ইসলামিক স্টেট-এর অবস্থানের ওপর মার্কিন বিমান হামলা

মসুলের কাছে ইসলামিক স্টেটের ঘাঁটি মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয় ছবির কপিরাইট Reuters
Image caption মসুলের কাছে ইসলামিক স্টেটের ঘাঁটি মার্কিন বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়

আমেরিকান সেনাবাহিনী ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের দমন করতে তাদের নেওয়া নতুন কৌশলের অংশ হিসাবে ইরাকে প্রথমবারের মতো বিমান হামলা চালিয়েছে।

আমেরিকান জঙ্গী বিমান ইরাকী নিরাপত্তা বাহিনীর সমর্থনে দেশের উত্তরে এবং বাগদাদের কাছে লক্ষ্যবস্তুর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাহিনীর সেন্ট্রাল কম্যান্ড বলছে, গত ক'দিনে ইরাকে ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের বিরুদ্ধে যে হামলা তারা চালিয়েছে, সেটা আগের হামলাগুলোর চেয়ে আলাদা।

তাদের আগের রণকৌশলের লক্ষ্য ছিল ইরাকে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং মানবিক ত্রাণ সাহায্য যোগানোর লক্ষ্যে।

কিন্তু এবার তারা ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ইরাকী বাহিনীকে সহায়তার লক্ষ্যেই এসব হামলা চালাচ্ছে।

বাগদাদের দক্ষিণ-পশ্চিমে মার্কিন বিমান হামলায় ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের একটি ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে বলে দাবি করছে তারা।

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর সিনাজারেও মার্কিন বিমান হামলায় জঙ্গীদের ছয়টি গাড়ী ধ্বংস হয়।

প্রেসিডেন্ট ওবামা গত বুধবার ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের মোকাবেলার জন্য যে নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেন, তার পরই সেখানে মার্কিন বিমান হামলা জোরদার করা হলো।

ছবির কপিরাইট AP
Image caption ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়ছে কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধারা

প্রেসিডেন্ট ওবামার চার দফা পরিকল্পনায় বিমান হামলার পাশাপাশি ইরাকের স্থল বাহিনীকে সামরিক সাজ-সরঞ্জাম এবং কারিগরি সহায়তা দেয়ার কথাও রয়েছে।

কিন্তু এই কৌশলে যদি ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের পরাস্ত করা না যায়, সেক্ষেত্রে ইরাকে আবারও আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের দরকার হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

আফগানিস্তানে ব্রিটিশ বাহিনীর এক সাবেক অধিনায়ক কর্ণেল রিচার্ড কেম্প বলেন, ইসলামিক স্টেটকে মোকাবেলায় যে আন্তর্জাতিক জোট তৈরি হয়েছে, তাদেরকে হয়তো শেষ পর্যন্ত ইরাকে এবং সিরিয়ায় স্থল বাহিনী পাঠাতে হবে। এবং সত্যিকারের সমস্যা শুরু হবে এখান থেকেই।

তিনি বলেন, স্থানীয় বাহিনী দিয়ে যদি জঙ্গীদের দমন করা না যায়, তখন এ ছাড়া উপায় থাকবে না।

এদিকে ইসলামিক স্টেট জঙ্গীদের মোকাবেলায় প্যারিস সম্মেলনে ইরানকে যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি, তাতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ইরাক।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইব্রাহীম আল জাফারি বলেছেন, প্রতিবেশি দেশ হিসেবে ইরান এই কাজে ইরাককে সাহায্য করছে, কাজেই তাদের আমন্ত্রণ জানানো উচিত ছিল।