সাঈদীর আপিলের রায় ঘোষণা বুধবার

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী
Image caption দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

বাংলাদেশে বিরোধীদল জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিল মামলার রায় বুধবার ঘোষণা করা হবে।

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এক ঘোষণায় বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মি. সাঈদীর মৃত্যুদন্ডের আদেশ দিয়ে সেই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল মামলার রায় দেওয়া হবে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী এক বিবৃতিতে মি. সাঈদীর মুক্তি চেয়ে বলেছেন তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

মি. সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেছিলো গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর নিয়মানুযায়ী আপিল করেছিলো বাদী ও বিবাদী পক্ষ।

চলতি বছরের ১৫ই এপ্রিল দু'পক্ষেরই আপিলের শুনানি শেষ হওয়ার পর ১৬ই এপ্রিল মি. সাঈদীর দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় অপেক্ষমাণ রাখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর পাঁচ মাস পর বিষয়টি আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় এলো।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption যুদ্ধাপরাধ আদালতে মি. সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে রাংপুরে বিক্ষোভের ওপর পুলিশী অ্যাকশন।

কিন্তু আপিলের শুনানি শেষ হয়ে যাওয়ার পরও প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে এতো দীর্ঘ সময় লাগলো কেন?

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ''এটা তো বিচারপতিদের বিষয়। আমি বলতে পারবো না। আমি আশা করেছিলাম যত তাড়াতাড়ি হোক সেটাই ভালো। আমার লিখিত বক্তব্য বই আকারে অনেক আগেই দিয়েছি।''

''আমি তো দেখেছি আগে আসামী পক্ষের যত জোশ ছিল, যত ভীড় ছিল সেটি এখন নেই।''

এর আগে ২০১০ সালের ২৯শে জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিলো জামায়াতে ইসলামির সাবেক সংসদ সদস্য মি. সাঈদীকে।

এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ২০১১ সালের ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এবং একই বছর অক্টোবরে তার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

এরপর গত বছরের ২৮শে ফেব্রুয়ারি মৃত্যু দণ্ডাদেশ দিয়ে রায় ঘোষণা করে ট্রাইব্যুনাল।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাঁর বিরুদ্ধে আনা ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। এর মধ্যে একাত্তরে দুটি হত্যাকাণ্ডের দায়ে আলাদা দুটি অভিযোগে তাঁকে সর্বোচ্চ সাজা দেয়া হয়।

ছবির কপিরাইট focus bangla
Image caption যুদ্ধাপরাধ আদালতের রায়ের বিরেুদ্ধে সারা দেশে বিক্ষোভ

ঐ সাজা থেকে অব্যাহতি চেয়ে আপিল করেছিলেন জামায়াতের এই নেতা। আর রাষ্ট্র পক্ষ বাকি ছয়টি অভিযোগে সাজা চেয়ে আপিল করে, যেগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হলেও ট্রাইব্যুনাল সাজা দেয়নি।

মি. সাঈদীর আইনজীবী তাজুল ইসলামের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আপিল আবেদনে এবং এর শুনানিতে তাদের মূল যুক্তি কী ছিল? বা কোন পয়েন্টগুলো তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে?

মি. ইসলাম বলেন, ''একশো'র ওপর গ্রাউন্ড আমরা নিয়েছিলাম। আমরা দেখিয়েছি প্রসিকিউশনের একজন সাক্ষী যে আমাদের পক্ষ সাক্ষ্য দিতে এসেছিলেন তাকে আদালত থেকে অপহরণ করা হয়েছে। স্কাইপ কেলেঙ্কারির মতো জঘন্য ঘটনা ঘটেছে। সেফ হাউজ কেলেঙ্কারি আমরা দেখিয়েছি। দেখানো হয়েছে কিভাবে সাক্ষীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। লুকিয়ে রেখে বলা হয়েছে সাক্ষী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা।''

এর আগে ট্রাইব্যুনালে মি. সাঈদীর মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পরপর সারা দেশে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী তখন সংঘাতে ৩৭ জন নিহত হয়েছে। যদিও জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছিল নিহতের সংখ্যা ৭৫ জনের মতো।

এবার সে বিষয়টিকে বিবেচনা নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ বা ডিএমপি। সংস্থাটির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, পরিস্থিতির আলোকেই প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামির ভারপ্রাপ্ত আমির মকবুল আহমাদ এক বিবৃতিতে মি. সাঈদী সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা শিকার মন্তব্য করে অবিলম্বে তার মুক্তি দাবি করেছেন।

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য