নারায়ণগঞ্জের অকুস্থলে সরকারি তদন্ত কমিটি

তদন্ত কমিটির অকুস্থল পরিদর্শন ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption তদন্ত কমিটির অকুস্থল পরিদর্শন

বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জে কাউন্সিলর এবং আইনজীবীসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার কাজ শুরু করেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত এই তদন্ত কমিটি সন্ধ্যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে মৃতদেহ ভেসে ওঠার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এদিকে, র‍্যাবের যে তিনজন কর্মকর্তাকে অবসরে পাঠানো হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তদন্তের জন্য অপেক্ষার কথা বলেছেন।

তদন্ত কমিটি নারায়ণগঞ্জে মূলত দু’টি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এই কমিটির সদস্যরা প্রথমে গিয়েছিলেন শীতলক্ষ্যা নদীতে সাজনের মৃতদেহ ভেসে ওঠার সেই জায়গায়।

সেখানে তারা আশেপাশের চরের বাসিন্দাদের সাথেও কথাবার্তা বলেছেন। পরে তদন্ত কমিটির সদস্যরা পরিদর্শন করেন অপহরণের জায়গা। নারায়ণগঞ্জের লিংকরোডে সেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা ঢাকায় ফিরেছেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান শাজাহান আলী মোল্লা জানিয়েছেন, অপহরণের পর যে সাতজনকে হত্যা করা হয়েছিল, তাদের আত্নীয় স্বজনের সাথে তদন্ত কমিটি কথা বলবে শনিবার।

হাইকোর্টের নির্দেশে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এই তদন্ত কমিটি খতিয়ে দেখবে অপহরণের ঘটনার সাথে আইন শৃংখলা রক্ষাকারি বাহিনীর জড়িত থাকার অভিযোগ।

এছাড়া অপহৃতদের জীবিত উদ্ধারে কোন গাফিলতি ছিল কিনা, সেটাও তারা তদন্ত করবে। মামলার ভিত্তিতে পুলিশও ঘটনার তদন্ত করছে।

কিন্তু মামলায় অভিযুক্ত কাউন্সিলর নূর হোসেনসহ ছয় জনের কাউকেই পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি। যদিও পুলিশ এ পর্যন্ত ১৮জনকে আটকের কথা বলছে।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption নারায়ণগঞ্জের ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি করেছে ।

এই আটকরা আসলে মামলায় অভিযুক্তদের আত্নীয় স্বজন।অন্যদিকে, র‍্যাবের যে তিনজন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে অবসরে পাঠানো হয়েছে।

তাদের ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের বক্তব্য হচ্ছে, বিষয়টাতে তদন্তে প্রমাণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

তিনি বলছিলেন, “তদন্ত শুরু হলেই কি গ্রেফতার হয়ে যায় নাকি। তদন্তে প্রমাণ হবে, তারপর সে অনুযায়ী অ্যাকশনের বিষয় আসবে।”

কিন্তু একইসাথে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এটাও উল্লেখ করেছেন যে, অপহরণ এবং তারপর হত্যার এই অভিযোগ নিয়ে যাদের বিরুদ্ধেই কথা উঠেছে, তারা কেউ যাতে পালাতে না পারে, সেজন্য আকাশ, নৌ এবং সীমান্ত—সব পথেই সতর্ক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, অবসরে পাঠানো তিনজন কর্মকর্তা সশস্ত্র বাহিনী থেকে ডেপুটেশনে র‍্যাবে এসেছিলেন। ফলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে, সেটা কোন আইনে হতে পারে , তা নিয়েও অনেক আলোচনা চলছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন,এ ব্যাপারেও তারা এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেননি।

তিনি বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে কতটা কি, সেটা আগে তদন্তের বিষয় আছে। তদন্তে এসব বিষয় বেরিয়ে এলে তখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং বিচারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে আইনজীবীসহ বিভিন্ন ফোরামের কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য