শিশু-মৃত্যু রোধে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে একটা বড় কারণ সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশীপ।
Image caption বাংলাদেশের সাফল্যের পেছনে একটা বড় কারণ সরকারি-বেসরকারি পার্টনারশীপ।

পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার কমানো ও সন্তান জন্মদানের সময় মায়েদের মৃত্যুর হার ব্যাপক ভাবে কমিয়ে এনেছে বাংলাদেশ।

দা পার্টনারশিপ ফর ম্যাটারনাল এন্ড চাইল্ড হেলথ নামে এক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বিশ্বব্যাংক বা জন্‌স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠান এই প্রতিবেদন তৈরিতে পার্টনার হিসেবে ছিল।

প্রতিবেদনে বিশ্বের ১০টি অনুন্নত ও দরিদ্র দেশের তালিকা দেয়া হয়েছে যারা শিশু ও মায়েদের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে তাদের আর্থিক সামর্থ্যের তুলনায় অনেকদূর এগুতে সমর্থ হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।

এতে বলা হচ্ছে, গত ১২ বছরে বাংলাদেশে পাঁচ বছরের নিচে শিশু মৃত্যুর হার কমিয়েছে ৭২%। অন্যদিকে এই একই সময়ে বাংলাদেশে প্রতি একলক্ষ জন্মে মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, ৬৯%।

এই সাফল্যের জন্য সবচাইতে বড় কৃতিত্ব দেয়া হচ্ছে, সরকারের বিস্তৃত টিকা দান কর্মসূচি ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে। সেই সাথে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার সফল পার্টনারশিপ, যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নতি এবং মেয়েদের শিক্ষায় উন্নতির বিষয়টিও বলা হয়েছে।

ব্র্যাক এর ইন্সটিটিউট অফ গ্লোবাল হেলথ এর নির্বাহী পরিচালক ড. সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী বলছেন, বাংলাদেশ বেশ ভাল করেছে সার্ভিস ডেলিভারি অথবা অনেক দুর পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে দিতে।

তিনি বলেন, ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে টিকা দান কর্মসূচির আওতায় ছিল মোটে ২%-৩% শিশু। কিন্তু তা গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৮০%-এ।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন খাওয়ানো হচ্ছে।

''আর কিছু না কররেও শুধুমাত্র টিকা দিতে পারলে ৬টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাতক অসুখের হাত থেকে শিশুদের রক্ষা করে তাতে শিশু ৮০% নিরাপত্তা পায়।''

বাংলাদেশে শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান ঘাতক ডায়রিয়া। সেটি ঠেকাতে ১৩ কোটি ঘরে অন্তত একজনকে খাবার স্যালাইন বিষয়ক তথ্যে পৌঁছে দিতে পারাটাকে একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এর বাইরে ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, যোগাযোগ প্রযুক্তির ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন এবং সেই সাথে মেয়েদের শিক্ষায় উন্নতি।

ড. আফরোজ জানান, ১৯৬০-এর দশকে শুধুমাত্র জনসংখ্যা রোধে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিকে ব্যাবহার করা হতো। সেই পদ্ধতি বাদ দিয়ে সরকার এই কর্মসূচিকে এখন প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য দিতে ব্যবহার করছে। মায়েদের সেটি সচেতন করেছে।

বাংলাদেশে বাল্য বিবাহ খুব ভয়াবহ অবস্থায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ''পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির মাধ্যমে বিয়ের পর তাদের গর্ভধারণে নিরুৎসাহিত করা অথবা যদি গর্ভধারণ করেই ফেলে তবে তাদের পরবর্তী সন্তান নেবার আগে পর্যাপ্ত বিরতি দরকার। এই বিষয়গুলি প্রচার করতে পেরেছে পরিকল্পনা কর্মসূচি।''

''বাড়ি বাড়ি গিয়ে যারা স্বাস্থ্য বিষয়ে কাজ করছেন, পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের কাজের পর এখন নারীরা খোলাখুলি কথা বলতে পারছে যা সামাজিক বাধা ও সংস্কার দুর করতে পেরেছে।''

কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় সবচাইতে এগিয়ে রয়েছে খুলনা অঞ্চল। কিন্তু তারা জানান, এত সাফল্যের পরও পিছিয়ে রয়েছে সিলেট, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কিছু এলাকা।