সুপ্রিম কোর্টের উচিত ছিল জনপ্রত্যাশা বিবেচনায় নেয়া : মেনন

Image caption প্যানেল সদস্য বাঁ থেকে: বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল , অনুষ্ঠান সঞ্চালক আকবর হোসেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান নুজহাত চৌধুরী এবং বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে জে মাহবুবুর রহমান।
আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে সরকারের একজন মন্ত্রী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় আপিলের রায় নিয়ে সরকার ও জামায়াতের মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

তবে বিএনপির একজন নেতা বলেছেন রায়ের পর মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে এবং এর যৌক্তিক কারণ রয়েছে।

তার দাবি অতীতেও আওয়ামী লীগ জামায়াতের সাথে আপোষ করেছে।

শনিবার ঢাকায় বিয়াম মিলনায়তনে পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি, গণভোটের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান এবং বিয়ের বয়স কমানোর চিন্তাভাবনার মতো ইস্যুগুলোও আলোচনায় উঠে আসে।

সংলাপের এবারের পর্বে আলোচক ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লে জে মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল এবং বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের সন্তান নুজহাত চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে প্রথম প্রশ্ন করেন লাতিফুন্নাহার।

তিনি জানতে চান সর্বোচ্চ আদালতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর যুদ্ধাপরাধ মামলায় আপিলের রায় হওয়ার পর সরকার ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে আঁতাতের প্রশ্ন তোলা কতটা যৌক্তিক ?

অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী বলেন মিস্টার সাঈদীর মামলার রায়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া মহাজোট সরকারের আমলেই প্রথমবারের মতো সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিলো।

তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্ট আগেও এ ধরনের কাজ করেছে। গোলাম আযমের নাগরিকত্ব মামলায় এটা দেখা গেছে। সুপ্রিম কোর্ট বা অন্য কোর্ট বাস্তবতার নিরিখে তারা তাদের মতো বিবেচনা করেন বিষয়গুলো। তবে সুপ্রিম কোর্টের উচিত ছিল জনগণের প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নেয়া। ”

তবে বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন এ ধরনের আপোষের উদাহরণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে রয়েছে যদিও মিস্টার সাঈদীর মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।

তিনি বলেন এর মধ্যে কোন ধরনের সমঝোতার বিষয় থাকলে সেটি হবে অত্যন্ত ঘৃণিত একটি ব্যাপার।

তিনি বলেন, “মানুষ এগুলো বলে কেন ? নিশ্চয়ই কারণ আছে। আওয়ামী লীগে আগেও আপোষ করেছে। কাদের মোল্লার সময়ও এ ধরনের পরিস্থিতি এসেছে। গণজাগরণ মঞ্চও নানা কথা বলছে। সব মিলিয়ে বলা যায় বিচার বিভাগ ততটা স্বাধীন থাকেনি।”

আলোচনায় অংশ নিয়ে আসিফ নজরুল বলেন আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতের আঁতাতের ঘটনা অতীতে অনেকবার ঘটেছে। আগে যেহেতু বারবার এটা হয়েছে তাই এবারও হতে পারে। তিনি বলেন আর সে কারণেই মিস্টার সাঈদীর মামলার রায় নিয়ে আঁতাতের সন্দেহ করাটা যৌক্তিক বলেই মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন আওয়ামী লীগের সাথে অনেকবার জামায়াতের আঁতাত ও সমঝোতার রাজনীতি হয়েছে। জামায়াতের সাথে বুদ্ধিমত্তার সাথে দূরত্ব বজায় রেখে সমঝোতা করেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ অত্যন্ত ক্ষমতা প্রেমি দল। ক্ষমতায় থাকার জন্য দলটি সব ধরনের কম্প্রোমাইজ করতে পারে।

অপর প্যানেল আলোচক নুজহাত চৌধুরী বলেন আঁতাতের আশংকার অনেক কারণ রয়েছে কিন্তু এ বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে শুরু থেকেই এ ধরনের চেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ইস্যুকে আওয়ামী লীগই জাতীয় ইস্যুতে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সর্বোচ্চ আদালত প্রভাবিত হয়ে রায় দিয়েছে সেটা বলবোনা। এখানে আঁতাতের কথা বললে আপনি সব কিছুকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবেন, পুরো যুদ্ধাপরাধের বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করবেন, যেটি সঠিক হবেনা।”

স্কটল্যান্ডের গণভোটের উদাহরণ

মাহফুজা খানম এ্যানি জানতে চান স্কটল্যান্ড গণভোটের মাধ্যমে যেভাবে স্বাধীনতার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বাংলাদেশের অনেক জটিল রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান কি ঠিক একই ভাবে করা সম্ভব ?

মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশের যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি এতো অসুস্থ যে বিরোধী মতবাদ কে নিশ্চিহ্ন করার মতো ঘটনাও ঘটছে। স্কটল্যান্ডে গণতান্ত্রিক চর্চার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় এটি সম্ভব নয়।”

আসিফ নজরুল বলেন স্কটল্যান্ড যেন স্বাধীন না হয় সেজন্য ব্রিটেনের দলগুলো এক সাথে কাজ করেছে এটি বাংলাদেশের জন্য শিক্ষণীয় আছে। জটিল রাজনৈতিক বিতর্ক যেমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার-এগুলোর সমাধানের জন্য গণভোট হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “বর্তমানে বাংলাদেশে যে নির্বাচন কমিশন রয়েছে এমন নতজানু কমিশন থাকলে গণভোট দিয়ে লাভ হবেনা। ”

রাশেদ খান মেনন বলেন গণভোট বাংলাদেশে নতুন নয়। সামরিক শাসকরা তাদের শাসনকে বৈধতা দিতে গণভোট দিয়েছিলেন। স্কটল্যান্ডে গণভোট হয়েছে সুনির্দিষ্ট ইস্যুতে। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে হয়েছে সেখানে গণভোট দিয়ে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করিনা।

নুজহাত চৌধুরী বলেন, “গণভোট করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুর সমাধানের চিন্তা এ মূহুর্তে বাস্তবসম্মত হবেনা। তবে স্কটল্যান্ড থেকে সহনশীলতা শেখার সুযোগ রয়েছে।”

মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতি প্রসঙ্গ

মামুন আব্দুল্লাহ জানতে চান সম্প্রতি বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার সনদ জালিয়াতির অভিযোগ ওঠার পর পাঁচজনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের মত একটি বিষয়কে ব্যবহার করে যারা সুবিধা নেয়, তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

জবাবে রাশেদ খান মেনন বলেন, “চাকুরী চ্যুতি সহ তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির উদাহরণ তৈরি করতে হবে। ”

তিনি বলেন, “আশা করি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে। তা না হলে এ ধরনের ব্যক্তিদের প্রয়াস মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ক্ষুণ্ণ করবে।”

নুজহাত চৌধুরী বলেন, “রং পাল্টানো মানুষ গুলো বেশি সুবিধা ভোগ করেছে। সচিব পর্যায়ে থাকার পরও যে কথা উঠেছে সেটা ভালো লেগেছে। তাদের চাকুরী বিধিমালার মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের দেয়া উচিত।”

একজন দর্শক বলেন, “আগেও যারা এ ধরনের কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া উচিত।”

আসিফ নজরুল বলেন, “এ ধরনের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধের সময়ও ছিল। অনেক বড় নেতার বিরুদ্ধেও যুদ্ধ না করার অভিযোগ আছে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে ব্যবসা হচ্ছে। এরা জালিয়াতি করেছে তাই এদের জেলে দেয়া উচিত। ”

বিএনপি নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, “এর চেয়ে কলঙ্কের আর কিছু হতে পারেনা। এধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া উচিত কারণ এটা দেশদ্রোহিতার শামিল।”

বিয়ের বয়স নিয়ে আলোচনা

মোছা: রিমা আক্তার জানতে চান বিয়ের বয়স কমিয়ে ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৮ এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৬ বছর করার যে চিন্তা ভাবনা সরকার করছে, তাকে স্বাগত জানানো উচিত বলে কি আপনারা মনে করেন ?

নুজহাত চৌধুরী বলেন, “১৬ বছর করলে অপরাধ হয়ে যাবে তা নয়, কিন্তু ১৮ বছর থাকলে কোন অসুবিধা দেখছিনা। ”

Image caption একজন দর্শক

তবে আসিফ নজরুল বলেন চিন্তা ভাবনাটি যৌক্তিক। গ্রামে কি আইন দেখে কি বিয়ে হচ্ছে?

মাহবুবুর রহমান বলেন, “বয়স বিষয় নয়, বিষয়টি হল তাদের অধিকার ও সন্মাণ নিশ্চিত করা। ”

রাশেদ খান মেনন বলেন, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে নারী সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে বিয়ের বয়স ১৬ তে কমিয়ে আনাই হবে যুক্তিসঙ্গত।”

বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে চলতি সপ্তাহে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আপনার কী মতামত?:

আমি মনে করি ১৬ থেকে ১৮ বয়সটাই বিয়ের জন্য সঠিক।

সি আহমেদ খান, আগরতলা, ভারত।

It was really interesting & exciting that I attended this Songlap & enjoy it. I expect to attend all of BBC Bangladesh songlap each time.

Md. Nawsharuzzaman, Dhaka, Bangladesh

Your contact details
Disclaimer

এই খবর নিয়ে আরো তথ্য