নয় বছর পরেও স্পেকট্রাম দুর্ঘটনার বিচার হয় নি

bd garments
Image caption বাংলাদেশে গার্মেন্টস কারখানাগুলোয় নিরাপত্তা সমস্যা অনেকদিনের (ফাইল চিত্র)

বাংলাদেশে ২০০৫ সালে স্পেকট্রাম গার্মেন্টেস কারখানা ধসে পড়ার ঘটনার নয় বছর পূর্ণ হলো আজ শুক্রবার ।

সরকারি হিসেবে স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসে পড়ার ঘটনায় ৬৩ জন শ্রমিক মারা যায়। কিন্তু নিখোঁজ ছিল অনেক ।

বাংলাদেশে যখন তাজরীন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ড এবং রানা প্লাজা ধসে পড়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার নিয়ে অনেকে সোচ্চার তখন স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসে পড়ার ঘটনা অনেকেই ভুলতে বসেছেন ।

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা সে ঘটনার বিচারের জন্য হাইকোর্টে রিট মামলা দায়ের করলেও সেখানে কোন অগ্রগতি নেই ।

২০০৫ সালের সেই ঘটনা বিশ্বজুড়ে তখন ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল । সেই ঘটনার আট বছর পর রানাপ্লাজা ধসে ১১০০’র বেশি শ্রমিক নিহত হয় ।

গার্মেন্টস শিল্পে দুর্ঘটনা নিয়ে গবেষণা করছেন সাইদিয়া গুলরুখ । তিনি বলছেন স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ভবন ধসের ঘটনায় কারও বিচার না হওয়ায় রানাপ্লাজা ধসের মতো ঘটনা ঘটলো।

সাইদিয়া গুলরুখ বলেন , “যেহেতু স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসে পড়ার ঘটনা জনমনের আড়ালে চলে গেলো এবং বিচারের বিষয়টা ছয়-সাত মাসের মধ্যে ধামা-চাপা দেওয়া হলো - ফলে হুবহু রানা প্লাজায় একই ঘটনা হলো। ”

তিনি বলেন স্পেকট্রাম এবং রানাপ্লাজায় একইরকম প্রকৌশলগত ত্রুটি ছিল।

স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসের ঘটনায় বিচার চেয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মিলে ২০০৫ সালেই হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করেছিল।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে আইন ও সালিশ কেন্দ্র , ব্লাস্ট এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি অন্যতম।

সেই রিটে বিবাদী করা হয়েছিল ছয়টি মন্ত্রণালয়ের সচিব , ঢাকার জেলা প্রশাসক , বিজিএমইএ , প্রধান ফ্যাক্টরি পরিদর্শক, সাভার ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট ও স্পেকট্রাম গার্মেন্টসের মালিককে।

আদালত সবার উপর কারণ দর্শানোর নোটিস জারি করে। কিন্তু বিজিএমইএ ছাড়া বাকিরা তার কোন উত্তর দেয়নি। গত আট বছরে সেই রিটের কোন অগ্রগতিও নেই। তাহলে বিষয়টি এখন কোন পর্যায়ে ?

রিটের পক্ষের অন্যতম আইনজীবী ইকবাল কবির বলেন, “এখন মামলাটি তালিকার মধ্যে অপেক্ষমান আছে হিয়ারিং–এর (শুনানি) জন্য। ”

মি: কবির বলেন অনেক সময় আইনজীবীরা এ ধরনের রিটের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেবার চেয়ে তাদের ব্যক্তিগত মক্কেলদের মামলায় বেশি গুরুত্ব দেয়। সেজন্য শুনানিতে দেরি হয় ।

তিনি বলেন কোন পক্ষ যদি মামলার শুনানিতে যথাযথ সময় না দেয় তাহলে আইন মোতাবেক মামলার গুণাগুণের উপর ভিত্তি করে সেটির নিস্পত্তি হবে। বিষয়টি নিয়ে হতাশ হবার কোন নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

আইনজীবীরা যে ব্যাখ্যাই দেন না কেন, ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা মনে করেন তারা এর কোন বিচার পাবেন না। স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসের ঘটনায় একটি হাত হারিয়েছেন শ্রমিক নুর-এ-আলম ।

তিনি বলেন , “আমরা মনে করি এর কোন বিচার হবে না । নয় বছর হয়ে গেলো আর কীভাবে আশা করি। হওয়ার হইলে আরো আগেই হইত। ”

বাংলাদেশের ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা বলছেন স্পেকট্রাম গার্মেন্টস ধসে পড়ার ঘটনায় স্পেনের একটি কোম্পানি শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল। এর বাইরে মালিকের দিক থেকেও শ্রমিকদের কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল।

শ্রমিকদের আর্থিকভাবে সহায়তা করলেও ভবন ধসের ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে পারেন না বলে উল্লেখ করেন শ্রমিক নেতা রায় রমেশ চন্দ্র ।

তিনি বলেন আইএলও’র নিয়ম অনুযায়ী বিচার বিশ্লেষণ করে তখনকার দিনে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সাড়ে তিন লাখ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা দিয়েছিল স্পেনের একটি কোম্পানি ইনডিটেক্স। এর পাশাপাশি স্পেকট্রাম মালিক পক্ষের দিকে থেকে দুই দফায় নিহত শ্রমিকদের প্রতিটি পরিবারকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল ।

রায় রমেশ চন্দ্র বলেন ক্ষতিপূরণ দিলেও ভবন ধসের ঘটনায় বিচার হওয়া জরুরি।

গার্মেন্টস শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে ঘটনার পর দ্রুত বিচারের মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তি দেওয়া গেলে গার্মেন্টস খাতে দুর্ঘটনা কমে আসবে। সেটি না হলে ভবিষ্যতে রানা প্লাজার মতো আরও দূর্ঘটনার আশংকা থেকেই যাবে ।