হিমাচলে নিষিদ্ধ হলো পশুবলি, কোরবানি

  • শুভজ্যোতি ঘোষ
  • বিবিসি বাংলা, দিল্লি
মন্দিরে চলছে পশুবলি

ছবির উৎস, AFP

ছবির ক্যাপশান,

মন্দিরে চলছে পশুবলি

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় হিমাচল প্রদেশ রাজ্যের হাইকোর্ট কোনও ধর্মীয় কারণে পশুবলি দেওয়ার প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই বিষয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত বলেছে, ওই পার্বত্য রাজ্যে কোনও ধর্মীয় স্থানে বা ধর্মীয় উৎসবের সময় পশুবলি দেওয়া অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রশাসনকেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে হবে।

মূল মামলাটি যারা করেছিলেন, সেই আবেদনকারীরা বলছেন শুধু হিন্দুরা নন, মুসলিমসহ সব ধর্মের মানুষ এই রায়ের আওতায় পড়বেন।

হিমালয়ের কোলে পার্বত্য রাজ্য হিমাচল প্রদেশ। গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য মন্দির। এই সব মন্দিরে বছরভর নানা উৎসব-পার্বণে পশুবলি দেওয়ার রীতি খুবই পুরনো।

তবে এই প্রথার বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে অনেকেই সরব হচ্ছেন। পশুবলি নিষিদ্ধ করার দাবিতে ২০১০ সাল থেকে হিমাচল হাইকোর্টে অন্তত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলাগুলি একত্র করে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চে তার দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ রায় দিয়েছে, রাজ্যের যে কোনও ধর্মীয় স্থানে বা তার আশেপাশের এলাকায় পশুবলি সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

ছবির ক্যাপশান,

ভারতের বহু জায়গাতেই পশুবলির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হয়।

জনস্বার্থ মামলাটিতে মূল আবেদনকারী ও স্থপতি সোনালি পুরেওয়াল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, পশুবলির মতো নিষ্ঠুর ও বর্বর প্রথার অবসান ঘটানোই উচিত। যেমন ভারতে আরও বহু নিষ্ঠুর প্রথা আইন করে বন্ধ করতে হয়েছে।

''ঈশ্বরকে যদি সন্তুষ্ট করতেই হয় তাহলে ফুল বা মিষ্টি দিয়েও তা করা যায়, পশুর রক্তই নিবেদন করতে হবে এমন তো কোনও কথা নেই। হয়তো শত শত বছর আগে এই প্রথার প্রাসঙ্গিকতা ছিল ...আজ আমাদের আরও মানবিক হয়ে ওঠার সময় হয়েছে।''

হাইকোর্ট শুধু পশুবলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেই ক্ষান্ত হয়নি, ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি রাজীব শর্মা রাজ্যের সব ডেপুটি কমিশনার, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার ও সব থানার স্টেশন হাউস অফিসারদেরও নির্দেশ দিয়েছেন এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে কি না, সে দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে।

ব্যাপক হারে পশুবলির ফলে বিভিন্ন মন্দিরের পরিবেশ কীভাবে কলুষিত হয়ে উঠেছে, মৃত পশুদের মুন্ডু ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে – এই জাতীয় বিভিন্ন ছবি যখন আদালতে পেশ করা হয়, তখন তারাও বিচলিত বোধ করেছেন বলে বিচারপতিরা স্বীকার করেছেন। তবে এই রায়ের পর এক শ্রেণীর মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে যে আঘাত লাগতে পারে সে কথা আবেদনকারীরাও মানছেন।

সোনালি পুরেওয়াল বলেন, ''দেখুন যে কোনও নতুন আইনেই ধর্মীয় ভাবাবেগ আহত হতে পারে। কিন্তু তাতে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। আমরা শুধু বলছি যদি ধর্মীয় কারণেই এটা করা হয়ে থাকে, তাহলে যে কোনও ধর্মের যেটা মূল বিষয় – সেই শান্তি আর মানবিকতাকেই তো এখানে হত্যা করা হচ্ছে। এরকম বর্বরোচিত একটা কাজ করে আপনি আপনার ধর্মের কোনও উপকারে আসছেন না।''

তিনি আরও জানিয়েছেন, আদালতের এই রায় শুধু হিন্দুদের জন্য নয় – মুসলিমসহ যে কোনও ধর্মাবলম্বীদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।

হিমাচল প্রদেশে অবশ্য জনসংখ্যার মাত্র ১.৫% মুসলিম। তার পরও আগামী মাসে মুসলমানদের গুরুত্ত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব কোরবানির ঈদের সময় এই রায়ের কী প্রভাব পড়ে, সেটা দেখার বিষয় হবে।

হিমাচল প্রদেশের রাজ্য সরকার অবশ্য এখনও এই রায়ের ব্যাপারে তাদের কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।