দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

  • শুভজ্যোতি ঘোষ
  • বিবিসি বাংলা, দিল্লি
দিল্লিতে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
ছবির ক্যাপশান,

দিল্লিতে পানি সম্পদ মন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী আজ দিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি দু'জনের সঙ্গেই বৈঠক করেছেন।

এছাড়া ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দাভোল, জলসম্পদমন্ত্রী উমা ভারতী ও অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, সবার সঙ্গেই এদিন তাঁর আলোচনা হয়েছে ও বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

আগামীকাল ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যে তৃতীয় যৌথ পরামর্শমূলক কমিশন বা জেসিসি'র বৈঠক হবে, তাতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন মি: আলী।

প্রধানমন্ত্রী থেকে রাষ্ট্রপতি এবং তা ছাড়াও একের পর এক ক্যাবিনেট মন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে দিনভর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন যতগুলো বৈঠক করেছেন, তা প্রায় নজিরবিহীন।

এই সব বৈঠকে তিস্তা বা স্থল সীমান্ত চুক্তির মতো অসীমাংসিত বিষয় যেমন, তেমনি পরস্পরকে ভূখন্ডকে একে অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না দেওয়ার মতো নানা বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে বৈঠকগুলোর পরিণতি নিয়ে এ এইচ মাহমুদ আলী আনুষ্ঠানিকভাবে এদিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি, শুধু জানিয়েছেন বাংলাদেশ খুব খুশি।

তিনি বলেন, "পরিবেশটা ছিল অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, ঠিক বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যেমনটা হওয়া দরকার, তেমন। অমি ও আমার প্রতিনিধিদলও ঠিক এরকমটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। তাই আমরা খুবই আনন্দিত"।

ছবির ক্যাপশান,

ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী

আগামীকাল জেসিসি বা যৌথ পরামর্শমূলক কমিশনে যৌথভাবে নেতৃত্ব দেবেন ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা, সেই বৈঠকের পরই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সার্বিক পরিণতি নিয়ে মন্তব্য করা সম্ভব হবে বলে মি: আলী জানান।

তাঁর প্রতিনিধিদলে বাণিজ্য, নৌ-পরিবহনসহ বাংলাদেশের অন্তত সাত-আটটি মন্ত্রণালয়ের সচিবরাও এসেছেন, তারাও আলাদাভাবে ভারতে সেই সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। যা থেকে বোঝা যায় আলোচনার পরিধি এবারে কতটা ব্যাপক।

এমন কী বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বছর দেড়-দুই আগে জামায়াতে ইসলামীর কাছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিপুল অর্থ পাচার করা হয়েছিল বলে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে আজকের আলোচনায় সে বিষয়টিও উঠেছিল বলে দিল্লিতে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অবশ্য প্রকাশ্যে বলেছেন এ নিয়ে তাদের কিছু বলার নেই, কারণ তাঁর ভাষায় ‘এটা পুরোপুরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এটা ভারতের সমস্যা, কাজেই ভারতেকেই এটা দেখতে হবে।’

এদিকে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সঙ্গে মি আলীর বৈঠকের পর রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে আজ যে বিবৃতি জারি করা হয়, তাতে বলা হয়েছে রাষ্ট্রপতি মনে করেন দ্বিপাক্ষিক স্তরে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন করা দরকার। কোন সিদ্ধান্ত সরাসরি সেটা না-বললেও তিনি তিস্তা বা স্থল সীমান্ত চুক্তির কথাই বলতে চেয়েছেন বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

আগামী সপ্তাহে নিউ ইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও প্রধানমন্ত্রী হাসিনার মধ্যে শীর্ষ বৈঠকের রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মি মোদীর সম্ভাব্য ঢাকা সফর নিয়েও দুদেশের মধ্যে আজ কথাবার্তা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।