বাংলাদেশে প্রবৃদ্ধি কম হবে: বিশ্বব্যাংক

আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংক বলছে নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এ বছর বাংলাদেশে জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কম হবে।

সরকারীভাবে এই প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২ শতাংশ আশা করা হলেও বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হবে ৫ দশমিক ৭ ভাগ।

তবে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন প্রবৃদ্ধি কত হবে এটি তার ধারনামূলক সংখ্যা তবে প্রবৃদ্ধি এর চেয়ে বেশি হবে বলেই তারা মনে করছেন।

একটি দেশের দেশজ উৎপাদন হল দেশের ভেতরে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মোট বাজারমূল্য যা মূলত নির্ভর করে নির্দিষ্ট সময়ে বিনিয়োগ ও রপ্তানিসহ বেশ কিছু বিষয়ের ওপর।

গ্লোবাল ইকোনমিক প্রোসপেক্টস নামে যে প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংক প্রকাশ করেছে তাতে তারা বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলছে, নির্বাচন কেন্দ্রিক রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে।

একই সাথে রেমিটেন্স বা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের হারও কমেছে। কারণগুলো ব্যাখ্যা করছিলেন ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেইন।

তিনি বলেন, "হরতাল ও অবরোধের মতো রাজনৈতিক প্রতিকূলতায় শিল্পের ওপর বড় আঘাত এসেছে সেকারণে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমবে। এছাড়া, নির্মান খাত আক্রান্ত হয়েছেঠ, সেবা খাতে পরিবহন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খুচরা ও পাইকারী ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন। কৃষিতেও প্রভাব পড়বে বলে ধারনা করা যায়। তবে একই সাথে বিশ্ব অথনীতি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল তার জন্য বিনিয়োগে স্থবিরতা ছিল, আমাদের জনশক্তি রপ্তানিতেও দুর্বল প্রবৃদ্ধ দেখা যাচ্ছে। আট শতাংশ কমে গেছে রেমিটেন্স প্রথম পাঁচ মাসে"।

তবে তার কাছে প্রশ্ন রেখেছিলাম প্রবৃদ্ধি কম হবার বিষয়টিতে উদ্বেগের কি আছে। মি হোসেইন বলছেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় প্রবৃদ্ধির হার অর্থাৎ ৫ দশমিক ১ শতাংশের সাথে তুলনা করলে শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি সন্তোষজনক বলা যাবে।

ওদিকে সরকারের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড মশিউর রহমানও বলছেন অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোগত পুনর্বাসনের মাধ্যমে ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে।

তিনি বলেন, "এটা সৌভাগ্য যে আমাদের রপ্তানি সেভাবে কমে নাই আর গার্মেন্ট খাতে সিজনাল ইফেক্ট যেটি, তাও মডারেটেড হবে। সুতরাং ৫ দশমিক ৭ না ৬ এ নিয়ে ডিসপিউট করার কিছু নেই কেননা এটা প্রজেকশন। আমাদের লক্ষ্য ৭ শতাংশ বা এর একটু বেশি, সেখানে পৌছাতে যে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা নেয়া হবে। সুতরাং প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭ না, বরং এর চেয়ে বেশিই হবে"।

কিন্তু জাহিদ হোসেইন বলছিলেন ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবার যে আকাঙ্ক্ষা বাংলাদেশের রয়েছে সে লক্ষ্য অর্জনে এখন প্রয়োজন সাড়ে সাত থেকে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা।

কিন্তু সরকারের পক্ষে বিগত কয়েকমাসের রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষতি কাটিয়ে উঠে আগামী ছয় মাসে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কতটা সক্ষম হবে?

জানতে চাইলে মি মশিউর রহমান বলেন, "নির্বাচনের পরও স্থিতিশীলতা যদি না আসে, তাহলে যারা স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায় তারা তো দেশের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবে। আমার ধারণা জনসমর্থন ছাড়া সেটা করা কোনভাবে সম্ভব নয়। ইনসারজেন্সি যদি কেউ কোন দেশে করে থাকে তারা সাময়কিভাবে একটি অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু তারা কখনোই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়না। তবে ইনসারজেন্স আমরা অবশ্যই দমন করতে পারবো"।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয় বিগত পাঁচ বছরে উন্নয়নশীল ও বেশি আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বেড়েছে এবং দেশগুলো অর্থনৈতিক মন্দার ধকল কাটিয়ে উঠতে পারায় এবছর বিশ্বের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।