প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির পরামর্শ শিক্ষাবিদদের

প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির পরামর্শ শিক্ষাবিদদের
Image caption প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর শাস্তির পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদেরা

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রেক্ষাপটে দেশের জেষ্ঠ্য শিক্ষাবিদরা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও কঠোর শাস্তির বিধান, পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার সহ শতাধিক প্রস্তাব সরকারের কাছে তুলে ধরেছেন।

আজ ঢাকায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এক মত বিনিময় সভায় তারা নানা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। জবাবে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িতদের শিগগিরই চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

একই সাথে পর্যায়ক্রমে তাদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের কথাও বলেছেন।

এইচএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশে সম্প্রতি ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বেশ কয়েকবার পরীক্ষাও পেছাতে হয়েছে। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি।

এমনই এক প্রেক্ষাপটে আজ দেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় জেষ্ঠ্য শিক্ষাবিদদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তাদের সাথে এক মত বিনিময়ে বসল। আলোচনায় উঠে আসে নানা প্রসঙ্গ।

বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইমেরিটাস আনিসুজ্জামান জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল আর অনুমোদন না দেয়া, উপযুক্ত প্রস্তুতি ছাড়া কলেজে অনার্স ও এমএ পড়তে দেয়া, শিক্ষায় পাশের হার সন্তোষজনক কিন্তু মান অতটা ভালনা এমন প্রশ্নও উঠেছে।

তবে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি ঘিরে বেশ কয়েকজন শিক্ষাবিদ নানা প্রস্তাব তুলে ধরেন।

গণস্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরি বিবিসি বাংলাকে জানান, প্রাসঙ্গিকভাবেই শিক্ষার মানের সাথে প্রশ্নপত্র ফাসেঁর বিষয়টি উঠে আসে ।

এ প্রসঙ্গে ড: জাফর ইকবাল বলেছেন যে কোন মূল্যে বিষয়টি বন্ধ করতে হবে। একই সাথে এ নিয়ে কোন আইন নেই, কঠিন শাস্তি বিধানের আইন করতে হবে।

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন প্রশ্ন ফাঁস করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

তবে শিক্ষামন্ত্রী বলছেন যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র তুলে দিচ্ছে তারা যে অর্থ লাভের জন্য এটা করছে না তাতে কোন সন্দেহ নেই। যারা প্রশ্ন ফাঁস করছে তাদের চিহ্নিত করে শিগগিরই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

মি. নাহিদ আরও জানান প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িতদের শাস্তির বিষয়ে যে বিদ্যমান আইন রয়েছে তা আরো সংশোধনের জন্য তারা ব্যবস্থা নেবেন।