স্কটল্যান্ডের এডিনবারায় শেষ মূহুর্তের প্রচারণা

ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে এক গায়কের অঙ্গীকার

এডিনবারার পুরনো অংশে রয়াল মিল নামে যে সড়কটিতে রাত-দিন পর্যটকদের আনাগোনা, তার এক পাশে এক যুবক গিটার হাতে বসে একের পর এক গান গাইছিলেন। সবই স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে।

কেন তিনি আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেবেন তা নিয়ে বেশ কটি গান গাইলেন। ভিড় করে পর্যটকরা তা শুনছিলেন।

ঠিক সে সময় পাশ দিয়ে 'ইয়েস' লেখা পোস্টার দিয়ে ঢাকা বেশ কতগুলো গাড়ি বেরিয়ে গেল।

মঙ্গলবার দুপুরে এডিনবারা নামার পর রাস্তায় যত প্রচারণা চোখে পড়লো, সবই 'হ্যাঁ' এর পক্ষে।

এডিনবারা প্রধানত লেবার পার্টির আস্তানা, তারপরও বেটার টুগেদারের অর্থাৎ ব্রিটেনের সাথে থাকার পক্ষের লোকজন চোখে পড়েনি বললেই চলে।

মঙ্গলবার রাতে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা দেখতে অনেক খোঁজা লেগেছে। 'হ্যাঁ'-এর তুলনায় পোস্টারও কম।

অথচ মাত্র একটি জনমত জরিপ ছাড়া, এখন পর্যন্ত সমস্ত জনমত জরিপে ‘না’ এগিয়ে।

আজ (বুধবার) সকালে এখানকার শীর্ষ দৈনিক দ্য স্কটসম্যানে যে জনমত জরিপ বেরিয়েছে তাতেও দেখা যাচ্ছে 'হ্যাঁ'-র পক্ষে ৪৮ শতাংশ, 'না' ৫২ শতাংশ।

কিন্তু তারপরও কেন তারা অত সরব নন।

বেটার টুগেদার ক্যাম্পেইন অফিসে এই প্রশ্ন করলে, অস্বস্তি দেখিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption বেটার টুগেদার ক্যাম্পেইন অফিসে চলছে সেচ্ছাসেবীদের শেষ মূহুর্তের প্রচারণা

সেখান থেকে হোটেলে ফেরার পথে ট্যাক্সি ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করলাম 'না' পক্ষকে অত চোখে পড়ছে না। তার জবাব ছিল, ভয় পাচ্ছে। তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে কীনা –এ নিয়ে অনেকেই কুণ্ঠিত।

আমি যে হোটেলে আছি, তার রিসেপসনে বসা যুবকটির ব্যাখ্যা ছিল, ওরা জানে জিতে যাবে, এজন্য তেমন গা করছে না।

অবশ্য তার মত নিশ্চিত করে এখন কেউই বলতে পারছে না।

ছবির কপিরাইট bbc bangla
Image caption নির্বাচনের আগের দিনেও কোনো পর্যবেক্ষক ভবিষ্যদ্বাণীর ঝুঁকি নিচ্ছেন না

জুলাইয়ের শেষ দিকে যখন নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের খবারাখবর দিতে স্কটল্যান্ডে ছিলাম, তখনও বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছিল 'হ্যাঁ' পক্ষ ১২/১৩ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে।

কিন্তু গত কয় সপ্তাহে পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। অন্তত জনমত জরিপে। বোঝাই যাচ্ছে, যারা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না, তাদের সমর্থন স্বাধীনতার পক্ষেই হয়ত যাচ্ছে।

এখনও নাকি কম বেশি ১০ শতাংশ মানুষ মুখে বলছেন না কোন্‌ দিকে ভোট দেবেন।

বেটফেয়ার নামে শীর্ষ একটি বেটিং কোম্পানিও ধরেই নিয়েছে 'না' জিতবে। ফলে তারা সেখানে যারা টাকা খাটিয়েছিল, তাদের পয়সা দিতে শুরু করে দিয়েছে।

তবে নির্বাচনের আগের দিনে এসেও কোন পর্যবেক্ষকই কোনো ভবিষ্যদ্বাণীর ঝুঁকি নিচ্ছেন না।

জরিপ সংস্থা আইসিএমের প্রধান নির্বাহী আগেভাগেই বলে রেখেছেন এবারের জনমত জরিপ সম্পূর্ণ উল্টোপাল্টা হয়ে যেতে পারে।

আসলে যেভাবে মানুষ ভোটার লিস্টে নাম লিখিয়েছে, তা দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই। প্রায় এক লক্ষ দশ হাজারের মত ১৬-১৭ বয়সের কিশোর তরুণরা ভোটার লিস্টে নাম লিখিয়েছে। এমন সব মানুষ ভোট দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে, যারা কখনোই ভোট নিয়ে ভাবেননি।

ধারণা করা হচ্ছে, ভোটার উপস্থিতির হার ৮০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।