ভারতে কঠোর হচ্ছে ট্রাফিক আইন

  • শুভজ্যোতি ঘোষ
  • বিবিসি বাংলা, দিল্লি
ছবির ক্যাপশান,

উত্তরাখন্ডে অনেক রাস্তা এমনটাই বিপদজনক।

ভারতে যেখানে প্রতি চার মিনিটে পথ-দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়, সেই পটভূমিতে সরকার দেশের মোটর ট্রাফিক আইনকে ঢেলে সাজার প্রস্তাব এনেছে।

লালবাতি অমান্য করা, মোবাইল ফোন হাতে ড্রাইভিং বা মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য মোটা জরিমানা ও কড়া শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে খসড়া বিলটিতে।

তাছাড়া কোনও চালকের ঘটানো দুর্ঘটনায় কোনও শিশুর মৃত্যু হলে সাত বছরের জেল ও তিন লক্ষ টাকা জরিমানারও প্রস্তাব করা হয়েছে।

ভারতের ছোট-বড় শহরগুলোর পথঘাট যেমন, তেমনি সারা দেশ জুড়ে বিস্তৃত হাইওয়ে। সব জায়গাতেই সড়ক দুর্ঘটনার হার অত্যন্ত বেশি।

গত বছর, ২০১৩ সালে সারা দেশে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও কয়েক লক্ষ। আর এর পেছনে চালকদের অবহেলা, পথ নিরাপত্তা সম্বন্ধে অজ্ঞতাকে যেমন দায়ী করা হয়, তেমনি প্রশাসনিক দুর্নীতি ও যান্ত্রিক ত্রুটিরও ভূমিকা থাকে অনেক ক্ষেত্রেই।

দেশের বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দিনদশেকের মাথায় খোদ রাজধানীর বুকে এক পথ-দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ক্যাবিনেট মন্ত্রী গোপীনাথ মুন্ডে। তখন থেকেই দেশের ট্রাফিক আইনের খোলনলচে বদলানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার ।

ছবির ক্যাপশান,

দিল্লিতে ট্রাফিক জ্যাম

সড়ক পরিবহন মন্ত্রী নীতিন গড়কড়ির মতে, ভারতের ট্রাফিক আইন মান্ধাতার আমলের। আর সে কারণেই তিনি আমেরিকা, ক্যানাডা, জাপান, জার্মানি, সিঙ্গাপুর ও ব্রিটেনের ট্রাফিক আইন ঘেঁটে ও গবেষণা করে ভারতের জন্যও একটি আন্তর্জাতিক মানের আইন তৈরির প্রস্তাবনা করেছেন।

মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে যে খসড়া বিলটি তুলে দিয়েছে, তাতে মদ্যপ চালকদের জন্য ১৫০০০-৫০০০০ রুপি জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। লালবাতি অমান্য করলে বা মোবাইল হাতে ড্রাইভ করলেও মোটা জরিমানা বাঁধা থাকছে।

সেই সঙ্গে দুর্ঘটনায় কোনও শিশু মারা গেলে দোষীর কম করে সাত বছরের জেল। মোটরগাড়ি নির্মাতারাও দায় এড়াতে পারছেন না। তাদের নকশা বা যান্ত্রিক ত্রুটিতে দুর্ঘটনা হলে সেই সংস্থার কর্মকর্তাদেরও জেল-জরিমানা হবে।

ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন অব ট্রান্সপোর্ট রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের প্রধান এসপি সিং বিবিসি-কে বলছিলেন, এই উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানাচ্ছেন ।

মি সিংয়ের মতে, ''এই খসড়া আইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যানবাহনগুলো আরও অনেক নিরাপদ হবে। গাড়িতে কোনও ত্রুটি থাকলে মোটর নির্মাতারা তা রিকল করতে বা ফিরিয়ে নিতে বাধ্য থাকবেন, যেটা ভারতে আগে ছিল না। বিমা আর দুর্ঘটনার তদন্ত প্রক্রিয়াও উন্নত করা হচ্ছে।''

''তবে বাস্তবে কতটা কী হবে বলা মুশকিল, কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলে রাজ্য সরকারগুলো মোটর ট্রাফিক আইনকে চিরকাল একটা রাজস্ব আদায়ের উৎস হিসেবেই দেখে এসেছে। পথ সুরক্ষার দিকে কখনও নজর দেয়নি।''

পরিবহনমন্ত্রী নীতীন গডকড়ি অবশ্য কথা দিয়েছেন, পথ-সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি সরকারি কর্মীদের চেয়েও বেশি ভরসা রাখবেন স্বয়ংক্রিয় ক্যামেরার ওপর।

পথ-নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা অনেকেই বলছেন, ভারতের মতো দেশে এরকম কঠোর আইনের কোনও বিকল্প নেই। কারণ, শাস্তির পরিমাণ লঘু হলে পরিস্থিতি পাল্টানোর কোনও আশাই থাকবে না।

কিন্তু কঠোর আইনের পরও যেটা দরকার তা হল সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। আর সেখানেই সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।