রাজনীতিতে ২১শে আগস্টের গভীর ক্ষত

Image caption বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশের ওপর গ্রেনেড হামলা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট যে গ্রেনেড হামলা হয়েছিলো তার দশ বছর পূর্ণ হলো আজ ।

ওই হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪জন নিহত হলেও অল্পের জন্য বেঁচে যান তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।

দশ বছর পরেও সেই ঘটনার বিচার-প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি ।

এই মামলার বিচার কাজ এখন নিম্ন আদালতে চলছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

যার ফলে দুই প্রধান দলের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে ।

আওয়ামী লীগ নেতারা মনে করেন তাদের দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যার জন্যই সেই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল ।

এই ধারণার সাথে অনেকেই একমত পোষণ করেন ।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র মধ্যকার রাজনৈতিক সম্পর্ক এখন সবচেয়ে তিক্ত ।

তার একটি বড় কারণ হচ্ছে ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন মনে করেন, গ্রেনেড হামলার ঘটনা দুই দলকে আরও বেশি বিপরীত মেরুতে ঠেলে দিয়েছে ।

মি. লেনিন বলেন , “অবিশ্বাস এবং মতাদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও এটা এই মাত্রায় ছিল না যেখানে পরস্পরকে ১২০ ডিগ্রি উল্টো দিক থেকে দেখবে । ২১শে আগস্টের ঘটনার পর আওয়ামী লীগের মধ্যে এই আশঙ্কাই তৈরি হয় যে বিএনপির সাথে শান্তিপূর্ণভাবে চলা কঠিন ।”

গ্রেনেড হামলার সময় এবং তারপর তদন্ত নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রশ্ন উঠেছিল তৎকালীন বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে ।

জজ মিয়া নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে গ্রেনেড হামলার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল ।

২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ওই হামলার ঘটনায় পুনরায় তদন্ত হয় ।

সেখানে নিষিদ্ধ সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান এবং বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর নাম আসে ।

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে পুনরায় তদন্ত হয় ।

সেই তদন্তে তারেক রহমান, লুৎফুজ্জামান বাবরসহ বেশ কয়েকজন পদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের সাবেক তিনজন মহাপরিদর্শকের নাম আসে ।

এই তদন্তকে বিএনপি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক বলে বর্ণনা করে ।

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর রায় মনে করেন, দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক তিক্ত হবার জন্য গ্রেনেড হামলার ঘটনা কোন কারণ নয় ।

মি. রায় বলেন , “২১শে আগস্ট ঘটনার আগে যে দুই দলের মধ্যে ভালো সম্পর্ক ছিল সেটা আমরা দাবী করতে পারি না।”

তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করেন, গ্রেনেড হামলার সেই ঘটনা রাজনীতিতে অবিশ্বাস বাড়িয়েছে ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন , “বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সেই ঘটনার পরে বিএনপিকে আর বিশ্বাস করতে পারেনি ।”