কাশ্মীরে ভয়াবহ বন্যায় দেড়শোর বেশি নিহত

ছবির কপিরাইট v

ভারত-শাসিত কাশ্মীরে গত পঞ্চাশ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী বন্যায় ইতিমধ্যেই দেড়শোরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন, রাজ্যের দশটি জেলা জুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছেন।

জম্মুতে অবস্থার অল্প উন্নতি হলেও শ্রীনগর-সহ কাশ্মীর উপত্যকায় বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছে, সেনা ক্যান্টনমেন্ট-সহ শহরের বেশির ভাগ এলাকা জলের তলায় চলে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ আকাশপথে বন্যা-পরিস্থিতি সরেজমিনে ঘুরে দেখার পর একে জাতীয় বিপর্যয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।

গত চারদিন ধরেই কাশ্মীরে তুমুল বর্ষণ চলছে – আর রাজ্যের প্রধান নদীগুলোতে জল দুকূল ছাপিয়েছে। ঝিলম, চেনাব বা তাওয়ি নদীর জলোচ্ছ্বাসে জম্মু এলাকা আগেই প্লাবিত হয়েছিল, আর গত চব্বিশ ঘন্টায় ঝিলমের জল শ্রীনগর-সহ কাশ্মীর উপত্যকার বহু এলাকাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।

শহরের বেশির ভাগ এলাকাই এখন জলের তলায়, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন পরিষেবা স্তব্ধ – বহু মানুষ কোনওক্রমে নিরাপদ এলাকায় সরে যেতে পারলেও অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন তিনতলা বা চারতলার বারান্দায় কিংবা বাড়ির ছাদে। সাহায্যের জন্য আকুল চিৎকার করছেন তারা, সেনা কপ্টার কখন তাদের উদ্ধার করবে সেই আশায় চেয়ে আছেন আকাশের দিকে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বলছেন তাঁর নিজের জীবৎকালে কাশ্মীরে এত বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় কখনও দেখেননি।

তবে বন্যা-পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে গত তিনদিনে পুরো রাজ্যে কম করে দেড়শোজনেরও বেশি মারা গেছেন বলে প্রশাসন স্বীকার করছে। প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ রাজ্যের বহু এলাকাতেই রাস্তা নষ্ট হয়ে গিয়ে, সেতু ধসে পড়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে – বহু বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং সব দুর্গম এলাকা থেকে এখনও কন্ট্রোল রুমে খবরই পৌঁছয়নি।

সড়কপথে বাকি দেশের সঙ্গে যাকে রাজ্যের লাইফলাইন বলা যেতে পারে, সেই জম্মু-পাঠানকোট হাইওয়েতেও যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

উদ্ধারের কাজে সেনাবাহিনী তাদের মোট ২৩টি বিমানকে কাজে লাগাচ্ছে, বিমানবাহিনীর ২৬টি হেলিকপ্টারও বন্যার্তদের এয়ারলিফট করে আনছে। ত্রাণসামগ্রী বয়ে নিয়ে যাওয়া বিমানগুলি শ্রীনগরে আটকে পড়া পর্যটকদেরও সমতলে ফিরিয়ে আনছে। ওদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে স্পর্শকাতর ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত থেকেও শতাধিক বিএসএফ ও সেনা জওয়ানকে সরিয়ে এনে উদ্ধারের কাজে লাগানো হয়েছে।