আল কায়েদার কাছে কতটা গূরুত্বপূর্ন বাংলাদেশ?

bbc ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption ইন্টারনেটে আল কায়েদার কথিত অডিও-ভিডিও বার্তা

বাংলাদেশে জিহাদের আহবান জানিয়ে আল-কায়েদা প্রধান আইমান আল জাওয়াহিরিরি এক কথিত একটি অডিও-ভিডিও বার্তা নিয়ে এখন বেশ কথাবার্তা হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রপ্রতিমন্ত্রী আজ রবিবার সাংবাদিকদের বলেছেন এটি আল-কায়েদার কিনা সেটি সরকার এখনও খতিয়ে দেখছে।

তবে এটাকে কোন হুমকি বলে মনে করছে না বাংলাদেশে সরকার।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আব্দুর রশিদ মনে করেন বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখার অবকাশ নেই।

জেনারেল রাশিদ বলেন, “ আল কায়েদার শক্তি কমে গেলেও ভাবাদর্শগতভাবে বাংলাদেশে তাদের অনুসারী আছে।

তারা উজ্জীবিত হয়ে আল-কায়েদার সহায়তায় কোন নাশকতা করতে পারে।

এ আশংকাকে আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না ।“

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন জঙ্গী তৎপরতার বিষয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো সব সময় সতর্ক রয়েছে।

বাংলাদেশে গত আট-নয় বছর ধরে জঙ্গি তৎপরতার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছে র‍্যাব।

সংস্থাটির মুখপাত্র কমান্ডার হাবিবুর বলেন অনেক জঙ্গি সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়লেও র‍্যাব তাদের কাজে কোন শিথিলতা আনেনি।

আরেকজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার (অব:) শাহেদুল আনাম খান বলেন র‍্যাব যে কাজগুলো করছে সেটা অ্যান্টি-টেররিজম।

অর্থাৎ জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেটওয়ার্ক ভেঙ্গে দেয়া এবং তাদের আইনের আওতায় আনা।

কিন্তু আরও বিস্তৃত পরিসরে কাউন্টার টেররিজমের বিষয়টিকে বাংলাদেশ এখনও রপ্ত করতে পারেনি।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলেন পৃথিবীর যে দেশগুলোর ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে এবং মার্কিন স্বার্থ জড়িত আছে সেখানে আল-কায়েদার তৎপরতা গড়ে উঠেছে কিংবা তাদের যোগাযোগ আছে।

সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান কোথায়?

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব:) আব্দুর রশিদ বলেন ভূ-রাজনৈতিক ভাবে বাংলাদেশের গুরুত্ব বাড়ছে।

মি: রশিদ বলেন , “ এই নতুন আধিপত্যের প্রতিযোগিতায় কোন কোন মহল বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার প্রক্রিয়া কোন কোন শক্তির মাথায় থাকবে।

এটা আমি মনে করি"।

তিনি বলেন আল-কায়েদা বিষয়টি এখন ভাবাদর্শগত। এবং কিছু কিছু জায়গায় এই ভাবাদর্শকে সামরিক অভিযান চালানোর কারন হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।