আপনার ডিভাইস মিডিয়া প্লেব্যাক সমর্থন করে না

বিজ্ঞানের আসর

ছবির কপিরাইট AP

বিমানের পাইলট এবং কেবিন ক্রু হিসেবে যারা কাজ করেন, তাদের মধ্যে কি ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বেশি? এরকম একটা সন্দেহ অনেক দিন থেকেই করা হচ্ছিল, কারণ পাইলট এবং কেবিন ক্রুরা যখন নিয়মিত নয় হাজার মিটার উচ্চতায় জাম্বো জেটে উড়ে যান, তখন তাদের নানা রকমের তেজস্ক্রিয়তার শিকার হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। পৃথিবীর বায়ুমন্ডলের অত উপরে মূলত দুই ধরণের তেজস্ক্রিয়তা দেখা যায়। একটা হচ্ছে কসমিক রেডিয়েশন, আরেকটি হচ্ছে আলট্রা ভায়োলেট রে, বা অতি বেগুনি রশ্মি।

যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্ণিয়ায় সম্প্রতি এ নিয়ে এক বড় গবেষণা হয়েছে। এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যারা, তাদের একজন ডক্টর সুজানা অর্টিয আরডা। তিনি বলছিলেন, এই গবেষণায় তারা কি জানতে পেরেছেন:

“আমরা দেখেছি, পাইলট এবং কেবিন ক্রুদের মেলানোমা বা ত্বকের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা গড়পড়তা মানুষের তুলনায় দ্বিগুন। এর মানে হচ্ছে পাইলট বা কেবিন ক্রুদের মেলানোমায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় দ্বিগুন।”

তিনি আরও বলছেন, পাইলট এবং কেবিন ক্রুরা যেহেতু অনেক বেশি সময় ধরে তেজস্ক্রিয়তার শিকার হচ্ছেন, সে কারণেই তাদের মধ্যে ত্বকের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে।

“আমরা জানি যে দুধরণের অতি বেগুনি রশ্মি, ইউভি-এ এবং ইউভি-বি, ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। ইউভি-বি সরাসরি ডিএনএ’র ক্ষতি করতে পারে। অন্যদিকে ইউভি-এ থেকেও ডিএনএর ক্ষতি হতে পারে। সেটা হয় আলোকসংশ্লেষণ বা ফোটোসিনথেসাইজেশনের মাধ্যমে।”

পাইলট এবং তার সহকারীরা যখন বিমানের ককপিটে গিয়ে বসেন, তখন তারা চোখের সুরক্ষার জন্য সান্গ্লাস পড়েন। ককপিটে বিশেষ ধরণের জানালাও থাকে, যাতে বাইরের তেজস্ক্রিয়তা যতটা সম্ভব রোধ করা যায়। তাহলে এতে কি খুব বেশি কাজ হয় না?

“ইউভি-বি রশ্মি অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। মাত্র এক শতাংশ রশ্মি হয়তো জানালা ভেদ করে ভেতরে ঢোকে। সমস্যা হয় ইউভি-এ নিয়ে। এটা পুরোপুরি বন্ধ করা যায় না। প্রায় ৪৮ শতাংশ ইউভি-এ রশ্মি জানালা ভেদ করে ককপিটে চলে আসে। তবে জানালায় যদি প্লাষ্টিক থাকে, সেটা অনেক বেশি প্রতিরোধী, কাঁচের জানালা মোটেই কাজ করে না।”

আবেগ বুঝবে কম্পিউটার

ছবির কপিরাইট Thinkstock
Image caption কম্পিউটারের কী বোর্ড বুঝতে পারবে মানুষের মেজাজ-মর্জি

কম্পিউটারের কী বোর্ডে টাইপ করে আমরা যখন কিছু লিখি, সেই লেখায় হয়তো আমাদের মনের ভাবের একটা ইঙ্গিত থাকে। কিন্তু যেভাবে আমরা টাইপ করছি, সেখান থেকেও কী আমাদের মনের অনুভূতি বোঝা সম্ভব?

কম্পিউটারের কী বোর্ড কি বুঝতে পারে আমাদের মনের ভাব? এ নিয়ে কয়েকজন তরুণ বাংলাদেশি গবেষকের কাজ সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে বিহ্যাভিয়ার এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজি জার্নালে। সেখানে তারা দাবি করছেন, কী বোর্ড দিয়ে মানুষের মনের আবেগ-অনুভূতির ধারণা পাওয়া খুবই সম্ভব।

গবেষক দলের একজন ছিলেন বাংলাদেশের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনীয়ারিং এর সহকারি অধ্যাপক হাসান মাহমুদ। । এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন কিভাবে ভবিষ্যতের কম্পিউটারের কী বোর্ড মানুষের আবেগ-অনুভূতি এবং মেজাজ-মর্জির কথা জানিয়ে দেবে কম্পিউটারকে, আর কম্পিউটারও সেই অনুযায়ী কাজ করবে তার ব্যবহারকারীর সঙ্গে।