মালালার ওপর হামলায় জড়িত ১০ জন গ্রেপ্তার

দু বছর আগে পাকিস্তানে নারী শিক্ষার পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে মালালার মাথায় গুলি করে জঙ্গিরা।
ছবির ক্যাপশান,

দু বছর আগে পাকিস্তানে নারী শিক্ষার পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে মালালার মাথায় গুলি করে জঙ্গিরা।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বলছে, স্কুল ছাত্রী মালালা ইউসুফযাই-এর ওপর গুলি চালানোর জন্য অভিযুক্ত একদল তালেবান জঙ্গিকে আজ শুক্রবার তারা গ্রেফতার করেছে।

দু বছর আগে পাকিস্তানের সোয়াত অঞ্চলে নারী শিক্ষার পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে মালালা ইউসুফযাইকে মাথায় গুলি করে জঙ্গিরা।

পাকিস্তানি তালেবান তখন এই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছিল।

মালালা ইউসুফযাই পরে এই আঘাত থেকে সেরে ওঠেন এবং তার সাহসিকতার জন্য ব্যাপক আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন।

মালালার ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতারের খবরটি পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আজ এক সংবাদ সম্মেলনে বেশ ফলাও করেই প্রচার করেছে।

সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র জেনারেল আসীম বাজওয়া বলেন, যে দশজনকে তারা গ্রেফতার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে মালালার ওপর হামলার অভিযোগ আছে। এরা পাকিস্তান তালেবানের বর্তমান নেতা মোল্লাহ ফজলুল্লাহর নির্দেশে কাজ করছিল বলে তিনি জানান। ''দশজনের এই দলটির নাম ছিল শুরা এবং তাদের সঙ্গে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের সম্পর্ক ছিল, তারা মোল্লা ফজলুল্লাহর জন্য কাজ করছিল,'' বলছেন জেনারেল আসীম বাজওয়া।

তিনি আরও জানান, এই গোষ্ঠিটি পাকিস্তানের সোয়াত অঞ্চলের মোট বাইশ জন্য খ্যাতিমান ব্যক্তির ওপরও হামলার চালানোর পরিকল্পনা করছিল। সেই তালিকা তাদের হাতে এসেছে।

ছবির ক্যাপশান,

মালালার ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

আটক দশজনকে এখন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন, এবং তাদের একটি সন্ত্রাসবাদ দমন আদালতে হাজির করা হবে।

পাকিস্তানে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে চলমান এক অভিযানের মধ্যেই এই দশজন ধরা পড়লো।

মালালা ইউসুফযাইয়ের ওপর যখন এই হামলা হয়, তখন তার বয়স ছিল মাত্র পনের বছর।

২০০৯ সালে তালেবান জঙ্গিদের দখলে থাকা সোয়াত অঞ্চলের জীবন নিয়ে বিবিসির উর্দু বিভাগের জন্য এক ডায়েরি লিখে মালালা প্রথম গণমাধ্যমের নজরে আসেন।

গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাকে শান্তির জন্য শাখারভ পুরস্কার দেয়। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্যও তিনি মনোনয়ন পেয়েছিলেন।