ব্রিটিশ সংসদে উঠছে কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতি

ছবির কপিরাইট BBC World Service
Image caption গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পরিবার

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে আজ বৃহস্পতিবার ভারত-শাসিত কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে যে আলোচনা হতে যাচ্ছে – তাতে ভারত ক্ষুব্ধ।

সরকারিভাবে কোনও বিবৃতি জারি করা না হলেও, কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ব্রিটিশ সরকারের কাছে ভারত এটা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই পদক্ষেপকে তারা প্ররোচনামূলক বলেই মনে করছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য বলছে যে কাশ্মীরে হিংসার ঘটনা কমলেও অতীতের বহু ঘটনায় যেহেতু কারও বিচার বা শাস্তি হয়নি - তাই কাশ্মীরে তা নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ আছে এবং সেটা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনাও অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ব্র্র্যাডফোর্ডের লিবারেল ডেমোক্র্যাট এমপি ডেভিড ওয়ার্ডের আনা যে প্রস্তাবের ওপর ওয়েস্টমিনিস্টারে ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা আজ বিতর্কে অংশ নিচ্ছেন – তাতে সরাসরি বলা হয়েছে কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়েও কাশ্মীর সঙ্কটের ছায়া পড়ছে।

কিন্তু কাশ্মীরকে যেহেতু ভারত পুরোপুরি তাদের ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বিষয় বলে মনে করে থাকে – তাই ব্রিটিশ পার্লামেন্ট বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দিল্লি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং সেই ক্ষোভের কথা ব্রিটিশ সরকারকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিমত, কাশ্মীরের পরিস্থিতি এমনই যে তা নিয়ে এধরনের আলোচনা মোটেই অস্বাভাবিক নয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের দক্ষিণ এশিয়া শাখার ডিরেক্টর মীনাক্ষী গাঙ্গুলি যেমন বলছিলেন, ‘কাশ্মীরের ঘটনাবলীর প্রভাব পড়ে ভৌগলিক সীমানা ছাড়িয়েও – কাজেই তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বহুবারই আলোচনা হয়েছে।’

‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন বিল ক্লিন্টনও একবার কাশ্মীরকে ফ্ল্যাশপয়েন্ট বলে অভিহিত করেছিলেন। আর তা ছাড়া ভারতীয় পার্লামেন্ট যদি গাযা বা শ্রীলঙ্কা নিয়ে অলোচনা করতে পারে, তাহলে অন্য দেশের পার্লামেন্ট কেন কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা করতে পারবে না?’, প্রশ্ন মিস গাঙ্গুলির।

ভারত অবশ্য এ কথা কখনওই মানতে চায় না যে গাযা বা শ্রীলঙ্কার পরিস্থিতির সঙ্গে কাশ্মীরের কোনও তুলনা সম্ভব।

কাশ্মীরের ভেতরে কখনও ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারী যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেনি, সে কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

তারা বলছেন, ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এখন জীবনযাত্রা অনেক স্বাভাবিক, পর্যটকরাও বিপুল সংখ্যায় যাচ্ছেন।

তবে মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেছেন, সেখানে সহিংসতা কমলেও কাশ্মীরীদের মধ্যে ক্ষোভ আর অসন্তোষ কিন্তু কমেনি।

তার বক্তব্য, ২০১০ সালের পর থেকেই কাশ্মীরে সহিংসতা কমেছে – ভারতীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে মানুষের বিক্ষোভ বা প্রতিবাদের ঘটনাও অনেকটাই থেমেছে, কিন্তু সমস্যা রয়ে গেছে অন্য জায়গায়।

তার কথায়, ‘ভারতীয় সেনাবাহিনীর হাতে কাশ্মীরে এর আগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে সব ঘটনা ঘটেছে তার কোনটিরই কিন্তু বিচার হয়নি, কেউ সাজাও পায়নি। যে সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ক্ষমতা আইনের বলে সেনারা বিচার থেকে রেহাই পেয়ে আসছেন, সে কারণেই তা রদ করার দাবি জানাচ্ছেন কাশ্মীরীরা। সেনাদের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ কিন্তু রয়েই গেছে।’

হয়তো এ কারণেই ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন কাশ্মীরের বন্যার্তদের উদ্ধারের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তখন বেশ কয়েকটি জায়গায় তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছে, কোনও কোনও ক্ষেত্রে সেনা জওয়ানরা স্থানীয় কাশ্মীরীদের ক্ষোভের মুখে অভিযান গুটিয়ে ফিরে যেতেও বাধ্য হয়েছেন।

ভারতের অন্য কোনও রাজ্যে ত্রাণের সময় এই ধরনের ঘটনা অভাবনীয়।

সুতরাং মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আপাতদৃষ্টিতে কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখন অনেকটা শান্ত বলে মনে হলেও এটাকে স্বাভাবিক বলা যাবে না কিছুতেই – এবং সে কারণেই কাশ্মীর আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যাবে, কাশ্মীর নিয়ে আলোচনাও চট করে থামবে না।