বাংলাদেশে সিরিজ বোমা হামলার আসামী গ্রেফতার

ছবির কপিরাইট Focus Bangla
Image caption জেএমবির কাছে থেকে উদ্ধার করা কিছু বোমা, ফাইল ফটো

বাংলাদেশে ১৭ই অগাস্ট জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ন’বছর বছর পর ওই হামলার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে আজ একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রাজধানী ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে সোমবার ভোরে সগির হোসেন নামে এই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

র‍্যাব বলছে, ২০০৫ সালে সারা দেশে চালানো বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার পলাতক আসামী এই সগির হোসেন।

কর্মকর্তারা বলছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির যে ক’জন নেতা এখনও সক্রিয় আছেন, মি. হোসেন তাদের একজন এবং তিনি শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

বাংলাদেশের সবকটি জেলায় প্রায় একই সময়ে ওই সিরিজ হামলার মধ্য দিয়ে জেএমবি তার শক্তির পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করে।

পরে এই সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ও শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেছেন, বাংলাদেশে জঙ্গিদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। ‘এবং একারণেই সগির হোসেন র‍্যাবের হাতে ধরা পড়েছেন’ বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আল কায়দার ঘোষণায় বাংলাদেশের নাম আসার বিষয়ে তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মাঠে নেমেছে।

২০০৫ সালের ১৭ই অগাস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় প্রতিটি জেলায় আলাদা আলাদা মামলা করা হয়েছিল।

সারাদেশে নিষিদ্ধ জেএমবি’র নেতাদের বিরুদ্ধে ১৬১টি মামলার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০২টির রায় হয়েছে।

র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জিয়াউল আহসান বলেছেন, আল কায়দা নেতা আয়মান আল জাওয়াহিরির ঘোষণায় তাদের শাখা খোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নামও যে এসেছে, সে প্রেক্ষাপটে জঙ্গিদের উপর নজরদারি এবং জঙ্গি-বিরোধী তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে । আর জঙ্গি বিরোধী তৎপরতার শুরুতেই ধরা পড়েছে সিরিজ বোমা হামলার অন্যতম অভিযুক্ত সগির হোসেন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, “জঙ্গি তৎপরতার জন্য আরও কিছু জায়গা আমরা চিহ্নিত করতে পেরেছি। এই জঙ্গিরা কিন্তু বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে নানান ঘটনা ঘটায়। সেজন্য সন্দেহের তীরটা বাড়িয়ে আরও বেশি তৎপর হওয়ার জন্য র‍্যাবের প্রতিটি ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

জঙ্গি দমনে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর মধ্যে র‍্যাবই মূল তৎপরতা চালিয়ে আসছে।

আল কায়দার নতুন ঘোষণার পর দেশের স্পর্শকাতর কিছু সরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সতর্কতামূলক বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, "আল কায়দার ঘোষণায় বাংলাদেশের নাম কেন এলো, আমাদের দেশের কেউ সম্পৃক্ত আছে কিনা, এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “কারণ আমাদের দেশের কেউ জড়িত না থাকলে এরা হঠাৎ করে এসে তো কিছু করতে পারবে না। সেজন্য এসব বিষয় নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও মাঠে নেমেছে।”