জেএমবি'র ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ ৭ জন গ্রেফতার

জেএমবি'র ভারপ্রাপ্ত প্রধানসহ ৭ জন গ্রেফতার ছবির কপিরাইট unk
Image caption বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠন জেএমবি

বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গী সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বা জেএমবি’র ভারপ্রাপ্ত আমিরসহ সাতজনকে গোয়েন্দা পুলিশ আটক করার পর তাদের দু’দিনের পুলিশী রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ বলেছে, আটক এই জেএমবি নেতারা তাদের সংগঠনের নিস্ক্রিয় কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নাশকতার পরিকল্পনা করেছিল।

তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের কথা উল্লেখ করে পুলিশ এটাও বলেছে যে, আটকরা মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর সাথেও যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করেছিল।

ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় তুরাগ নদীর তীরে নৌকা ভিড়ানোর একটি ছোট ঘাট থেকে গোয়েন্দা পুলিশ জেএমবি’র সাতজনকে একসাথে আটক করে গত মধ্য রাতের পর।

আটকদের মধ্যে আব্দুল্লাহ আল তাসনিম জেএমবি’র ভারপ্রাপ্ত আমির এবং বাকিরা সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

তাদের কাছ থেকে পুলিশ বিস্ফোরক তৈরির জন্য দশ কেজি পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ এবং জঙ্গী তৎপরতা সর্ম্পকিত কিছু বই ও প্রচারপত্র উদ্ধার করেছে।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আটকরা দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোন ব্যক্তির উপর হামলা চালানো বা নাশকতা করার পরিকল্পনা নিয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এমন তথ্য পেয়েছে।

মি: ইসলাম বলছিলেন, "তারা চেষ্টা করছিল যে হামলা যদি তারা করতে পারে তাহলে জেএমবি'র নেতাকর্মীরা পুনরায় চাঙ্গা হবে। জেএমবি পুনরায় শক্তিশালী হচ্ছে এটা যেমন একদিকে প্রমাণিত হবে, অন্যদিকে হামলা চালাতে পারলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসগোষ্ঠী যারা আছে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সম্ভব হবে, অস্ত্রসস্ত্র, সরঞ্জামাদিও তারা পাবে এই ধরনের প্রস্তুতি তারা নিচ্ছিল"।

আটক সাতজনকেই ঢাকায় হাকিমের আদালতে হাজির করে প্রত্যেককে দু’দিনের পুলিশী রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

বোমা হামলা এবং হত্যা মামলায় জেএমবির মূল আমির সায়খ আব্দুর রহমানের ফাঁসি কার্যকর করা হয় ২০০৭ সালে।

এরপর সাইদুর রহমান জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। সাইদুর রহমান জেলে রয়েছেন ২০০৯ সাল থেকে।

এখন আটক আব্দুল্লাহ আল তাসনিম বিস্ফোরক মামলায় সাজা খেটে এ বছরের জানুয়ারিতে মুক্তি পেয়ে ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে জেএমবিকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

তার বিরুদ্ধে বোমা হামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সারাদেশে ২০টির মতো মামলা রয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেছেন, আটক এই জেএমবি নেতারা মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস এর সাথে যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, প্রাথমিকভাবে এমন তথ্যও পুলিশ পেয়েছে।

"আইএস এর সাথে যে তারা যোগাযোগের চেষ্টা করছিল তার কিছ তথ্য প্রমাণ আমরা পেয়েছি। এর বেশি বলা যাবেনা। তবে তারা যোগাযোগ স্থাপনে অনেকটা অগ্রসর হতে পেরেছে"।

গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, জেএমবিকে সক্রিয় করার নতুন উদ্যোগে জড়িত আরও কিছু ব্যক্তি সম্পর্কে গোয়েন্দা পুলিশ তথ্য পেয়েছে। এখন তাদের ধরতে গোয়েন্দা পুলিশ অভিযান চালাবে।