সাঈদীর আপিল মামলায় বিবাদী পক্ষের নতুন তথ্য

ছবির কপিরাইট AFP

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর একজন নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর মৃত্যুদন্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিলের আবেদনের শুনানি আজ শেষ হয়েছে।

কিন্তু যে দুটি হত্যার ঘটনায় ট্রাইবুনালে মি:সাঈদীর মৃত্যুদন্ডাদেশ হয়,তার একটি ঘটনার ব্যাপারে বিবাদী পক্ষ নতুন বক্তব্য তুলে ধরেছে।

এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পুরোনো মামলার নথি তলবের জন্য রাষ্ট্র এবং বিবাদী, উভয় পক্ষই দু’টি আবেদন করেছে। আপিল বিভাগ আবদন দু’টির ব্যাপারে বুধবার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুর এবং বরিশালে সংঘঠিত মানবতাবিরোধী অপরাধের কুড়িটি অভিযোগ আনা হয়েছিল দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের বিচারে ইব্রাহিম কুট্টি এবং বিসাবালী নামের দু’জনকে হত্যার ঘটনায় মি: সাঈদীর ফাসির আদেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনে এবং ধর্ষণের মতো আরও ছয়টি অভিযোগ প্রমাণ হলেও সর্ব্বোচ্চ সাজা হওয়ায় সেগুলোতে আর সাজা দেওয়া হয়নি।

এখন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে শুনানির শেষ পর্যায়ে মি: সাঈদীর আইনজীবীরা নতুন একটি প্রশ্ন তুলেছেন।

যে দু’টি হত্যার ঘটনায় ট্রাইবুনাল মি: সাঈদীর ফাসির আদেশ দিয়েছে, তার মধ্যে ইব্রাহিম কুট্টিকে হত্যার ঘটনার জায়গা এবং সময় নিয়েই তাদের প্রশ্ন।

মি: সাঈদীর পক্ষের অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, “নিহত ইব্রাহিম কুট্টির স্ত্রী ৭২ সালে যে মামলা করেছিলেন, তাতে হত্যাকান্ডের জায়গা এবং সময় নিয়ে যে বক্তব্য এসেছে,তার সাথে রাষ্ট্রপক্ষের দেওয়া তথ্যের মধ্যে ফারাক রয়েছে। সে কারণে তারা পুরোনো মামলার কপি আপিল বিভাগে উপস্থাপন করেছেন এবং তারা এর মুল রেকর্ড তলবের আবেদন জানিয়েছেন।”

ইব্রাহিম কুট্টি ছাড়াও বিসাবালী নামের আরেকজনকে হত্যার অভিযোগেও ট্রাইবুনাল মি: সাঈদীর ফাসির আদেশ যে দিয়েছে।

সেই বিসাবালী হত্যাকান্ডের একজন সাক্ষী তার ভাই সুখরঞ্জন বালী এখন ভারতের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন।ট্রাইবুনালে বিচারের সময় সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণ করে জোরপূর্বক ভারতে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছিল মি: সাঈদীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে।

এখন তাদের নতুন অভিযোগের ব্যাপারে রাষ্ট্রপক্ষ পাল্টা আবেদন জানিয়েছে। এটর্নী জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, “বিবাদী পক্ষ থেকে উপস্থাপিত পুরোনো একটি মামলার কাগজপত্রকে আমরা জাল বলে মনে করছি। সে কারণে এই ইব্রাহিম কুট্টি হত্যার ঘটনা নিয়ে স্বাধীনতার পরপরই দালাল আইনে বিশেষ আইনে কোন বিচার হয়ে থাকলে, তার নথি তলবের আবেদন আমরা জানিয়েছি।”

দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে ফাসির আদেশ হয়েছিল গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি । গত বছরেরই সেপ্টেম্বর মাসে এর বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শুরু হয়েছিল। দু’টি অভিযোগে ফাঁসি হলেও অন্য ছয়টি অভিযোগে সাজা না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেছিল। আর বিবাদী পক্ষে আপিল ছিল ট্রাইবুনালের পুরো রায়ের বিরুদ্ধে ।

এখন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে পাঁচজন বিচারপতির সমন্বয়ে আপিল বিভাগের বেঞ্চে দু’পক্ষের আপিল আবেদনে শুনানি শেষ হয়েছে। তবে দু’পক্ষের ভিন্ন দু’টি আবেদনের উপর আদালত বুধবার সিদ্ধান্ত দিতে চেয়েছে।এখন সেদিকেই দু’পক্ষের আইনজীবীদের দৃষ্টি।