উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ চলছে

ছবির কপিরাইট focus bangla

বাংলাদেশের চতুর্থ উপজেলা নির্বাচনের প্রথম ধাপের নির্বাচনে ভোট গ্রহণ চলছে।

৯৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিমধ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

যদিও ঝিনাইদহের শৈলকূপা, ভোলার লালমোহন উপজেলা সহ কিছু এলাকায় বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থীরা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে।

এবারের উপজেলা নির্বাচন এমন এক সময় হচ্ছে যার কিছুদিন আগে গত ৫ই জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে দেশটির বড় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি এবং ভোটার উপস্থিতি ছিল কম ।

কিন্তু নির্দলীয় এই নির্বাচনটিতে সবগুলো রাজনৈতিক দলই তাদের প্রার্থী রেখেছে ও সমর্থন দিয়েছে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন এই উপজেলা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও বেশি হবে বলে তারা ধারণা করছেন।

প্রথম দফায় যে ৯৭ টি উপজেলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সেখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান- এই তিনটি পদের জন্য এবারে প্রার্থী রয়েছেন এক হাজারের বেশি।

কিছুদিন আগেই ১০ম সংসদ নির্বাচনে বড় বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো অংশ না নেওয়ায় ভোটার উপস্থিতি ছিল অনেক কম।

তবে এবারে ভোটার উপস্থিতি বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ফেয়ার ইলেকশন মনিটরিং অ্যালায়েন্স বা ফেমার প্রেসিডেন্ট মুনিরা খান বলছিলেন এবারে এই স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ থাকায় সর্বাধিক ভোটার উপস্তিত হবেন বলে তারা ধারণা করছেন ।

মুনিরা খান বলছিলেন, এবারের উপজেলা নির্বাচনে বড় বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলোর অনুমোদিত প্রার্থীদেরকে যেমন ভোটাররা পাচ্ছেন, একই সাথে স্থানীয় প্রার্থীর যোগ্যতার বিচারেও তারা ভোট দিতে পারবেন। এসব কারনে ভোটার উপস্থিতির হারকে বাড়িয়ে দেবে বলে তারা মনে করছেন।

তবে উপজেলা নির্বাচনে পুরাতন ভোটারদের থেকে নতুন ভোটারদের উপস্থিতি বেশি হতে পারে বলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন।

উত্তরের জেলা বগুড়ায় এবারে ৬টি উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে।

স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থা লাইট হাউজের পর্যবেক্ষক রকিবুল ইসলাম খান বলছিলেন, সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার কারনে অনেক সময়ই উপজেলা চেয়ারম্যানরা বিভিন্ন উন্নয়ন-মূলক কাজে অংশ নিতে পারেন না। সেকারনে পুরাতন ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ তুলনামূলক কম দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলছিলেন “নতুন অনেক ভোটার ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি। তাই তাদের উৎসাহ বেশি। তবে সংসদ সদস্যদের ক্ষমতার কারনে স্থানীয় উন্নয়ণে চেয়ারম্যানরা অবদান রাখতে পারেনা না। তাই উপজেলা নির্বাচন নিয়ে পুরাতান ভোটারদের মধ্যে হতাশা রয়েছে”।

ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে ৯৭টি উপজেলায় আগেই সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

তবে এরই মধ্যে কয়েকটি স্থানে কিছু সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।

নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ বলছিলেন উপজেলা নির্বাচনে এ পর্যন্ত যেসব সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে সেগুলো স্থানীয় প্রার্থীদের মধ্যে হয়েছে। তাছাড়া বড় কোন ধরনের সহিংসতা যাতে না হয় সে ব্যপারে আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারি বাহিনিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

মি. শাহনেওয়াজ বলছিলেন “ আমাদের যেসব গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে তাদের কাছে সহিংসতার কোন খবর নেই। তাছাড়া গত বারের অভিজ্ঞতা থেকে এবারে আইন শৃঙ্খলা বাহিনিকে সবোর্চ্চ সর্তক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে”।