হজ্বযাত্রীদের জন্য মার্স ভাইরাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা

হজ্বযাত্রীদের জন্য মার্স ভাইরাসের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলছে সৌদি সরকার ছবির কপিরাইট AFP
Image caption সৌদি আরবে এ পর্যন্ত একশোর বেশি মানুষ মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন

বাংলাদেশ থেকে এবার হজ্ব যাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে মার্স ভাইরাসের প্রতিরোধমূলক বা সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দেশটির সরকারকে চিঠি দিয়েছে সৌদিআরব।

বাংলাদেশ সরকার সৌদি আরবের এই চিঠি পাওয়ার কথা আজ জানিয়েছে।

সৌদি আরবে এ পর্যন্ত মার্স ভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে একশ’র বেশি মানুষ মারা গেছে।

যার মধ্যে দু’জন বাংলাদেশী রয়েছে বলেও সৌদি আরবের চিঠিতে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার হজ্ব যাত্রী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিরোধ বা সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছে।

বাংলাদেশ সরকারকে পাঠানো সৌদি আরবের চিঠিতে সেখানে মার্স ভাইরাসে আক্রান্তের পরিস্থিতিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে ।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে গত এক বছরে ওমরা হজ্ব করতে গিয়ে ৩৪৫ জন মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। আর এই আক্রান্তদের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশীসহ ১১১ জনের মুত্যু হয়েছে।

সৌদি আরবের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই চিঠি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়েছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরি মো: বাবুল হাসান বলেছেন, হজ্ব যাত্রীদের মার্স ভাইরাসের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ যেমন এসেছে। একইসাথে সৌদি আরব ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের এবার হজ্বে না পাঠানোর পরামর্শও দিয়েছে বলে সচিব জানিয়েছেন।

তিনি বলছিলেন, “বাংলাদেশের হজ্ব যাত্রীরা ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব ধরণের ফি জমা দিয়েছে। ফলে এ বছর ৬০ বছরের বেশি বয়স্কদের হজ্বে না পাঠানোর পরামর্শ বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে, স্বাস্থ্যগত বিষয়ে প্রতিরোধ বা সচেতনতামূলক সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে"।

সারা বছর ধরে বাংলাদেশ থেকে ওমরা হজ্ব করতে যাওয়া মানুষের সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। তবে প্রতিবছর সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগ মিলিয়ে এক লাখের মতো মানুষ হজ্ব করে থাকেন।

এবার আটানব্বই হাজার সাতশ পাঁচ জন হজ্ব করতে যাবেন। তাদের মধ্যে পনেরো’শ জন সরকারিভাবে। বাকিরা বেসরকারিভাবে যাচ্ছেন।

এবার ৪ঠা অক্টোবর হজ্ব হতে পারে, এমন ধারণা নিয়ে আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে হজ্ব যাত্রী পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব চৌধুরি বাবুল হাসান বলেছেন, সৌদি আরবের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মার্স ভাইরাসের ব্যাপারে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবুধাবি হয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে আসা একজন ব্যক্তি এই মার্স ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, হজ্ব যাত্রীদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে মিলে বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে।

তবে ঢাকার বনশ্রী এলাকার বাসিন্দা মো: আকতারুজ্জামান বেসরকারিভাবে হজ্বে যাচ্ছেন। তিনি এখনও মার্স ভাইরাস সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ব্যবস্থার কথা জানতে পারেননি।

তিনি বলছিলেন, "সৌদি আরবে মার্স ভাইরাসের ব্যাপারে আমি টেলিভিশনের খবর থেকে কিছু কিছু তথ্য পাচ্ছি। কিন্তু হজ্বে যাওয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আমি কিছুই জানতে পারিনি"।

সরকার হজ্ব ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ অবশ্য বলেছে, আগামী মাসে রোজার সময় হজ্ব যাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সাথে মার্স ভাইরাসের ব্যাপারে পদক্ষেপগুলো জানানো হবে।

আর পদক্ষেপগুলো নির্ধারণ করতে ২৩শে জুন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বৈঠক ডাকা হয়েছে।