশের অন্যতম শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলছিলেন, গত কয়েক মাসে বাংলাদেশে লাগাতার অবরোধ আর হরতালে তদের রপ্তানি মুখি এই শিল্প অনেকটা ঝুঁকির মধ্যে পরেছে।

মি. এলাহী বলেন, নতুন এই সরকারের কাছে তাদের দাবী থাকবে দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে এখন দেশে ব্যবসা বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করা।

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যেমন অবনতি ঘটেছে, প্রাণহানি হয়েছে অনেক মানুষের একি সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতির।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগ তাদের চলতি অর্থবছর ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশের অর্থনীতির উপর এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে চলতি অর্থ বছরে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশের ব্যাংকিং খাতে বিপর্যয়, জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া ও অর্থ পাচারের আশংকার কথা বলা হয়।

পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট এর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান মনজুর বলেন, সরকারের সামনে এখন অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা।

মি. মনজুর বলছিলেন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সরকার তাৎক্ষনিকভাবে কিছু ব্যবস্থা নিতে পারে। তার মধ্যে উৎপাদনশীল খাতে কিছু কিছু প্রণোদনা প্যাকেজ দেওয়ার কথা উল্লেখ করছেন তিনি তবে সেক্ষেত্রেও সরকার কতটা ব্যয় বাড়াতে পারবে সে ব্যাপারে আশংকা প্রকাশ করেন মি. মনজুর ।

এদিকে যদিও প্রধান মন্ত্রীর নির্বাচনী ইশতেহারে দীর্ঘমেয়াদী ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা কথা বলা হয়েছে, তবে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা মশিউর রহমান বলছিলেন তাৎক্ষনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনো কোন সুস্পষ্ট নীতি তারা গ্রহণ করেনি। তবে মি. রহমান বলেন ব্যবসা বাণিজ্যের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেটা পুষিয়ে নিতে যেসব ক্ষেত্রে সরকারের পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার হবে সেখানে সরকার জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করেন।