ক্ষতিপূরণের দাবি করছেন তাজরিনের অনেক শ্রমিক

তাজরিন ছবির কপিরাইট bbc
Image caption তাজরিনের আহত-নিহতদের ক্ষতিপূরণ দাবি ঈদের আগেই - ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশে তাজরিন গার্মেন্টসে অগ্নিকান্ডে আহত ও নিহত বেশ কিছু শ্রমিকের পরিবারের সদস্যরা ক্ষতিপূরনের দাবি করেছেন।

এক সংবাদ সম্মেলন তাঁরা অভিযোগ করেন যে তাঁরা এখন পর্যন্ত কোন ক্ষতিপূরণই পাননি।

পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, তাজরিন গার্মেন্টসে পরিচয় পাওয়া যায়নি এমন আনুমানিক সাতজন নিহত শ্রমিক ছাড়া সবার ক্ষতিপূরণ দিয়ে দিয়েছে তারা।

তবে শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করে এমন সংগঠনগুলো বলছে, যে পরিমাণ অর্থকে মালিক পক্ষ ক্ষতিপূরণ বলছে, সেটা আইএলওর মানদণ্ড থেকে অন্তত দুইগুণ কম।

রাজধানী ঢাকার প্রেসক্লাবের মূল ফটকের সামনে উন্মুক্ত এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন তাজরিন গার্মেন্টসের আহত ও নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।

সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন এসব শ্রমিকদের পরিবারের লোক।

নিশ্চিন্তপুরের হেনা আক্তার তাজরিন গার্মেন্টেসর সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। অগ্নিকাণ্ডের পর পরিবারের লোক আর কোন খোজ পায়নি তার।

হেনার মা বলছিলেন ক্ষতিপূরণের অর্থের জন্য বিভিন্ন অফিস ঘুরেছেন তিনি কিন্তু তার মেয়ের সর্বশেষ কর্ম মাসের বেতন পর্যন্ত তিনি পাননি।

তিনি বলছিলেন, “আমরা কারো কাছ থেকে ১০ টাকাও পাইনি। আমার মেয়ে ঐ কারখানায় আগুন লাগার দিন পর্যন্ত কাজ করছে। আমার কাছে সব কাগজপত্র আছে।“

বিশ মাস আগে ঐ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের দিন চতুর্থ তলায় কাজ করছিলেন রেহানা। প্রাণে বাচতে চার তলা থেকেই লাফ দেন। মাথা, পা, ও মেরুদণ্ডে মারাত্মক আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।

রেহানা বলছিলেন, হাসপাতালে থাকার সময় সরকারি ভাবে কিছু ওষুধপত্র পেয়েছেন, তবে কোন অর্থসাহায্য বা ক্ষতিপূরণ পান নি তিনি।

রেহানা বলেন, “হাসপাতালে যখন ছিলাম তখন মাঝে মাঝে সরকারি ওষুধ পাইছি, আমার স্বামী সব চিকিৎসার খরচ দিয়েছে, শুনছি কেউ কেউ এক লাখ টাকার চেক পেয়েছে, আমি কোন টাকা পায়নি।”

তাজরিন ফ্যাশন্সে নিহতের সংখ্যা সরকারিভাবে ১১১ জন ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, পরিচয় পাওয়া যায়নি এমন পাঁচ থেকে সাতজন নিহত শ্রমিক ছাড়া বাকি সবার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। আহতের চিকিৎসা খরচ দিয়েছে তারা।

সংগঠনটির একজন সহ সভাপতি রিয়াজ বিন মাহমুদ বলছিলেন বাংলাদেশের শ্রম আইনে ক্ষতিপূরণ বলতে কিছু না থাকায় তারা মালিক পক্ষ, জীবন বিমান এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এসব শ্রমিক দের ইতিমধ্যেই যে সাত লক্ষ টাকা করে দিয়েছেন সেটাই তাদের ‘ক্ষতিপূরণ’।

মি. মাহমুদ বলছিলেন, “কমপেনসেশন বলে বাংলাদেশের লেবার-ল তে কিছু নেই। আমরা নিজেরা, বিভিন্ন জনের কাছ থেকে পাওয়া অর্থ, বীমার টাকা এসব নিয়ে সাত লাখের কিছু বেশি টাকা তাদের দেওয়া হয়েছে। এটাই ক্ষতিপূরণ। আমাদের পক্ষ থেকে আর কোন টাকা দেওয়া হবে না। নিহতদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, কর্মসংস্থান এসব বিষয় আমরা দেখবো, সেটাতো আমরা বার বার বলেছি।”

এদিকে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন বলছে অর্থ সাহায্য এবং ক্ষতিপূরণ- এই দুই নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের সরকারি নির্বাহী পরিচালক সুলতানুদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, একজন শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব মালিক পক্ষের ওপর বর্তায়। সে অনুযায়ী বিজিএমইএর যে পরিমাণকে অর্থ কে ক্ষতিপূরণ বলছে তার পরিমাণ একেবারেই কম।

মি. আহমেদ বলছেন, “তারা যদি বলে এটাই ক্ষতিপূরণ তাহলে সেটা বেআইনি। সাত লাখ টাকা যেটা দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে বিজিএমইএর এক লাখের মত টাকা আছে। যেটা কোনভাবেই ক্ষতিপূরণ হতে পারে না।”

সংস্থাটি বলছে, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা বা আইএলও নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণের মানদণ্ড রয়েছে। সে মোতাবেক বাংলাদেশে স্পেক্ট্রা কনভেনশন কাজ হয়েছে এবং রানা প্লাজার ক্ষতিপূরণের কাজ চলছে।

এই সংস্থাটি বলছে, আইএলও’র নিয়ম অনুযায়ী তাজরিন ফ্যাশন্সের একজন শ্রমিকের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কমপক্ষে ২১ লক্ষ টাকা পাওয়ার কথা।